Showing posts with label সম্ভাবনা. Show all posts
Showing posts with label সম্ভাবনা. Show all posts

June 7, 2009

Bangladesh PM makes river pledge

In pictures: Bangladesh flood misery

The Bangladeshi Prime Minister, Sheikh Hasina, has pledged to do her utmost to save the country's "severely degraded river systems".

She said that people must be prepared for climate change and engage in more "environmentally-friendly activities".

Bangladesh is criss-crossed by rivers and creeks which are vital for irrigation and transport purposes.

The prime minister also criticised the country's weather forecasters, ordering them to be more alert about cyclones.

Last month Cyclone Aila killed at least 200 people in Bangladesh and India and left 500,000 homeless.

'Imminent catastrophe'

In a speech to mark World Environment Day, the prime minister said it was necessary to protect the country's rivers "to save people from imminent catastrophe".

"All our rivers today have lost the free flows they had in the past due to heavy silt depositions," she said.

"But once the rivers are given back their original beds, frequent overflowing will cease, reducing the negative impact of global climate change in our region."

Sheikh Hasina said that Bangladesh's ample river systems had maintained the "environmental balance since time immemorial".

She said that rivers had been losing their water-retention capacity because of "heavy siltation and unbridled encroachment".

"We must save our rivers," she said, "even though it is going to be a huge, time consuming and challenging project. But we must do it.

"Whatever the costs be, we'll do the job."

She said that rivers could be preserved through dredging and other erosion-countering measures.

The prime minister also said that more must be done to improve the country's food security whenever there are natural disasters such as floods and cyclones.

She said that developing the capacity to store food for at least two to three years was an important first step.

BBC
Read more »

June 6, 2009

Bangladesh launches campaign to save rivers

Dhaka, June 2 (IANS) Bangladesh’s lawmakers, media and industry leaders have launched a campaign to ’save’ the rivers around the national capital by evicting encroachers and improving the environment.

Called “Save rivers, Save Dhaka” campaign, the programme was launched Monday by parliament Speaker Abdul Hamid with the participation of The Daily Star newspaper and ‘i’TV channel.

Agriculture Minister Motia Choudhury assured government support. He and Speaker Abdul Hamid resolved to come up with a law that would end encroachment.

The Daily Star has undertaken a mission to focus on the dying rivers Buriganga, Turag, Balu and Shitalakhya that encircle Dhaka, the 400-year-old capital.

The newspaper has been campaigning to end the encroachment. The banks have been encroached and even ’sold’.

Bangladesh is a riverine country with numerous river systems, the larger ones being Padma, Meghna and Brahmaputra.

Poor river management, silting, absence of dredging and the rising population have reduced the country’s riverbed from 5,000 km to 3,600 km, according to a recent report of the Bangladesh Inland Water Transport Authority (BIWTA).

The government is taking measures to carry out dredging of rivers since shipping activity at its river ports, among them Chittagong, Mangla and Khulna has been badly hit.

“We must save our rivers, which have been seriously polluted and partly grabbed. Influential people whoever they are cannot be any barrier to the justified demands of common people,” said Hamid.

Abdur Razzak, chairman of the standing committee on the Ministry of Water Resources, said it is not the absence of laws, but the negligence in their application that has almost killed the rivers surrounding the capital.

News Link
Campaign on Daily Star link
Read more »

June 6, 2008

উপকুলীয় বনাঞ্চল

ই ক লি ল ম ন্ড ল

পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়েছে। এ যাত্রায় নদীগুলো প্রতিবছর দুইশ চল্লিশ কোটি টন পলি বহন করে। সাগরে পড়ার সময় নদীগুলোর স্রোতের বেগ কম থাকায় ওই পলি সহজেই মোহনায় জমে সৃষ্টি করে নতুন নতুন চর। তবে সব চরই যে স্থায়ীভাবে ভুমির রূপ ধারণ করে তা কিন্তু নয়। কারণ এসব চরে ভুমি গঠন এবং ভুমিক্ষয়ের মতো ভাঙাগড়ার খেলা চলতে থাকে। ফলে একদিকে যেমন নিত্য-নতুন চর জেগে উঠছে, অন্যদিকে অনেক চর ভেঙেও যাচ্ছে। চরের এ ভাঙাগড়ার মধ্যেই গড়ে ১০ বর্গকিলোমিটার ভুমি জেগে উঠছে প্রতিবছর। প্রাথমিকভাবে চরের ভুমির স্থায়িত্ব তেমন থাকে না। ফলে এটির যত্নের প্রয়োজন আছে। তখনই এর দায়িত্ব দেওয়া হয় পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের কাছে। নদীর মোহনায় এসব মাটিকে সুসংহত করার জন্য বনায়ন ব্যতীত অন্য কোনো বিকল্প নেই। স্বাভাবিকভাবেই বন মন্ত্রণালয় সেদিকেই যায়। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় উপকুলীয় পরিবেশে কোন ধরনের গাছ লাগানো হবে? সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনায়ন থেকেই মূলত তারা ধারণাটি পায়। সেটাই প্রয়োগের মধ্য দিয়েই ’৬০ সালে বাংলাদেশে উপকুলীয় বনাঞ্চলের ধারণাটা শুরু হয়। শুরু হয় পটুয়াখালী ও নোয়াখালীতে এ উপকুলীয় বনাঞ্চল করা। ’৭০ সালের ঘুর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের পর থেকে সরকার উপকুলীয় বনায়নকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। সে সময় বন বিভাগ প্রাথমিকভাবে সরকারের অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের বাইরে বারোপিট বাঁধের জন্য মাটি তোলা হলে যে গভীর জায়গা হয়, সেখানে সীমিত আকারে উপকুলীয় বন করা শুরু করে। ’৭৪ সালে এ বনায়ন কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয় জোয়ারপ্লাবিত চরভুমিতে। বন বিভাগের সাফল্য বিবেচনা করে আশির দশকে এগিয়ে আসে বিশ্ব ব্যাংক। তাদের অর্থায়নে বন বিভাগ ম্যানগ্রোভ বনায়ন প্রকল্প, দ্বিতীয় বন প্রকল্প এবং বনজ সম্পদ ব্যবস্থাপনা নামে তিনটি প্রকল্প হাতে নেয়।

