Showing posts with label প্রাণী. Show all posts
Showing posts with label প্রাণী. Show all posts

October 3, 2009

A Bangladeshi farmer who killed 83,000 rats has been awarded a prize by his Government.

By Ben Leach


A month-long nationwide campaign to kill millions of rats is designed to protect crops and reduce the need for food imports  Photo: AP

Mokhairul Islam, 40, won a first prize of a colour television for killing some 83,450 rats in the past nine months in Gazipur district near the South Asian country's capital, Dhaka. He collected their tails for proof.

"I am so happy to get this honour," he said after receiving a 14-inch television and a certificate amid cheers at an official ceremony packed with 500 farmers and officials. "I had no idea that the government gives prizes for this."

"This is an exciting moment. I will continue to kill them," he vowed.

The award was also for his work to launch a month-long campaign nationwide to kill millions more, to protect crops and reduce the need for food imports.

Officials say the impoverished nation imports some 3 million tons of food annually, while the Ministry of Agriculture estimates that rodents annually destroy 1.5 million to 2 million tons of food.

"We can cut the import of food by at least half if we can succeed in this year's campaign," said Wais Kabir, executive chairman of the Bangladesh Agriculture Research Council.

He asked everyone, especially farmers, to take on the killing mission as a sport. The government has said it will train mainly farmers and students for this year's campaign.

"Killing rats is not that easy, it needs training," Kabir said.

Islam said he mainly used poison to kill the rats at his poultry farm, and that the cull has paid off as the rodents now scavenged less.

"Previously I needed 33 sacks of poultry feed per week, now I need less than 30," he said.

Fakhrul Haque Akanda, a farmer from northern Bangladesh and the second-prize winner, killed some 37,450 rats mostly with traps, some he invented.

"These bloody rats are my enemy, they destroy my gardens," Akanda said.

"Please pray for me so that I can continue my mission, and teach and motivate others to join me," he told the audience before taking his prize, also a television.

Last year, the U.N. World Food Program launched a monthslong food aid project in the country's southeast after a plague of rats devoured rice crops.

News Source: Telegraph
Read more »

July 21, 2009

Tiger kills another fisherman

147 killed in attacks in last 9 years
Our Correspondent, Satkhira

A fisherman was killed by tiger yesterday in Bibikhali area of the river Malanchi in the Sundarbans.

Kashem Ali Gazi, 55, son of Manik Gazi of village Patakhali in Shyamnagar upazila fell victim to attack when he along with others was catching fish in the river.

Fishermen who witnessed the incident said the tiger dragged Kashem into deep forest. They later recovered the body in the evening.

On Thursday, tiger killed fisherman Manda Bagchi, 45, of Munshiganj village in Kaliganj upazila.

Around 150 people were killed in tiger attacks while at least 19 tigers were killed by villagers in the adjoining areas of Sundarbans in last nine years.

According to the forestry officials, tigers killed at least 147 people, including bawalies, villagers and forest staff members, since June 2001. Of them, 18 were killed in the east range while 129 in the west range of the forest.

On the other hand, villagers killed 12 tigers in the east range while seven in the west range during the same period, the officials said.

Forestry officials said tigers enter localities and attack the villagers because of drying up of the rivers and canals, dearth of food and frequent natural calamity.

DFO of the East Range Mihir Kumar Dho said he urged the villagers not to kill the tigers and inform officials if the tigers enter their areas from the forest.

The Daily Star, 21 july, 2009
Read more »

July 5, 2009

Man-eater beaten to death by villagers

Villagers beat dead this tiger in Satkhira after it injured three people yesterday.Photo: STAR

Locals beat a Royal Bengal Tiger dead after it injured three people at Khalishabunia village under Shyamnagar upazila of Satkhira yesterday.

Police quoted villagers and forest officials as saying that the tiger entered the village crossing the river Kholpetua at around 6:00am and injured three villagers.

The injured--Sahiluddin, 60, Aziz, 50 and Abdul, 55are now undergoing treatment at Shyamnagar Upazila Health Complex.

As the villagers along with forest guards chased the tiger, it took shelter on the roof of a thatched house at the village. The villagers and forest guards then cordoned off the house and informed the divisional forest office of the matter.

Being informed, Khulna Divisional Forest Officer (DFO) Abani Bhusan Thakur reached the spot and asked the forest guards to collect net to catch the man-eater. He also requested the villagers not to kill the tiger.

Ignoring the request, a group of local youths climbed the roof of the house at around 2:00pm and beat the tiger dead, local sources said.

Forest guards immediately arrested one of the youth named Maniruzzaman for killing the tiger. They later handed him over to the police.

When contacted, the divisional forest officer (DFO) said legal action will be taken against those who killed the tiger.

The Daily Star, 3 july 2009. News Link
Read more »

October 18, 2008

বাংলাদেশে যত ডলফিন

বাংলাদেশ হলো বিভিন্ন প্রজাতির বিপুলসংখ্যক জলজ স্তন্যপায়ীর অবাধ বিচরণক্ষেত্র। এশিয়ার অন্যান্য দেশ, যারা বাংলাদেশের প্রতিবেশী, তাদের তুলনায় বাংলাদেশের নদী ও উপকুলীয় এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির জলজ স্তন্যপায়ী অনেক বেশি দেখা যায়। বাংলাদেশের ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, উপকুলীয় ও গভীর সমুদ্রের জলভাগ অসাধারণ সব প্রজাতির জলজ স্তন্যপায়ীর জন্য খুবই উপযোগী বাসস্থান।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি পরিচিত ডলফিন হলো শুশুক। এরা সত্যিকারের নদীর ডলফিন। বিশেষ আকৃতির লম্বা ঠোঁট, পিঠের ছোট ডানা আর দুই পাশের বড় পাখনার কারণে শুশুক দেখতে একটু অদ্ভুত। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা নদীর সব জায়গাতেই শুশুকের বাস। সত্যিকারের নদীর ডলফিন সাগরের ডলফিনের দুরসম্পর্কের আত্মীয়। এদের ঠোঁট লম্বা এবং চোখ খুব ছোট। শুশুকের দৃষ্টিশক্তি খুবই দুর্বল। নদীর যে ঘোলা পানিতে এদের বসবাস, সেখানে দৃষ্টিশক্তির খুব একটা প্রয়োজন হয় না। এর বদলে এদের ইকোলোকেশনের শক্তি অনেক প্রখর। চলাচলের সময় জলজ স্তন্যপায়ীরা প্রতিধ্বনিত শব্দ দিয়ে মস্তিষ্কেক প্রতিচ্ছবি তৈরি করে।