সুন্দরবনকে বাদ দিয়েই বাংলাদেশের উপকুলীয় বনাঞ্চলের মোট আয়তন দেড় লাখ হেক্টর। মূলত পটুয়াখালী, নোয়াখালী, ভোলা ও চট্টগ্রাম−এ চারটি বিভাগে ভাগ করে উপকুলীয় বনাঞ্চলের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এসবের অধীনে বরগুনা, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, সীতাকুন্ড, কক্সবাজার, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলাও রয়েছে। লবণাক্ততা, জোয়ার-ভাটার প্রকোপ এবং মাটির গুণাগুণ বিবেচনা করে বনায়নের জন্য ম্যানগ্রোভ প্রজাতি নির্বাচন করা হয়ে থাকে। উপকুলীয় বনাঞ্চলের প্রধান প্রজাতি হচ্ছে কেওড়া। এটি উপকুলীয় বনাঞ্চলের ৯৭ শতাংশ জায়গাজুড়ে রয়েছে। তা ছাড়া অন্যান্য প্রজাতির মধ্যে রয়েছে বাইন, কাকড়া, গোলপাতা ও গেওয়া। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য সরকার নোয়াখালী উপকুলীয় বন বিভাগের নিঝুম দ্বীপ এবং ভোলা উপকুলীয় বন বিভাগের চরকুকরী-মুকরীকে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে। এসব জায়গায় বিভিন্ন উদ্ভিদের পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির দেশি-বিদেশি পাখি এবং অসংখ্য হরিণ। কাঠ, জ্বালানি কাঠ, ঘরের ছাউনি সরবরাহ করা ছাড়াও উপকুলীয় বন মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবেও কাজ করে থাকে।

উপকুলীয় বনাঞ্চল নানাভাবে মানুষের উপকারে এলেও এর সংরক্ষণে কিছুটা উদাসীনতা দেখা যায়। উপকুলীয় বনাঞ্চল তথা চরের মালিকানা প্রথম ২০ বছর বন বিভাগের হাতে থাকার পর নিয়মানুযায়ী হস্তান্তর করতে হয় ভুমি মন্ত্রণালয়ের কাছে। ভুমি মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি লিজ নিয়ে চিংড়ি চাষ ও অন্যভাবে উপকুলীয় বনাঞ্চলকে ধ্বংস করে ফেলে। এভাবে তো চরবাটার প্রায় ২০ হাজার একর জমি ভুমিদস্যুদের দখলে চলে গেছে। উপকুলীয় জমি এক ফসলী হওয়ায় অনেকে চিংড়ি চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এতে তাদের স্বল্পমেয়াদি লাভ হলেও ভুমির কিন্তু ক্ষতি হয়ে যায় দীর্ঘমেয়াদি। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় এ ধরনের চিংড়ির চাষ করা হয়েছিল। পরে এসব বন্ধ করে দিয়ে দেশগুলো চিংড়ির ঘেরগুলোয় আবার বনায়ন করেছে। আমাদের তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন আছে বইকি। এ জন্য প্রয়োজনে ভুমি মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের একসঙ্গে বসে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া।
------------
প্রথম আলো। ৬ জুন ২০০৮
Read more »