শুশুকের শরীরের দুই পাশের বড় পাখনা ও নমনীয় ঘাড়ের জন্য এরা সহজে চলাচল করতে পারে। অনেক সময় দেখা যায়, এরা কাত হয়ে সাঁতার কাটে। বড় পাখনার সাহায্যে এরা নদীর তলদেশ ছুঁয়ে পথ নির্ধারণ করে। এরা কিন্তু মোটেই সমাজবদ্ধ নয়। সাধারণত একাই থাকে। তবে অনেক সময় নদীর বাঁকে ও মোহনায় ছোট ছোট দলে দেখা যায়।

কিছু প্রজাতির ডলফিন নদী ও সাগর উভয় স্থানেই দেখা যায়। যেমন ইরাবতী ডলফিন। আমাদের দেশে এরা সুন্দরবনের মিঠা পানির নদী আর বঙ্গোপসাগরের উপকুলীয় অঞ্চলে বাস করে। নদীসহ যেসব উপকুলীয় জলাশয়ে নদী থেকে মিঠা পানি আসে, সেসব স্থানে ইরাবতী ডলফিন দেখা যায়। সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের জলপথে এরা শুশুকের সঙ্গে মিলেমিশেই থাকে।

গোলাপি ডলফিন বা ফিনলেস পরপয়েসকে মাঝেমধ্যে সুন্দরবনের নদীতে দেখা গেলেও এরা আসলে উপকুলীয় জলভাগে বাস করে, যেখানে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা নদী থেকে মিঠা পানি আসে।

প্রথম আলো, ১৭, অক্টোবর, ২০০৮
Read more »

October 17, 2008

ডলফিনের জন্য ভালোবাসা

একসময় বাংলাদেশের খুব কম নদনদীই ছিল যেখানে শুশুক দেখা যেত না। প্রতিকুল পরিবেশ, মানুষের বৈরিতায় আস্তে আস্তে বড় কিছু নদী ছাড়া আর সব জলাশয় থেকেই প্রায় হারিয়ে গেছে ডলফিনের এ প্রজাতি। তার পরও সাম্প্রতিক কিছু জরিপ বলছে, এখনো আশপাশের দেশের তুলনায় আমাদের দেশে ডলফিনের সংখ্যা নেহাত কম নয়। বাংলাদেশে ডলফিনের অবস্থা নিয়ে আমাদের এই প্রতিবেদন।

ফারহানা আলম

ডলফিন নিয়ে আলাদা করে কোনো আগ্রহ রুবাইয়াত মনসুর মুগলির ছিল না। তাঁকে আগ্রহী করে তোলেন ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন সোসাইটির প্রকল্প পরিচালক ব্রায়ান স্মিথ। ২০০০ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন ভদ্রলোক। বেসরকারি পর্যটন সংস্থা দ্য গাইড ট্যুরস লিমিটেডের ভ্রমণতরীতে করে সুন্দরবন গিয়েছিলেন তিনি। সুন্দরবন যাওয়ার পথে নদীতে শুশুকসহ অনেক ডলফিন দেখলেন ব্রায়ান। ওই অঞ্চলের নদীর পানিতে জলজ স্তন্যপায়ী গোত্রের প্রাণী দেখে গাইড ট্যুরসের মুগলিকে গল্প শোনাতে লাগলেন তিনি। সেই প্রথম মুগলি জানলেন, বাংলাদেশের নদনদী ও বঙ্গোপসাগরে নানা জাতের ডলফিন আছে। গভীর সমুদ্রে আরও আছে ডলফিনেরই জাতভাই তিমি। ব্যস, আর যায় কোথায়! এই বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে শুরু করলেন রুবাইয়াত মুগলি। আর তাঁকে বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করার জন্য ব্রায়ান স্মিথ তো ছিলেনই।

২০০২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন সোসাইটির জন্য বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তিমি ও ডলফিন সংরক্ষণ সংস্থা এবং কনভেনশন অন মাইগ্রেটরি স্পিসিজের সমর্থনে মূলত ব্রায়ান স্মিথের আয়োজনে প্রথমবারের মতো শুরু হয় রুবাইয়াতের ডলফিন নিয়ে জরিপের কাজ। জরিপে অংশ নেন ভারত, বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা। জরিপের জন্য তাঁরা ঘুরে বেড়িয়েছেন সুন্দরবনের সব নদী ও খাল। আইইউসিএনের সঙ্গে যৌথভাবে আবার সুন্দরবনের জলপথ ধরে চলে গবেষণা। বাংলাদেশের জলসীমায় থাকা স্তন্যপায়ী প্রাণিবৈচিত্র্যের সন্ধান করা এবং সেগুলো যেন বিলুপ্ত হয়ে না যায় সে লক্ষ্যে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, তার অনুসন্ধানই ছিল রুবাইয়াতের মূল লক্ষ্য।

২০০৪ সালে বাংলাদেশের উপকুল ধরে মিয়ানমারের সীমানা থেকে অর্থাৎ নারিকেল জিঞ্জিরার উপকুল থেকে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের শেষ সীমা পর্যন্ত চালানো হয় আরেকটি জরিপ। এই জরিপেও বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কার ১৫ জন বিজ্ঞানী অংশ নেন। তখনই তাঁরা এই অঞ্চলে সামুদ্রিক ডলফিন ও তিমির দেখা পান। সেই সঙ্গে সুন্দরবনের গভীর সমুদ্রের গিরিখাদ বা অতলস্পর্শে ডলফিনের বৈচিত্র্য ও এদের অবাধ বিচরণ দেখেন।

২০০৫ সালে আবার এ জায়গায় জরিপের সময় তাঁরা প্যানট্রপিক্যাল স্পটেড ডলফিন ও স্পিনার ডলফিনের অস্তিত্ব খুঁজে পান।
বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জরিপ চলতে থাকলেও কোনো আনুষ্ঠানিক ভিত্তি না থাকায় রুবাইয়াত ২০০৬ সালের জুলাই মাসে এসে গঠন করেন বাংলাদেশ সেটেশন ডাইভার্সিটি প্রজেক্ট (বিসিডিপি)। রুবাইয়াতও পুরোদমে প্রধান গবেষক হিসেবে কাজ শুরু করেন।
ছয় বছরের জরিপের ফলাফলে মোটামুটি একটা সংখ্যা বের হয়ে এসেছে। গাইড ট্যুরসের ভ্রমণতরী এমভি অবসর, এমভি ছুটি ও এমভি বনবিবির সারেংরাও এই জরিপে অংশ নেন। তাঁরা দল, একক ও বাচ্চা−এই তিনটি ভাগে জরিপটি পরিচালনা করেন। সেই হিসাবমতো শুশুকের এক হাজার পাঁচটি দল, একক এক হাজার ৯৯৩টি এবং বাচ্চা ২৩৫টি গণনা করা হয়। আর ইরাবতী ডলফিনের ২৮১টি দল, একক ৫৬৬টি এবং বাচ্চা ৩২টি দেখা গেছে। এই জরিপ করা হয়েছে সুন্দরবনের সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের ২৬ হাজার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে।