লাউয়াছড়া

রো না ল্ড হা ল দা র

এ রকম অল্প জায়গায় এত প্রাণবৈচিত্র্য ভরা বন বাংলাদেশের আর কোথাও চোখে পড়ে না। আধা চিরসবুজ এ বনের কিছু অংশ মানবসৃষ্ট হলেও প্রাকৃতিক বনের অনেক কিছুই এখনো রয়ে গেছে। বর্তমানে এ বনের আয়তন এক হাজার ২৫০ হেক্টর। ১০০ বছর আগে এ বনের পরিধি ছিল আরও অনেক বেশি। লাউয়াছড়ার পাশেই একটি ছোট্ট বন আছে, সাতছড়ি। এটিও আগে লাউয়াছড়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল। পুরো এলাকাতেই ছিল এ রকম বন। বন কেটে চা বাগান করার ফলে পরিধি অনেক কমে যায়। তারই খন্ডবিশেষ হচ্ছে এই লাউয়াছড়া।
প্রাণবৈচিত্র্যের দিক থেকে লাউয়াছড়ার গুরুত্ব অনেক। পাখিই আছে প্রায় ২৪৬ রকমের। এদের মধ্যে কিছু আছে পরিযায়ী পাখি যেগুলো গ্রীষ্ক্নে এখানে আসে, বাসা বাঁধে, ডিম পাড়ে, বাচ্চা ফোটায়। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হুডেড পিটা। আরও আছে ধনেশ, ব্লু পিটা, ব্ল্যাক বাজা, ব্লাইকস বাজা, পেঁচা, মথুরা প্রভৃতি। প্রাকৃতিক বন না হলে এরা থাকবে না।
লাউয়াছড়ায় প্রায় ১৬ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী দেখা যায়। উল্লেখযোগ্য উল্লুক, ভালুক, চশমা পরা হনুমান, পিকটেইল বানর, রেসাস বানর। আরও আছে মায়াহরিণ, সজারু, শুকর, বনবিড়াল। এখানে কাঁকড়া খেয়ে জীবন ধারণ করে এ রকম বিলুপ্তপ্রায় বেজি দেখা যায়। অন্য কোথাও এর দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। লাউয়াছড়ায় তিন ধরনের কাঠবিড়ালি চোখে পড়ে, যা অন্য বনে সচরাচর দেখা যায় না। কালো টুপি হনুমানও এ বনের এক উল্লেখযোগ্য প্রাণী। চশমা পরা হনুমান, কালো টুপি বানর ও উল্লুক−তিনটি প্রাণীই প্রায় বিলুপ্তির পথে।
লাউয়াছড়া ধ্বংস হয়ে গেলে এ ধরনের জীববৈচিত্র্য বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাবে। এ জন্য এ বনটা রক্ষা করা জরুরি। আর প্রাণবৈচিত্র্য আমাদের গচ্ছিত সম্পদ। কোনটা কখন মূল্যবান হয়ে দাঁড়াবে, বলা যায় না। বনমোরগ থেকেই কিন্তু পোলট্রি শিল্পের শুরু। বাজারে যেসব অর্কিড পাওয়া যায়, এদের আদি উৎস লাউয়াছড়ার মতো বন। এখানে অনেক ধরনের অর্কিড পাওয়া যায়। এ বনের বহু ধরনের লতাগুল্ম আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। এখানে এমন অনেক ওষুধি বৃক্ষ আছে, যেগুলোর ওষুধি মূল্য আমরা জানিও না।
সরকার লাউয়াছড়া বনকে সংরক্ষিত ঘোষণা করেছে। একে নিসর্গ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। স্থানীয় গাইডদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, হাঁটার জন্য ট্রেইল করা হয়েছে, আশপাশের মানুষকে বনের সংরক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। সবই ভালো উদ্যোগ। কিন্তু মানুষ নিয়ন্ত্রণে এ প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে। অনেক মানুষ একসঙ্গে ঢুকে বনটিকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। দর্শনার্থীরা যেদিকে ইচ্ছা সেদিকে ঢুকে পড়ছে; খাবারের প্যাকেট, পানির বোতল ও উচ্ছিষ্ট ফেলছে। এসব নিয়ন্ত্রণে কোনো ব্যবস্থা নেই। বন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে যাঁরা আছেন, পর্যটনব্যবস্থাপনায় তাঁদের আরও উদ্যোগী হতে হবে। এত ছোট বনে এত বেশি মানুষ ঢোকার কোনো সুযোগ নেই। প্রবেশমূল্য ধরা হলে হয়তো দর্শনার্থীদের সংখ্যা কমে যাবে। বনের ভেতর পিকনিক নিষিদ্ধ করতে হবে। বাইরে পিকনিক করার জায়গা অনেক আছে। আর দর্শনার্থীরা কোথায় ঢুকতে পারবে, কোথায় পারবে না−এটিও নির্ধারণ করে দিতে হবে।
শেষ পর্যন্ত লাউয়াছড়াকে বাঁচানোর দায়িত্ব কিন্তু বন বিভাগেরই। কিন্তু এখন পর্যন্ত বনের গাছ চুরি রোধ করতে পারেনি তারা। এ জন্য আরও নজরদারি বাড়াতে হবে। বনের চারপাশের অবস্থাও খুব খারাপ। অনেক জায়গায় গাছ কেটে সাফ করে ফেলেছে মানুষ। এসব জায়গায় বন্যপ্রাণীদের উপযোগী দেশি প্রজাতির গাছের চারা লাগাতে হবে। এসব বিষয়ে এখনই সচেতন হলে ১৫-২০ বছরের মাথায় লাউয়াছড়া একটি বড় প্রাকৃতিক সম্পদ হয়ে দাঁড়াবে।
----------
প্রথম আলো। ৬ জুন ২০০৮
Read more »