সামগ্রিক জরিপে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রায় ছয় হাজার ইরাবতী ডলফিনের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। কিন্তু শুধু অস্তিত্ব থাকলেই হবে না; তাদের অস্তিত্ব যেন বিলুপ্তির দিকে না যায় সেই লক্ষ্যেই কাজ করতে হবে। তাই বিসিডিপি কিছু লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। জনসচেতনতা তৈরি করতে তারা মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে নানা ধরনের বইপত্র, যেখানে ডলফিন ও তিমিবিষয়ক নানা তথ্য দেওয়া আছে। আবার সামাজিকভাবে সংঘবদ্ধ করে আলোচনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। স্থানীয় নেতা এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষকেরাও এই সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছেন। খেলাধুলা ও ছবির মাধ্যমেও প্রাণিবৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সেই সঙ্গে একটি তথ্যচিত্র জাতীয় গণমাধ্যমে বা স্থানীয়ভাবে দেখানোর ব্যবস্থা করা হবে। জলজ স্তন্যপায়ী আর নিজেদের নিরাপত্তার জন্য জেলেরা যাতে নিরাপদ জলপথ ব্যবহার করতে পারে সেই লক্ষ্যে কম খরচে ও সহজবোধ্য গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও আছে। আছে আশপাশের এলাকার গ্রামবাসী ও জেলেদের জলজ স্তন্যপায়ীর বিচরণক্ষেত্র, জীবনাচরণ পর্যালোচনা, প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং সচেতনতা বাড়ানোর পরিকল্পনা। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলবায়ুর পরিবর্তন, বাঁধের কারণে সুন্দরবন ও মোহনায় নদীর পানির স্বল্পতার মধ্যেও জলজ স্তন্যপায়ীর জীবনধারণ লক্ষ করে এদের বৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা।

জলজ স্তন্যপায়ীদের জন্য একটি সংরক্ষিত এলাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে বিসিডিপি। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর আর উত্তরে মংলা বন্দর, পূর্বে বলেশ্বর আর পশ্চিমে পশুর নদকে সীমা ধরে মাঝখানে পূর্ব সুন্দরবনের নির্ধারিত অংশকে এই সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এখানে সংরক্ষিত এলাকায় চিংড়ি মাছের পোনা ধরায় সুক্ষ্মজালের ব্যবহার বন্ধ ও পানিদুষণ রোধ করা গেলেই জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণীরা অবাধে বিচরণ করতে পারবে।

জলজ স্তন্যপায়ীর অবাধ বিচরণ ও বৈচিত্র্য বৃদ্ধির লক্ষ্যেই বিসিডিপি ৯ থেকে ১২ অক্টোবর শিশু একাডেমীতে আয়োজন করে বাংলাদেশে প্রথম শুশুক মেলা। চার দিনব্যাপী এই মেলায় বিপুলসংখ্যক দর্শক উপস্থিতি প্রমাণ করে জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণিবৈচিত্র্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ আছে। বললেন বিসিডিপির শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারী এলিজাবেথ ফাহরনি মনসুর।

প্রথম আলো, ১৭, অক্টোবর, ২০০৮
Read more »

June 23, 2008

সুন্দরবনে বাঘ হত্যা ২

২২ জুন ২০০৮ তারিখের প্রথম আলো পত্রিকাতেও সুন্দরবনে বাঘ হত্যার খবর প্রকাশ হয়েছে। সম্পূর্ণ খবর নিম্নরূপ। ছবি কৃতজ্ঞতা: প্রথম আলো পত্রিকা।


লোকালয়ে এসে তিনজনকে হত্যা করা বাঘটিকে পিটিয়ে মারল গ্রামবাসী
নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা

সুন্দরবনের চুনকুড়ি নদী পার হয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার লোকালয়ে ঢুকে পড়া একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে গতকাল শনিবার সকালে পিটিয়ে হত্যা করেছে গ্রামবাসী। বিডিআর, পুলিশ ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা সারা রাত বাঘটিকে ঘিরে রাখে। সকালে গ্রামবাসী কৌশলে বাঘটিকে ফাঁদে আটকে পিটিয়ে হত্যা করে। এর আগে গত শুক্রবার রাতে বাঘটি তিনজনকে হত্যা করে এবং চারজনকে আহত করে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের মথুরেশপুর গ্রামের পরিমল মন্ডলের ছেলে তারক মন্ডল (৩০), পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের ভুপতি মন্ডলের স্ত্রী গীতা রানী মন্ডল (৪৫) ও তাঁর শ্বশুর অঘোর চন্দ্র মন্ডল (৯০)।

সুন্দরবনসংলগ্ন শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য তপন কুমার রপ্তান, সাবেক ইউপি সদস্য আবদুস ছালাম, হরিনগর ও কদমতলা গ্রামের মনোরঞ্জন মন্ডল, শশীভুষণ মন্ডল, চৌকিদার সুকুমার মন্ডলসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, শুক্রবার রাত নয়টার দিকে বাঘটি চুনকুড়ি নদী পার হয়ে মুন্সিগঞ্জের দক্ষিণ কদমতলা গ্রামে ঢোকে। সেখান থেকে বাঘটি পাশের মথুরেশপুর গ্রামে গিয়ে কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারক মন্ডলের (৩০) ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যা করে। তারক মন্ডলের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন সেখানে ছুটে গেলে বাঘটি আবারও দক্ষিণ কদমতলায় যায়। সেখানে বাঘটি অঘোর চন্দ্র মন্ডলের বাড়িতে ঢুকে তাঁর পুত্রবধু গীতা রানী মন্ডলের (৪৫) ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যা করে। পরে অঘোর চন্দ্র মন্ডলকেও (৯০) হত্যা করে। এরপর বাঘটি ওই বাড়ির একটি ঘরে ঢোকে।