মধুপুর শালবন

সৈ য় দা রে জো য়া না হা সা ন

শালগাছ বেশি। তা থেকেই নাম হয়েছিল শালবন। এ বন থেকেই জীবিকা নির্বাহ করত গারোসহ অন্যান্য স্থানীয় আদিবাসী। প্রতিদিনের আহার থেকে শুরু করে রোগ নির্মূলের ওষুধ পর্যন্ত সবই তাদের জোগান দিত এ বন। নিজেদের প্রয়োজনেই তাই বন রক্ষা করে চলত তারা। ফলে যুগের পর যুগ নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নিয়েই টিকে ছিল এ বন। প্রাণীদের বঞ্চনা করত না মধুপুর। এ সবই এখন ইতিহাস।
নামে শালবন থাকলেও শালগাছ বিলুপ্তপ্রায়। তার জায়গা দখল করেছে নানা জাতের বিদেশি বৃক্ষ। স্থানীয় আদিবাসীরাও বনের ওপর থেকে অধিকার হারিয়েছে। বনে প্রবেশের অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে দেওয়া হয়েছে শত শত মামলা। বনের ওপর অধিকার চেয়ে আন্দোলনরত আদিবাসীরা নানা সময় পত্রপত্রিকার শিরোনাম হয়েছে। কিন্তু কোনো ফল আসেনি। স্থানীয় অধিবাসীদের বন থেকে যত দুরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, তত বেড়েছে ধ্বংস। প্রতিবছর বাড়ছে বেহাত হওয়া জমির পরিমাণ। সব মিলিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যে মধুপুর বন এখন বিপর্যস্ত।
২০ হাজার একরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানসহ কাগজেকলমে মধুপুর বনের আয়তন এখনো ৪৫ হাজার একর। তবে বর্তমানে সরকারের দখলে আছে মোটে সাত-আট হাজার একর। তার মধ্যে আড়াই হাজার একর সংরক্ষিত বন। কিন্তু সরকারের কাগজেকলমে তৈরি করা নিয়ম কেউ মানছে না। বনের মধ্যে শহর গড়ে উঠেছে। তৈরি করা হয়েছে হাজার হাজার শিল্প প্রতিষ্ঠান। অবাধে তৈরি করা নানা স্থাপনার ভিড়ে শালবনকে এখন বন হিসেবে চিহ্নিত করাই মুশকিল। হঠাৎ দেখে শহর ও শিল্প এলাকার মধ্যে সামান্য বনভুমি ভাবলে খুব একটা ভুল হবে না।
একসময় জীববৈচিত্র্যের আধার ছিল এ বন। ছিল নানা জাতের ওষুধি গাছ। ঢাকা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল প্রভৃতি বড় শহরের কাছে হওয়ায় পুরো এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়ও রাখত ভুমিকা। আর এখন তো বলা হচ্ছে, বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও কার্বনের বিষ কমানোর ক্ষেত্রে শালবন বিশেষ ভুমিকা রাখতে পারে। তাই শালবন ধ্বংস হলে তা শুধু বনের ক্ষতি না, সামগ্রিকভাবে পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট হবে।
এ ধরনের অবস্থা ভারত ও নেপালেও হয়েছিল। সে দেশগুলোর সরকার বনব্যবস্থাপনার নতুন নিয়ম করে ধ্বংস হওয়া বন আবার ফিরে পেয়েছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশের বনব্যবস্থাপনায় যে নিয়ম চলছে তার উল্টো পদ্ধতিতে। বনের ওপর স্থানীয় মানুষের অধিকার নিশ্চিত করে আইন তৈরি করেছে ভারত। বনজীবীদের ওপর যে অবিচার করা হয়েছে তা রোধ করতেই এ আইন। স্থানীয় জনগণ বনের জমিতে চাষাবাদ, কাঠ ও অন্যান্য সম্পদ সংগ্রহের অনুমোদন পেয়েছে। সবাই বলেছিল এতে চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে বন। হয়েছে উল্টো। স্থানীয় জনগণ ধ্বংস হওয়া বনের ৯০ ভাগ আবার ফেরত এনেছে। বনের সম্পদ টিকিয়ে রেখেই সম্পদ আহরণ করছে তারা।
আমাদের শালবনসহ অন্যান্য বনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থাপনা হতে পারে। বনব্যবস্থাপনার নীতি ও পরিকল্পনা তৈরি করবে স্থানীয় জনগণ। বন রক্ষার জন্য প্রহরী দরকার নেই। স্থানীয় মানুষই তাদের সম্পদ পাহারা দেবে। তবে এ জন্য বনের ওপর স্থানীয় মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সরকার শুধু পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে। ছয় মাস বা এক বছর পরপর বনের পরিস্িথতি পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন তৈরি করবে। সরকার এখানে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।
এভাবে আমাদের হারিয়ে যাওয়া শালবনের ৩০ থেকে ৩৫ হাজার একর আবারও ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এ জন্য সরকারকে শুধু উদ্যোগী হতে হবে। আমাদের দেশের যে বন আইন আছে, তার মধ্যেই স্থানীয় জনগণকে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। বনের একেকটি এলাকা ধরে বনগ্রাম করা যেতে পারে। বনের ওপর বন বিভাগের একচ্ছত্র আধিপত্য কমাতে হবে। অস্ত্রসহ নিরাপত্তা প্রহরীর ধারণা বাদ দিয়ে সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তবেই আবার নতুন জীবন পাবে মধুপুর শালবন।
-----------
প্রথম আলো। ৬ জুন ২০০৮
Read more »

দিনাজপুর ও নওগাঁর শালবন

ফ রি দ উ দ্দি ন আ হ মে দ

দিনাজপুরের শালবন
বীরগঞ্জের সিংড়া আর পীরগঞ্জের ঠুংনিয়াজুড়ে বিস্তৃত ছিল বিরাট এক বন। শালের সঙ্গে সেখানে ছিল হরীতকী, বহেরা, আমলকী, কড়ই, জারুল, হলদু, ধারমারা, বট, শিমুল ইত্যাদি গাছ। এসব বন চষে বেড়াত মেছোবাঘ, বাগডাশা, খরগোশসহ নানা বন্যপ্রাণী আর পাখি। বড় বড় গাছের নিচে ছিল নানা রকমের উদ্ভিদ যা মানুষের খাদ্য থেকে শুরু করে প্রাথমিক চিকিৎসায় পর্যন্ত ব্যবহূত হতো।
বর্তমানে ৪০০ হেক্টরে এসে ঠেকেছে সেই বন। বনে শাল ছাড়া অন্য গাছও নেই। বছরে একটা-দুটো খরগোশ ছাড়া আর কোনো প্রাণীও দেখা যায় না। বনের চারপাশে কিছু সাঁওতাল ও অন্যান্য আদিবাসীর বাস। খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য চাহিদার জন্য বনের ওপর নির্ভরশীল তাঁরা।
আশির দশকে সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে দিনাজপুরের ‘নেই’ হতে বসা এ বনই আবার নতুন করে তৈরির উদ্যোগ নেয় বন বিভাগ। প্রথম দিকে বনভুমি দখলকারীদের মধ্যে কিছুটা অবিশ্বাস ও অনিশ্চয়তা ছিল। গাছ কাটার পর অংশীদারেরা যখন মোটা অঙ্কের হিস্যা পেল তখন সেই শঙ্কাও কেটে গেল। সরকারের দিক থেকেও এ বনায়ন ছিল লাভজনক। আগে বনায়ন করে গাছ রক্ষা করতে পারত না সরকার। কিন্তু এখন জনগণকে দিয়ে গাছ লাগিয়ে তাদের দিয়েই রক্ষণাবেক্ষণ করে সরকারও লাভবান হলো, জনগণেরও কিছু আয় হলো। ক্রমে গাছপালাবিহীন এ অঞ্চল আবার গাছপালায় ভরে উঠল। বিদেশি গাছ লাগানোর জন্য বন বিভাগ সমালোচিতও হলো অবশ্য। তবে এ কথাও ঠিক, সামাজিক বনায়ন না থাকলে বর্তমানে শালবন যেটুকু অবশিষ্ট আছে তাও রাখা সম্ভব হতো না।
মানুষকে বন থেকে কাঠ সংগ্রহে নিরুৎসাহিত করতে বন বিভাগ সিংড়াসহ প্রায় সব শালবনে শালগাছের নিচে কাঁটাওয়ালা বেতের চারা লাগিয়েছে। এখন কোনো কোনো শালবনে এসব বেত এত বেশি ছড়িয়ে গেছে যে, শালের চারাই জন্নাতে পারছে না। ভবিষ্যতে শালবনে বেত লাগানোর আগে যেসব বনে বেত লাগানো হয়েছে সে বনে গাছের চারা গজানোর ক্ষমতা বিঘ্নিত হচ্ছে কি না তা যাচাই করা জরুরি।