খবর পেয়ে রাত ১০টার দিকে ৭ রাইফেল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মেজর আলমগীর দেওয়ানের নেতৃত্বে বিডিআর, পুলিশ ও বনকর্মীরা সেখানে পৌঁছান। তাঁদের উপস্িথতিতে কয়েক শ গ্রামবাসী ঘরে অবস্থান করা বাঘটিকে জাল দিয়ে ঘিরে ফেলে। প্রায় এক ঘণ্টা পর রাত ১১টার দিকে বাঘটি জাল ছিঁড়ে পালিয়ে যায়। পরে বাঘটি পাশের হরিনগর গ্রামে গিয়ে নিমাই চন্দ্র সরদার (৩৭), গণেশ চন্দ্র মন্ডল (৪০), হারাপদ মন্ডল (৪০) ও আলমের (৩৭) ওপর হামলা চালিয়ে তাঁদের আহত করে।

এরপর বাঘটি দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের সাধুপাড়ার রণজিৎ মন্ডলের রান্নাঘরে আশ্রয় নেয়। সেখানে পুলিশ, বিডিআর, বনকর্মীসহ কয়েক শ মানুষ বাঘটিকে ঘিরে রাখে এবং রাত জেগে পাহারা দেয়। ভোরে গ্রামের লোকজন কৌশলে বাঘটির গলায় ফাঁস লাগিয়ে সেটিকে আটকায়। সেখানে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী বাঘটিকে পিটিয়ে হত্যা করে। সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মীর্জা আবদুল্লাহেল বাকী, ৭ রাইফেল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মেজর আলমগীর দেওয়ান, সুন্দরবনের কদমতলা স্টেশনের বন কর্মকর্তা সোলায়মান হাওলাদার ও শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক রাত থেকেই ঘটনাস্থলে অবস্থান করেন।

স্থানীয় লোকজন জানায়, এর আগে বাঘটি দক্ষিণ কদমতলার অমূল্য মন্ডল ও রণজিৎ মন্ডলের ছয়টি ছাগল ও তিনটি হাঁস খেয়ে ফেলে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে গণেশ চন্দ্র মন্ডলকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বন বিভাগের কদমতলা স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা সোলায়মান হাওলাদার বলেন, এই রয়েল বেঙ্গল টাইগার পুরুষ এবং পূর্ণবয়স্ক। লেজসহ বাঘটির দৈর্ঘ্য সাড়ে সাত ফুট, লেজ বাদে পাঁচ ফুট। পুলিশ ও বিডিআর কর্মকর্তারা মৃত বাঘটি তাঁর কাছে হস্তান্তর করেছেন। চামড়া ছাড়িয়ে গতকাল বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বাঘটিকে সুন্দরবনের কলাগাছি এলাকায় পুঁতে ফেলা হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান অসীম মৃধা জানান, স্থানীয় শ্মশানে নিহত গ্রামবাসী তারক, অঘোর ও গীতার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। সুন্দরবনসংলগ্ন গ্রামগুলোতে বাঘের আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার বলেন, বাঘটিকে তাঁরা সুন্দরবনে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। গতকাল ভোরে পাঁচ হাজারের মতো গ্রামবাসী সেখানে জড়ো হয়। একপর্যায়ে তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে বাঘটিকে পিটিয়ে হত্যা করে। তখন তাঁরা চেষ্টা করেও গ্রামবাসীকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি।

বাঘটিকে অজ্ঞান না করে হত্যা করার ব্যাপারে সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক রাজেশ চাকমা বলেন, "বাঘটিকে অজ্ঞান করে বনে ছেড়ে দেওয়াই নিয়ম। আমাদের কাছে ট্রাঙ্কুলাইজার থাকলেও দক্ষ লোকের অভাবে তা ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।" হত্যার আগে বিভিন্ন শব্দ করে বাঘটিকে বনে পাঠানোর চেষ্টা করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
Read more »

সুন্দরবনে বাঘ হত্যা

সুন্দরবনে একটি বাঘ হত্যা করা হয়েছে। সমকাল পত্রিকার ২২ জুন ২০০৮ সংখ্যায় প্রকাশিত খবর নিম্নরূপ:

ছবি: সমকাল পত্রিকা
আক্রমণে তিনজন নিহত হওয়ার পর সেই বাঘকে পিটিয়ে হত্যা
নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা ও শ্যামনগর প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর উপজেলার হরিণনগর এলাকার লোকালয়ে ঢুকে পড়া বাঘটিকে শনিবার সকালে পিটিয়ে হত্যা করেছে গ্রামবাসী। শুত্রক্রবার রাতে ওই বাঘের আক্রমণে তিনজন নিহত হয়।
এলাকাবাসী জানায়, গত শুক্রবার সল্পব্দ্যার পর এক বিশাল আকৃতির রয়েল বেঙ্গল টাইগার সুন্দরবনের সিংহড়তলি খাল পার হয়ে খাদ্যের সন্ধানে মুন্সীগঞ্জ জেলেপল্লীতে ঢুকে পড়ে। প্রথমেই বাঘটির কবলে পড়েন তারক সরদার (৩২) নামের এক পথচারী। তাকে পেছন থেকে আক্রমণ করার পর ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এ সময়ে এলাকাবাসী বাঘ দেখে জোরে চিৎকার করলে বাঘটি পার্শ্ববর্তী ভূপতি মণ্ডলের বসতবাড়িতে ঢোকে। ওইদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাঘটি ভূপতির ঘরে ঘুমিয়ে থাকা স্ত্রী সীতাকে (৪০) থাবা মারলে তার চিৎকারে শ্বশুর অঘোর মণ্ডল (৮৫) এগিয়ে আসেন। বাঘটি তাকেও আক্রমণ করে। এরা দু’জনই প্রাণ হারানোর পর গোটা এলাকায় বাঘ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সারা রাতে মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে ঘটনাস্থলের অদূরে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি অবলোকন করে। গতকাল ভোরে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এলাকাবাসী জীবনবাজি রেখে বাঘটিকে খুঁজতে থাকে। এ সময় সংবাদ মেলে নরঘাতকটি মাধুপাড়া গ্রামে অবিনাশ মণ্ডলের ৪টি পোষা ছাগল খেয়ে ঘরের চালের ওপর বসে আছে। শত শত গ্রামবাসী তখন বাঘটিকে মোকাবেলা করার জন্য ফাঁস দড়ি ও লাঠিসোটা নিয়ে অবিনাশের বাড়ি ঘিরে কৌশল খুঁজতে থাকে। পরে মোটা ফাঁস দড়ি গলায় পরিয়ে বাঘটিকে ঘরের চালা থেকে নিচে নামানো হয়। এ সময় হরষিত (২৮) নামের এক গ্রামবাসী বাঘের থাবায় আহত হন। পরে এলাকাবাসী এলোপাতাড়ি পিটিয়ে বাঘটিকে হত্যা করে।

মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অসীম কুমার মৃধা এ খবরের সত্যতা স্বীকার করে জানান, মৃত বাঘটিকে বনবিভাগের সদস্যরা কদমতলা ফরেস্ট অফিসে নিয়ে গেছেন। বাঘের থাবায় নিহতদের সৎকার ও আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের এসিএফ রাজেশ চাকমা জানান, কদমতলা অফিসে বাঘটির পোস্টমর্টেম করা হয়েছে। মানুষের রক্তের নেশায় এটি লোকালয়ে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Read more »

June 6, 2008

বন নেই তো প্রাণও নেই

মানুষের সর্বনাশা ছোবলে বারবার বিপর্যস্ত হয়েছে প্রকৃতি, ধ্বংস হয়েছে সবুজ বন আর প্রকৃতির সন্তান বন্য প্রাণীর বসতি। এ ধ্বংসলীলায় আমরাও পিছিয়ে নেই। ফলে এ দেশের প্রকৃতি থেকে একে একে হারিয়ে গেছে গন্ডার, ময়ুরসহ অসংখ্য বন্য প্রাণী। কেউ আবার অস্তিত্ব রক্ষার শেষ সংগ্রামে রত।

বিলুপ্ত বন্য প্রাণী
ময়ুর: ভারতীয় ময়ুরই আমাদের কাছে ময়ুর। অদ্ভুত সুন্দর এ পাখিটির একটি নমুনাও আর এ দেশের প্রকৃতিতে বেঁচে নেই। অথচ ৭০-৮০ বছর আগেও ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর এলাকায় মহানন্দে ঘুরে বেড়াত এরা। বাংলাদেশে সব শেষ ভারতীয় ময়ুর দেখা গেছে আশির দশকের গোড়ার দিকে, ঢাকার শ্রীপুরের শালবনে। চট্টগ্রাম আর পার্বত্য চট্টগ্রামের গহিন অরণ্যে ছিল বর্মি ময়ুরের বাস। সম্ভবত এরাও বিলুপ্ত হয়েছে।
বনগরু: পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম আর সিলেটের অরণ্যগুলোতে একসময় ছিল এদের অবাধ বিচরণক্ষেত্র। কিন্তু মানুষের সর্বনাশা লোভ আর শিকারিদের উৎপাতে আরও অনেক বণ্য প্রাণীর সঙ্গে এরা হারিয়ে গেছে। এখনো মাঝেমধ্যে গারো পাহাড়ের ভারতীয় অংশ থেকে দু-চারটি গৌর পথ ভুলে চলে আসে।
গন্ডার: একসময় বাংলাদেশের জঙ্গলগুলোতেও পরম শান্তিতে ঘুরে বেড়াত গন্ডার। পাঁচ প্রজাতির গন্ডারের মধ্যে তিন প্রজাতির বাস এশিয়ায়, আর এ তিন প্রজাতিই ছিল বাংলাদেশে। একশৃঙ্গ গন্ডার পাওয়া যেত সুন্দরবন, গারো পাহাড়ের পাদদেশ, ময়মনসিংহ ও সিলেটের টিলাঘেঁষা জলাভুমিতে। কুমিল্লার পাহাড়ি এলাকা থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত বনভুমিতে বিচরণ করত দুইশৃঙ্গ গন্ডার। আর জাভাদেশীয় গন্ডারের বিচরণ ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের সাগু-মাতামুহুরী রিজার্ভে।
বারশিঙা: বিশালদেহী এ হরিণের শিঙে ১২-১৪, এমনকি কখনো কখনো ২০টি পর্যন্ত শাখা-প্রশাখা থাকে। একসময় রংপুর, দিনাজপুর, সিলেট, সুন্দরবনসহ দেশের অনেক এলাকায় এদের দেখা যেত। বাংলাদেশে বারশিঙাদের শেষ বিচরণভুমি ছিল সুন্দরবন। ’৫৪-র বন্যার সময়ই সম্ভবত এখান থেকে হারিয়ে যায়।
রাজশকুন: অনেক দিন থেকেই আর এদের চোখে পড়ে না। বাংলাদেশ থেকে যে এরা বিলুপ্ত হয়েছে, এটি এখন প্রায় নিশ্চিত। ’৭০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে এদের অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে।

বিপন্ন বন্য প্রাণী
সাম্বার: বাংলাদেশে যে কয় জাতের হরিণ পাওয়া যায় তার মধ্যে আকৃতিতে সবচেয়ে বড় সাম্বার। এক সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম ও সিলেটের জঙ্গল এবং ময়মনসিংহ আর বৃহত্তর সিলেটের হাওড় এদের প্রচুর দেখা গেলেও শিকারিদের নির্বিচারে হত্যার কারণে অনেক জায়গা থেকেই বিলুপ্ত হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের কাপ্তাইসহ আরও কিছু বন এবং চট্টগ্রাম ও সিলেটের দু-একটি বনেও সম্ভবত অল্পসংখ্যায় হলেও টিকে আছে সাম্বার।
রামকুত্তা: রামকুত্তারা দলবদ্ধভাবে শিকার করে। চিত্রাহরিণ, সাম্বারের মতো শিকারের ওপর অতর্কিত ঝাঁপিয়ে পড়ে জীবিত অবস্থায়ই খুবলে মাংস খেতে শুরু করে। কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান, পাবলাখালী অভয়ারণ্যসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের জঙ্গল ও সিলেটের সীমান্তঘেঁষা অরণ্যগুলোতেও এদের দেখা পাওয়া যায়।
চিতাবাঘ: ঢাকার পাশের মধুপুরেই একসময় দুর্দান্ত প্রতাপে রাজত্ব করে বেড়াত চিতাবাঘ। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে বন ধ্বংস আর মানুষের হিংস্রতার ফলে মধুপুরে এখন আর একটি চিতাবাঘও নেই। রেমা, কালেঙ্গা লাঠিটিলা, রাগনাসহ সিলেট বিভাগের ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা বিভিন্ন বনে সাম্প্রতিক সময়েও চিতাবাঘ দেখেছেন কেউ কেউ। পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম বনগুলোতে এখনো সম্ভবত অল্প সংখ্যায় এরা আছে।
মেঘলা চিতা: বিড়াল গোত্রের এ প্রাণীটির লেজসহ গড় দৈর্ঘ্য ১৯৫ সেমি। ওজন ১৫-২৩ কেজি। নিশাচর আর বৃক্ষচর স্বভাবের কারণে মেঘলা চিতাদের দেখা পাওয়া খুব কঠিন। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামের চন্দনাইশসহ কিছু দুর্গম অরণ্যে এখনো এরা আছে।
সোনালি বিড়াল: সোনালি বিড়াল একসময় বাংলাদেশের চিরসবুজ বনগুলোয় অল্পবিস্তর দেখা গেলেও এখন এদের অস্তিত্ব নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের গভীর জঙ্গলে আর সিলেটের ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা বনগুলোতে এখনো এদের থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
Read more »