নওগাঁর শালবন
নওগাঁ জেলার ধামইরহাটেও ছড়িয়েছিটিয়ে প্রায় ৫০০ হেক্টর এলাকাজুড়ে রয়েছে একটি শালবন। এ বনের অবস্থাও সিংড়ার বনের মতো। শাল ছাড়া অন্য গাছের দেখা মেলা ভার। বন্যপ্রাণীও নেই বললেই চলে। গাছগুলোর বয়স ১০-১৫ বছরের বেশি হবে না। বোঝা যায়, এখানে শালবন ধ্বংস করার হার কমে এসেছে।
এসব বনের ভেতরে প্রচুর রাস্তাঘাট। এগুলো দিয়ে রিকশা থেকে শুরু করে ট্রাক পর্যন্ত হরেক রকম যান প্রতিনিয়ত চলছে। এসব বন্ধ করা না হলে আবার গাছ চুরি শুরু হতে পারে। বন্যপ্রাণীদের জন্যও গাড়ি বা মানুষ চলাচল কাম্য নয়। শালবন এলাকায় সড়ক নেটওয়ার্ক এমনভাবে করতে হবে যেন বনের মধ্য দিয়ে কোনো যান চলাচল করতে না পারে। সড়ক বনের পাশ ঘেঁষে নিতে পারলে সবচেয়ে ভালো।
শালবনের ওপর নির্ভরশীল জনগণ শুকনো পাতা, জ্বালানি কাঠ ও অন্যান্য বনজ দ্রব্য সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করে। তাদের অন্য কোনো আয় বৃদ্ধিমূলক কর্মকান্ডে নিয়োজিত করে বনের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো দরকার। যেসব স্থানে শালগাছ কমে গেছে সেখানে উন্নত শালের চারা লাগাতে হবে। শালবনে আগে যেসব গাছ পাওয়া যেত, সেগুলোর চারা আবার লাগাতে হবে, যাতে বনের হারিয়ে যাওয়া পরিবেশ ফিরে আসে। একই সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া বন্যপ্রাণীদের পুনর্বাসনেরও উদ্যোগ নিতে হবে।
শালবন স্থানীয় জনগণের চিত্তবিনোদনের উত্তম স্থান। তাই এমন ব্যবস্থা করতে হবে যাতে বনের ভেতর গাড়ি যেতে না পারে, মাইক না বাজে। ট্রেইল থাকবে, সেটা দিয়ে পর্যটকেরা হেঁটে যেতে পারবে; বন্যপ্রাণী, নানা ধরনের উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য দেখতে পারবে।
Read more »