লাউয়াছড়া

রো না ল্ড হা ল দা র

এ রকম অল্প জায়গায় এত প্রাণবৈচিত্র্য ভরা বন বাংলাদেশের আর কোথাও চোখে পড়ে না। আধা চিরসবুজ এ বনের কিছু অংশ মানবসৃষ্ট হলেও প্রাকৃতিক বনের অনেক কিছুই এখনো রয়ে গেছে। বর্তমানে এ বনের আয়তন এক হাজার ২৫০ হেক্টর। ১০০ বছর আগে এ বনের পরিধি ছিল আরও অনেক বেশি। লাউয়াছড়ার পাশেই একটি ছোট্ট বন আছে, সাতছড়ি। এটিও আগে লাউয়াছড়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল। পুরো এলাকাতেই ছিল এ রকম বন। বন কেটে চা বাগান করার ফলে পরিধি অনেক কমে যায়। তারই খন্ডবিশেষ হচ্ছে এই লাউয়াছড়া।
প্রাণবৈচিত্র্যের দিক থেকে লাউয়াছড়ার গুরুত্ব অনেক। পাখিই আছে প্রায় ২৪৬ রকমের। এদের মধ্যে কিছু আছে পরিযায়ী পাখি যেগুলো গ্রীষ্ক্নে এখানে আসে, বাসা বাঁধে, ডিম পাড়ে, বাচ্চা ফোটায়। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হুডেড পিটা। আরও আছে ধনেশ, ব্লু পিটা, ব্ল্যাক বাজা, ব্লাইকস বাজা, পেঁচা, মথুরা প্রভৃতি। প্রাকৃতিক বন না হলে এরা থাকবে না।
লাউয়াছড়ায় প্রায় ১৬ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী দেখা যায়। উল্লেখযোগ্য উল্লুক, ভালুক, চশমা পরা হনুমান, পিকটেইল বানর, রেসাস বানর। আরও আছে মায়াহরিণ, সজারু, শুকর, বনবিড়াল। এখানে কাঁকড়া খেয়ে জীবন ধারণ করে এ রকম বিলুপ্তপ্রায় বেজি দেখা যায়। অন্য কোথাও এর দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। লাউয়াছড়ায় তিন ধরনের কাঠবিড়ালি চোখে পড়ে, যা অন্য বনে সচরাচর দেখা যায় না। কালো টুপি হনুমানও এ বনের এক উল্লেখযোগ্য প্রাণী। চশমা পরা হনুমান, কালো টুপি বানর ও উল্লুক−তিনটি প্রাণীই প্রায় বিলুপ্তির পথে।
লাউয়াছড়া ধ্বংস হয়ে গেলে এ ধরনের জীববৈচিত্র্য বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাবে। এ জন্য এ বনটা রক্ষা করা জরুরি। আর প্রাণবৈচিত্র্য আমাদের গচ্ছিত সম্পদ। কোনটা কখন মূল্যবান হয়ে দাঁড়াবে, বলা যায় না। বনমোরগ থেকেই কিন্তু পোলট্রি শিল্পের শুরু। বাজারে যেসব অর্কিড পাওয়া যায়, এদের আদি উৎস লাউয়াছড়ার মতো বন। এখানে অনেক ধরনের অর্কিড পাওয়া যায়। এ বনের বহু ধরনের লতাগুল্ম আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। এখানে এমন অনেক ওষুধি বৃক্ষ আছে, যেগুলোর ওষুধি মূল্য আমরা জানিও না।
সরকার লাউয়াছড়া বনকে সংরক্ষিত ঘোষণা করেছে। একে নিসর্গ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। স্থানীয় গাইডদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, হাঁটার জন্য ট্রেইল করা হয়েছে, আশপাশের মানুষকে বনের সংরক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। সবই ভালো উদ্যোগ। কিন্তু মানুষ নিয়ন্ত্রণে এ প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে। অনেক মানুষ একসঙ্গে ঢুকে বনটিকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। দর্শনার্থীরা যেদিকে ইচ্ছা সেদিকে ঢুকে পড়ছে; খাবারের প্যাকেট, পানির বোতল ও উচ্ছিষ্ট ফেলছে। এসব নিয়ন্ত্রণে কোনো ব্যবস্থা নেই। বন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে যাঁরা আছেন, পর্যটনব্যবস্থাপনায় তাঁদের আরও উদ্যোগী হতে হবে। এত ছোট বনে এত বেশি মানুষ ঢোকার কোনো সুযোগ নেই। প্রবেশমূল্য ধরা হলে হয়তো দর্শনার্থীদের সংখ্যা কমে যাবে। বনের ভেতর পিকনিক নিষিদ্ধ করতে হবে। বাইরে পিকনিক করার জায়গা অনেক আছে। আর দর্শনার্থীরা কোথায় ঢুকতে পারবে, কোথায় পারবে না−এটিও নির্ধারণ করে দিতে হবে।
শেষ পর্যন্ত লাউয়াছড়াকে বাঁচানোর দায়িত্ব কিন্তু বন বিভাগেরই। কিন্তু এখন পর্যন্ত বনের গাছ চুরি রোধ করতে পারেনি তারা। এ জন্য আরও নজরদারি বাড়াতে হবে। বনের চারপাশের অবস্থাও খুব খারাপ। অনেক জায়গায় গাছ কেটে সাফ করে ফেলেছে মানুষ। এসব জায়গায় বন্যপ্রাণীদের উপযোগী দেশি প্রজাতির গাছের চারা লাগাতে হবে। এসব বিষয়ে এখনই সচেতন হলে ১৫-২০ বছরের মাথায় লাউয়াছড়া একটি বড় প্রাকৃতিক সম্পদ হয়ে দাঁড়াবে।
----------
প্রথম আলো। ৬ জুন ২০০৮
Read more »