সুন্দরবন

আ ব্দু র র হ মা ন
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। ভারত পর্যন্ত বিস্তৃত এ বন। বাংলাদেশ অংশের আয়তন প্রায় ছয় হাজার বর্গ কিলোমিটার, যা মোট আয়তনের ৬২ শতাংশ। সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও খুলনা−এই তিন জেলাজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করলেও পটুয়াখালী আর বরগুনায়ও সুন্দরবনের কিছু অংশ পড়েছে।
অবস্থানগত কারণে গ্রীষ্ক্নমন্ডলীয় বিশ্বের মোট সাইক্লোনের ১৭ শতাংশই হয় বঙ্গোপসাগরে। যুগ যুগ ধরে এসব সাইক্লোনের হাত থেকে উপকুলীয় মানুষকে রক্ষা করে আসছে সুন্দরবন। যেমনটা করেছে গত ১৫ নভেম্বর।
সুন্দরবনের ইতিহাস বহু প্রাচীন। এটি প্রথম ব্যবস্থাপনার আওতায় আসে ১৮৭৫ সালে। ১৮৭৯ সালে একে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘোষণা করে ব্রিটিশ সরকার। ১৮৯৩-৯৪ সালের দিকে ইংরেজ বনকর্মকর্তা হ্যানিং ১০ বছর পালা ধরে নতুন একটি ব্যবস্থাপনা চালু করেন। আর সুন্দরবনে এখন যে ব্যবস্থাপনা কার্যকর আছে, তা তৈরি করেন কেনানিজাডো ও হুসেন, ১৯৯৮ সালে।
চারটি রেঞ্জে বিভক্ত পুরো সুন্দরবন: শরণখোলা, চাঁদপাই, খুলনা ও সাতক্ষীরা। রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধার জন্য এই চারটি রেঞ্জকে আবার ৫৫টি কম্পার্টমেন্টে ভাগ করা হয়েছে। সুন্দরবনের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে পশুর, শিবসা, রায়মঙ্গলসহ অসংখ্য নদ-নদী। এগুলোর বয়ে আনা স্বাদু পানি আর বিপরীত দিক থেকে আসা সমুদ্রের লোনা পানির কারণে সুন্দরবনের একেক অংশের মাটি একেক রকম। পানির লবণাক্ততার ওপর ভিত্তি করে সুন্দরবন তাই তিনটি এলাকায় বিভক্ত। যেখানে মিঠা পানির প্রবাহ বেশি, সেটি মিঠা পানি অঞ্চল। সুন্দরবনের পূর্ব ও উত্তর অংশ−পুরো জঙ্গলের প্রায় অর্ধেক−এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এখানে সুন্দরীগাছের আধিক্য যেমন বেশি, তেমনি গাছের বৃদ্ধিও বেশি। এই অঞ্চলের নদীতীর ঘেঁষে দেদার জন্েন গোলপাতা। পুরো সুন্দরবনের মধ্যে উদ্ভিদ ও প্রাণীবৈচিত্র্যে সবচেয়ে সমৃদ্ধ এ অঞ্চল। মিঠা পানি অঞ্চলের দক্ষিণ-পশ্চিমে মৃদু লবণাক্ত পানির অঞ্চল। এখানকার প্রধান বৃক্ষ গেওয়া। আর লবণাক্ত পানির অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি জন্েন গরান।
দিনে দুবার জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় এই বন। এ সময় পানিতে তলিয়ে যাওয়া সুন্দরী, গেওয়া, কেওড়া, বাইন, পশুর প্রভৃতি গাছ ছিদ্রযুক্ত শ্বাসমূলের সাহায্যে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সংগ্রহ করে। আবার ঝানা, গর্জনের মতো বিশেষ কিছু উদ্ভিদ ফল গাছে থাকা অবস্থায় অঙ্কুরোদগম করে। মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এটি সেখানে পাকাপোক্তভাবে গেড়ে বসে। পানির টানে যেন ভেসে যেতে না পারে, সে জন্যই প্রকৃতিপ্রদত্ত এই ব্যবস্থা।
উদ্ভিদ ও প্রাণীবৈচিত্র্যে অনন্য এক বন সুন্দরবন। এই বনে আছে ৩৩০ প্রজাতির উদ্ভিদ, ২৭০ প্রজাতির পাখি, ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৩২ ধরনের চিংড়ি এবং ১৭৭ প্রজাতির মাছ। সুন্দরবনের মোট বৃক্ষাচ্ছাদিত অরণ্যের ৭৩ শতাংশজুড়েই আছে সুন্দরীগাছ।
সুন্দরবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ রয়েল বেঙ্গল টাইগার। এই বাঘ একদিকে যেমন পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ, অন্যদিকে তেমনি বনের রক্ষাকবজও। শত শত বছর ধরে অনুপ্রবেশকারী আর বনদস্যুদের কবল থেকে সুন্দরবনকে রক্ষা করে আসছে এরা। এই বনে হরিণ আছে দুই রকম−চিত্রা আর মায়া। সুন্দরবনের জল ও ডাঙ্গায় আরও আছে বন্য শুকর, মেছোবাঘ, বানর, চিতা-বিড়াল, গুইসাপ, অজগর, উদ্বিড়াল, কুমির, ডলফিন, কিং কোবরা।
বঙ্গোপসাগরের মৎস্য সম্পদের প্রধান কারণও সুন্দরবন। বনের গাছপালা থেকে ঝরে পড়া পাতা, ডাল ইত্যাদি পচা-অর্ধপচা অবস্থায় সাগরে ভেসে গিয়ে মাছের খাবার হয়। বঙ্গোপসাগরের অনেক মাছ ডিম পাড়া আর বাচ্চা দেওয়ার কাজটাও সারে সুন্দরবনে।
ফারাক্কা বাঁধের কারণে কমে গেছে স্বাদু পানির প্রবাহ, ফলে ঢুকে পড়ছে লবণাক্ত পানি। লবণাক্ততা বৃদ্ধিসহ আরও কিছু কারণে আগামরা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরী। রোগ প্রতিরোধের জন্য যেসব গাছের ৫০ শতাংশ ডালপালাই এ রোগে আক্রান্ত, সেগুলো কেটে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে একদিকে যেমন বনের পরিবেশের উন্নতি হবে, তেমনি নতুন গাছ গজানোর সুযোগ পাবে। সিডর-পরবর্তী সময়ে সব ধরনের গাছপালা আহরণ নিষিদ্ধ করায় বেকার হয়ে পড়েছে বাওয়ালিরা। দুবলার চরসহ আটটি জেলে বসতির স্বাদু পানির পুকুরগুলো সিডরের সময় লবণাক্ত পানিতে ভরে গিয়ে হয়ে পড়েছে পানের অযোগ্য। ফলে মানুষের পাশাপাশি বন্য প্রাণীরাও পড়ছে খাওয়ার পানির সংকটে। সুন্দরবনকে বাঁচাতে হলে এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে। বাওয়ালিদের সীমিত আকারে গাছ কাটার অনুমতি দিতে হবে নতুবা বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি সুন্দরবনকে আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আরও মনোযোগী হতে হবে। তাহলেই বেঁচে থাকবে সুন্দরবন।
Read more »

February 6, 2008

ওয়াইল্ডলাইফ ফার্মিং: সম্ভাবনায় বাংলাদেশ

প্রাকৃতিকভাবেই বাংলাদেশ অনেক সম্ভাবনার দেশ। তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত,শীতকাল ও গ্রীষ্মকাল সবকিছু বিবেচনা করলে আমরাও ফার্মিংয়ের ক্ষেত্রে পশ্চিমাদের মত এগিয়ে যেতে পারি। এর জন্য খুব বেশী অর্থ বা অন্যান্য ইনভেস্টমেন্টের প্রয়োজন হয়না। তবে সবচেয়ে বেশী যা প্রয়োজন হয় তা হল দক্ষ মানুষের। তবে এর অভাবও অনেকটা কমিয়েছে বাংলাদেশীরা। আমরাও অনেক দূর এগিয়ে গেছি। ময়মনসিংহের ভালুকায় রেপটাইলস ফার্ম এর প্রকৃষ্ঠ উদাহরণ।