পার্বত্য চট্টগ্রামের অরণ্য

ফি লি প গা ই ন

একসময় পার্বত্য চট্টগ্রামের পুরোটাই ছিল অরণ্য। নিজেদের প্রয়োজনে এ বনকে তিন ভাগে ভাগ করে ২৪ শতাংশ (প্রায় আট লাখ একর) সংরক্ষিত, এক শতাংশ (প্রায় ৩৫ হাজার একর) রক্ষিত এবং ৭৫ শতাংশকে (প্রায় ২৫ লাখ একর) অশ্রেণীভুক্ত বনভুমি ঘোষণা করে ব্রিটিশরা। পাশাপাশি সংরক্ষিত বনে স্থানীয় মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত করে দেয় তারা। অর্থাৎ ধরন বিভিন্ন হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের পুরোটাই তখন ছিল বন। কাগজেকলমে এখনো পার্বত্য চট্টগ্রামের পুরোটাই অরণ্যভুমি। কিন্তু বাস্তবে তার কতটুকু বন সে প্রশ্ন না তোলাই ভালো। অরণ্যের সামান্যই অবশিষ্ট আছে, অধিকাংশ পাহাড়ই এখন ন্যাড়া।
চিরসবুজ বা আংশিক চিরসবুজ শ্রেণীর এ পাহাড়ি অরণ্যাঞ্চল বাংলাদেশের অন্যান্য বন থেকে একেবারেই আলাদা। এখানকার গাছপালা, পশুপাখি ও অরণ্যচারী মানুষের সঙ্গে বরং আরাকান ও পূর্ব এশিয়ার দারুণ মিল। এ বনাঞ্চলের জারুল, গামার, গর্জন, চাপালিশ, টুন, কড়ই, সিভিট, চম্পা, শিমুল, চান্দুল প্রভৃতি গাছ উচ্চতায় বিশাল। আর বাঁশ তো স্থানীয় মানুষের আবাসন ও জীবন-জীবিকার অন্যতম উপকরণ।
এ অঞ্চলের জীবজগৎও বিশেষত্বপূর্ণ। একসময় অরণ্যের সর্বত্র দেখা যেত বাইসন, সাম্বার, বার্কিং ডিয়ার, লেপার্ড, বেঙ্গল টাইগার ও প্যান্থার। সেসবের অধিকাংশই এখন আর দেখা যায় না। টিকে আছে শুধু বিশালকায় বন্য হাতি।
যখন অরণ্য ছিল তখন অরণ্যচারী পাহাড়ি মানুষ জুমিয়াদেরও জীবনে সুখ ছিল, ছিল শান্তি। তখন জুমচাষই ছিল পাহাড়িদের একমাত্র চাষপদ্ধতি। পাহাড়ে ফসল উৎপাদনের জন্য এই চাষপদ্ধতি মানানসই।
বাইরে থেকে আসা মানুষের হস্তক্ষেপ ক্রমাগত পার্বত্য চট্টগ্রামের অরণ্য ও অরণ্যচারী জাতিগোষ্ঠীর জন্য হয়ে ওঠে হুমকি। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং কর্ণফুলী পেপার মিল স্থাপনের মতো উন্নয়ন প্রকল্প দিয়ে শুরু পার্বত্য চট্টগ্রামের বনবিনাশের বড় আয়োজন। ষাটের দশকে নেওয়া এসব প্রকল্প কেবল পার্বত্য চট্টগ্রামের বিরাট অংশের অরণ্যই ধ্বংস করেনি, পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীগুলোর সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনেও ফেলেছে সুদুরপ্রসারী প্রভাব। তবে বিশাল এ উন্নয়ন প্রকল্প দুটোর শতাধিক বছর আগে থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রামে শুরু হয় সেগুনের চাষ। সেগুন মূল্যবান কিন্তু পরিবেশে বার্মা থেকে এনে চাষ করা সেগুনের প্রতিকুল প্রতিক্রিয়া অস্বীকার করার উপায় নেই। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি প্রজাতি দিয়ে কৃত্রিম বনায়ন করা হচ্ছে। ১৯৫৭ সালে শুরু হওয়া পরীক্ষামূলক রাবার চাষ পরে পার্বত্য চট্টগ্রামের নানা এলাকায় সম্প্রসারিত হয়েছে। বাংলাদেশ ফরেস্ট ইন্ডাস্ট্রিজ ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে পার্বত্য চট্টগ্রামের হাজার চল্লিশেক একর জমিতে হয়েছে রাবার চাষ। এসব জায়গার অধিকাংশই ছিল পাহাড়িদের জুমচাষের জমি অথবা প্রাকৃতিক অরণ্য।
পার্বত্য বনের আরেক শত্রু পাল্পউড প্লান্টেশন। কর্ণফুলী পেপার মিলের কাঁচামাল উৎপাদনের জন্য ১৯৭৮ ও ১৯৮২ সালে রাঙামাটি ও বান্দরবানে বসানো হয়েছে দুটি পাল্পউড ডিভিশন। ডিভিশন দুটির আয়তন প্রায় সোয়া তিন লাখ একর। এখানে চাষ করা গাছ চলে যায় কর্ণফুলী পেপার মিলে। এতে যে শুধু পাহাড়িদের জুমের জমিই চলে যাচ্ছে তা নয়, পরিবেশে এর প্রতিক্রিয়াও বিরূপ। বিদেশি প্রজাতির গাছ চাষ করে নির্দিষ্ট সময় পরপর কেটে ফেললে পাল্পউড চাষের জায়গায় আর অরণ্য থাকে না।
তামাক চাষও বনবিনাশের আরেকটি কারণ। তামাক শুকাতে যে বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়াতে হয় তার একটি বড় অংশ আসে বন থেকে।
উন্নয়ন প্রকল্প, বহিরাগত মানুষের চাপ, বিদেশি প্রজাতির আগ্রাসন ইত্যাদি কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম তার অরণ্য-ঐতিহ্য হারিয়েছে। অবশিষ্ট যতটুকু আছে তা বিক্ষিপ্ত ও বিপন্ন। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিপন্ন অরণ্য, বিলুপ্ত প্রাণসম্পদ ও ক্ষুদ্র আদিবাসী জাতিসত্তাগুলোকে বাঁচানোর জন্য রাষ্ট্রীয় সঠিক নীতি-কৌশলের বিকল্প নেই।
-----------
প্রথম আলো ৬ জুন ২০০৮
Read more »