ওয়াইল্ড লাইফ ফার্মিং বাংলাদেশের জন্য একেবারেই নতুন একটি বিষয়। কিন্তু বিদেশে এর জনপ্রিয়তা আকাশ ছোঁয়া। সামান্য ইনভেস্ট করেই তারা প্রচুর মুনাফা অর্জন করছে। সাপ, ব্যাঙ বা কুমিরকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে তা থেকে বিভিন্নভাবে মুনাফা অর্জনের নামই হল ওয়াল্ড লাফ ফার্মিং। এসব ফার্মিংমের মাধ্যমে একজনের ভাগ্যের চাকা সহজেই খুলে যেতে পারে। তবে সাধারণ মানুষ প্রথমেই এ ফার্মিংয়ের চিন্তা করতে পারেনা কারণ এর জন্য বেশ কিছু ট্রেনিং দরকার হয়। আমাদের দেশে আমরা প্রথমেই ব্যাঙ বা সাপের ফার্মিংয়ের চিন্তা করতে পারি। এর জন্য বেশী জায়গা বা খুব বেশী অর্থের প্রয়োজন পড়েনা। ব্যাঙ খাওয়া মুসলিম সমাজে নিষিদ্ধ কিন্তু বাইরের দেশগুলোতে ব্যাঙ দিয়ে সুস্বাদু সব খাবার তৈরী করা হয়। বিশেষ করে ইউরোপ, আমেরিকা, জাপানে এর চাহিদা ব্যাপক। আমরা এসব দেশে রপ্তানীর মাধ্যমে কম ইনভেস্টে বেশী মুনাফা অর্জন করতে পারি। সাপের ফার্মিং বিশ্বে আরও জনপ্রিয়। সাপ যেমন একদিকে উপাদেয় খাবার হিসেবে ব্যবহার হয় অন্যদিকে সাপের ভেনম থেকে এন্টিভেনমসহ হরেক রকমের ওষধ তৈরী হয়। সহজেই এ সেক্টরে একজন এগিয়ে আসতে পারে। দেশে দিন দিন কলকারখানাসহ অনেক পরিবেশ দূষণকারী ইন্ড্রাস্ট্রির সংখ্যা বেড়ে চলছে। যে কেউ সহজেই ইন্ড্রাস্ট্রি গড়ে তুলতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন পড়ে অনেক অর্থ সহ জনবল। আবার কেউ গড়ে তুললেও লাভের মুখ দেখতে অনেক বেগ পেতে হয়। সেক্ষেত্রে বিজ্ঞানসম্মভাবে ফার্ম করলে তা থেকে অবশ্যই লাভবান হওয়া সম্ভব।

এবার ফার্মিংয়ের ব্যবস্থাপণার কথায় আসি। কিভাবে সহজেই একটা ফার্ম গড়ে তোলা যায়। প্রথমেই আসি ব্যাঙের কথায়। ফার্মিংয়ের মাধ্যমে ব্যাঙ চাষের জন্য প্রথমেই একটা ভালো প্লানিং করতে হবে। এগুলোর মধ্যে থাকবে জায়গা সিলেকশন, প্রজাতি নির্বাচন ও ডিম কালেকশন। যে জায়গা আমরা ব্যাঙের চাষের জন্য নির্ধারণ করব তা আর্দ্র বা ভেজার সাথে ঘাস থাকলে ভালো হয়। জায়গাটির এক পাশে একটি গোলাকার ছোট্ট পুকুর থাকতে হবে। আমাদের দেশে বরিশাল, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ ব্যাঙ চাষের জন্য উপযোগী জায়গা। একহাজার ব্যাঙ চাষের জন্য ১.৫ বিঘা জমি হলে ভাল হয়। শুকনো এরিয়াতে এ জায়গার মধ্যে ৫ ফিটের একটা পুকুর করতে হবে। ৪-৫ ফিট উঁচু ওয়াল বা নেট দিয়ে এ পুকুর ঘেরাও থাকবে যেন সাপ ঢুকতে না পারে। ব্যাঙ চাষের জন্য এমন প্রজাতি নির্বাচন করতে হবে যা বাইরের দেশে ভালো ডিমান্ড আছে। বাংলাদেশে লাভজনক প্রজাতিগুলো হল- বাল ফ্রগ, ক্রিকেট ফ্রগ, গ্রীন বা স্ক্রিপার ফ্রগ। প্রজাতি নির্ধারণের পর খুব সর্তকভাবে এক্সপার্টদের দ্বারা ডিম কালেশন করতে হবে। প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম এ দু’ভাবেই ডিম কালেকশন করা যায়। বর্ষকাল অর্থাৎ মে থেকে জুলাই মাসেই ব্যাঙ ডিম দেয়। সেখান থেকে প্রাকৃতিকভাবে ডিম কালেকশন করা যায়। ব্যাঙের মেয়ে ও পুরুষ ২:১ হারে পুকুরে ছেড়ে পিটুইটারি হরমোনের মাধ্যমেও ডিম কালেকশন করা যায়। এটা বয়স্ক ব্যাঙ একটা সিজনে প্রায় তিন হাজারের মত ডিম দিতে পারে। ব্রিডিং সিজনে ব্যাঙ ও তার বাচ্চাকে ভালো খাবার দিতে হবে। সাধারণত ব্যাঙ পোকামাকড়, ছোট মাছ ও অন্যান্য প্রাণীর লার্ভা খেয়ে বেঁচে থাকে। রাতের বেলা ফার্মে বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালিয়ে পোকাড় আগমন বাড়ানো যেতে পারে। কেঁচো ব্যাঙের একটা মূল্যবান খাবার। ফার্মের মধ্যে জৈব সার দিয়েও কেঁচোর সংখ্যা বাড়ানো যায়। ব্যাঙের বাচ্চাগুলো সাধারণত তৃণভোজী। এরা এ্যালগি ও কিছু প্লাংটন খায়। বিশ থেকে পশ্চিশ দিন তাদের এ খাবার সরবরাহ করতে হয়। ব্যাঙ তেমন কোন রোগে মারা যায় না। এর ওজন ১২০-১২৫ গ্রাম হলে সুবিধা মত সময়ে এদের ধরে রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করতে হবে। ব্যাঙ চাষ খুব জটিল কোন বিষয় নয়। তবে অভিজ্ঞরাই এ কাজের উদ্যেগে নিতে পারে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ওয়াইল্ড লাইফ বায়োলজিস্টরা এগিয়ে আসতে পারে।

সাপের ফার্মিং ব্যাঙের চেয়ে তুলনামূলক কঠিন ও ঝুকিপূর্ণ। তবে ব্যাঙের চেযে বহুগুন বেশী লাভজনক। বিদেশের অনেক দেশে সাপের ফার্মিংটা খুবই জনপ্রিয়। ভারতেও সাপের ফার্ম আছে। আমাদের দেশে সাপের ফার্ম না থাকলেও বেদে পাড়াগুলোতে সাপ নিয়ে হরেক রকমের ব্যবসা চলে। এদেরকে ফার্মিংয়ের মত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কাজে লাগাতে পারে বাংলাদেশী সায়েটিস্টরা। আমাদের দেশে ৬৭টি প্রজাতির সাপ আছে। যার মধ্যে ১৫টি প্রজাতি বিষাক্ত। আর এ বিষাক্ত সাপের ফার্মই বেশী লাভজনক। সাপ খাবার খায় খুবই কম বা খাবার না পেলেও এরা দু’তিন সপ্তাহ সহজেই বেঁচে থাকে। এরা ব্যাঙ, ইদুর, টিগটিকি, গিরগিটি, মাছ ও পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকে যা প্রকৃতিতে সহজেই পাওয়া যায়। একটি সাপ ১০-৪০টি পর্যন্ত ডিম দেয়। এসব কিছু বিবেচণায় আনলে সাপ ফার্মিং থেকে সহজেই প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। সাপের ফার্মের জন্য কোন বড় জায়গার প্রয়োজন হয়না। যেহেতু সাপ শীতকালে শীতনিদ্রায় যায় কাজেই সাপ ফার্মিংয়ের জন্য সেরকম জায়গায় নির্ধারণ করতে হবে। গ্রীষ্মকালে তারা তাপ নির্গত করে। আমাদের দেশে সাপ ফামির্ংয়ের জন্য মূল্যবান প্রজাতি হল কিংকোবরা, কোবরা, কমন ক্রেইট, বানডেড ক্রেইট, রাট স্নেক ও রাসেল’স ভাইপার। এ সাপগুলোর গ্রোথ বেশী , কম রোগক্রান্ত হয় এবং বাংলাদেদেশের পরিবেশের জন্য উপযোগী। যখন সাপ বাচ্চা দিবে তখন খাবার সরবরাহটা নিয়োমিত করতে হবে। অন্যান্য সময়ে সপ্তাহে দু’বার খাবার দিলেই চলে। কিংকোবরা সাধারণত লিজার্ড খায়, কোবরা ইদুর, ব্যাঙ ও পাখির ডিমও খেতে পারে। তাই যে সাপ যে ধরণের খাবার খায় তা সেভাবেই তাদের খাবার সিলেকশন করতে হবে। সাপের কোন কোন প্রজাতি ডিম দেয় আবার কেউ কেউ বাচ্চা দেয়। কাজেই সাপের ধরণ অনুযায়ী তাদের কেয়ার নিতে হবে। যেমন কোবরা জানুয়ারী মাসে মেট করে আর বাচ্চা দেয় এপ্রিল- মে মাসে। তাদের ইনকুবিশন পিরিয়ড ৬০-৭০দিন।

সাপের ফার্মিংয়ের জন্য খুবই দক্ষ লোকের দরকার হয়। যে প্রজাতি ফার্মিংয়ের জন্য নির্বাচণ করা হবে তারা সেসব সাপের খাবার, বাসস্থান ইত্যাদি সম্বন্ধে জানবে। মেয়ে-পুরুষ সহজেই নির্ণয় করতে পারতে হবে। সাপের ফার্মে খুব সর্তকভাবে চলাফেরা করতে হবে। সব সময় এ্যান্টিভেনম কাছে রাখতে হবে। হাতে গ্লোভস পড়ে খুব সর্তকভাবে সাপের ভেনম বের করতে হবে এবং ভেনম প্রক্রিয়াকরণের ভালো ব্যবস্থাও থাকতে হবে। সাপের চামড়া খুব সর্তকভাবে ছাড়াতে হবে। তাহলেই ফার্মিংটা সাকসেসফুল হবে।

ওয়াইল্ড লাইফ ফার্মিংয়ের আর একটা গুরত্বপূর্ণ সেক্টর হল ক্রোকডাইল বা রেপটাইলস ফার্মিং। বাংলাদেশের ময়মনসিংহের ভালুকার ক্রোকডাইল ফার্মের ক্রোকডাইলগুলো বর্তমানে ডিম দেওয়া শুরু করেছে যা আমাদের দেশে ওয়াইল্ড লাইফ ফার্মিংয়ে একটা গুরত্বপূর্ণ অধ্যায় বলা যায়। এখন যে কেউ সাপ কিনবা ব্যাঙের ফার্মিংয়ের উদ্যেগ নিয়ে ফার্মিংয়ের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারে। এর ফলে একদিকে যেমন প্রচুর বৈদেমিক মুদ্রা অর্জিত হবে অন্যদিকে পরিবেশ বিপর্যয় সহজেই হ্রাস করা সম্ভব।
সূত্র: নিসর্গ.কম
Read more »