প্রজননকেন্দ্রেও নিরাপদে নেই বন্য প্রাণীরা


ইফতেখার মাহমুদ ও কামনাশীষ শেখর

টাঙ্গাইলের মধুপুর বনের অর্ধেকেরও বেশি এলাকা ঘুরে একটি সাপ ও হাতে গোনা কিছু পাখি ছাড়া ভিন্ন কোনো প্রাণীর দেখা মেলেনি। বড় কোনো দুর্যোগ ছাড়া সাধারণত বড় বনে এ ধরনের পরিস্িথতি হয় না। প্রাকৃতিক কারণে নয়, মানুষের জন্যই মধুপুর বন বন্য প্রাণীদের জন্য দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। এ বনের বেশির ভাগ প্রাণীই এখন বনছাড়া। তবে বনের ভেতরের গারোদের গ্রামের পাশে মহিষ, গরু ও শুকরের পাল চড়ে বেড়াতে দেখা গেছে। এগুলো গৃহপালিত।
তবে গত বুধবার দুপুরে বন্য প্রাণী প্রজননকেন্দ্রের আশপাশে দেখা মিলল দুর্লভ প্রাণী মুখপোড়া হনুমান ও লালমুখো বানরের। কেন্দ্রে বন্দী ৫১টি মায়া হরিণের দুই-তিনটি চোখে পড়ল। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার−আইইউসিএনের বিপদাপন্ন প্রাণীদের তালিকায় এই প্রাণী তিনটির নাম আছে। সংরক্ষণের উদ্যোগ না থাকায় বাংলাদেশে এরা বিলুপ্তির পথে। বিশ্বের অনেক দেশই এই প্রাণীগুলো রক্ষায় উদ্যোগ নিয়েছে।
স্থানীয়রা জানাল, প্রাকৃতিক শালবন ধ্বংস করে কৃত্রিম আকাশমণি বাগান সৃষ্টি করায় প্রাণীদের খাদ্য-সংকট সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি বনের ভেতর দিয়ে মহাসড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করায় তা প্রাণীদের বসবাসের উপযোগিতা হারিয়েছে।
বনের লহুরি এলাকায় একটি বন্য প্রাণী প্রজননকেন্দ্র আছে। নামে প্রজননকেন্দ্র হলেও সেখানে প্রাণীদের প্রজনন থেমে আছে। কেন্দ্রের কাঁটাতার দেওয়া উদ্যানে ৫১টি হরিণ আছে। ১০ বছর ধরে এ সংখ্যা কমছেও না, বাড়ছেও না। মধুপুরে সহকারী বনরক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, বন বিভাগের এমন একজন কর্মকর্তা জানান, ১৯৯৯ সালে সেখানে হরিণের সংখ্যা ছিল ৫২। এখন আছে ৫১টি। কারণ জানতে চাইলে বন কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, হরিণ বাচ্চা দিলেই বাগডাশ এসে খেয়ে ফেলে। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এখানকার বন্য প্রাণীর সংখ্যা একই আছে বলে স্বীকার করেন তিনি।
বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের প্রধান ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ বলেন, তাঁর বিভাগ এখনো মধুপুর বনে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। কোনো প্রকল্প পাওয়া গেলে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বন থেকে হারিয়ে যেতে বসা দুর্লভ প্রাণী লালমুখো বানর ও মুখপোড়া হনুমান শুধু এই প্রজননকেন্দ্রে গেলেই দেখা মিলবে। কিন্তু এদের রক্ষায় উদ্যোগ নেই বললেই চলে। পর্যটকেরা এদের খাবার দেয়। তবে এসব খাবার খেয়ে প্রায়শই প্রাণীরা নানা রোগে আক্রান্ত হয়। কিন্তু কেন্দ্রে কোনো বন্য প্রাণী চিকিৎসক নেই।
৪৪ একর জমির ওপর স্থাপিত এই কেন্দ্রে কাগজে-কলমে ৫০টি বানর ও ১৫০টি হনুমান আছে। কেন্দ্রটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন একজন বনকর্মী ও তিনজন বনরক্ষী।
বনের লহুরিতে একসঙ্গে মুখপোড়া হনুমান ও লালমুখো বানর দেখা গেল। লম্বা শালগাছের মগডালে বসে লেজ নাড়াচ্ছিল মুখপোড়া হনুমানটি। নিচে বসে ছিল তিনটি লালমুখো বানর। সঙ্গীসাথি ছিল ধুসর রঙের একপাল বানর। শরীরের চেয়ে লেজ বড়।
বনের পার্শ্ববর্তী জলছত্র গ্রামে থাকেন এন্থনি মাং সাং। বাড়ির পাশে বেশকিছু ফল ও ঔষধি গাছের বাগান করেছেন। তবে ফল পাকার আগেই বানর ও হনুমানের পেটে চলে যায়। বনে পর্যাপ্ত খাবার থাকায় আগে এরা গারোদের গ্রামে আসত না। বানর ও হনুমানের দল রাস্তার পাশে গাছে গাছে দোল খেত। বনের সামান্য ভেতরে গেলেই দেখা মিলত হরেক প্রজাতির সাপ, মেছো বাঘ, মায়া হরিণ, মার্বেল বিড়ালসহ নানা জাতের প্রাণীর।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি−বেলার সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, মধুপুর বন এলাকায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষের বসতি আছে। তারা বনের ১৩ হাজার ৭১৮ একর ভুমি ব্যবহার করছে। ফলে বনের স্বাভাবিক পরিবেশ বিপন্ন হচ্ছে। শালবন ধ্বংস ও কৃত্রিম বাগান সৃষ্টি করায় বন থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদ হারিয়ে যাচ্ছে।
বেলার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রেজোয়ানা হাসান প্রথম আলোকে বলেন, বনের ওপর নির্ভরশীল আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে অংশীদারির ভিত্তিতে বন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুললে এটি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেত।
গত বছর বেসরকারি গবেষণা সংস্থা বারসিকের গবেষক পাভেল পার্থ মান্দিদের বননির্ভর অভিজ্ঞতায় প্রাকৃতিক শালবনের উদ্ভিদবৈচিত্র্য মূল্যায়ন ও রাষ্ট্রের উদ্যোগ বিষয়ে গবেষণা করেন। শালবনের ১০২টি বৃক্ষের ওপর জরিপ চালিয়ে তিনি দেখতে পেয়েছেন ২৯ প্রজাতির গাছ মানুষের খাদ্য, ৩০টি ঘর, তৈজস ও আসবাবপত্র নির্মাণ এবং ২০টি বন্য ও গৃহপালিত প্রাণীর খাবার হিসেবে ব্যবহূত হতো। শালবন ধ্বংস হওয়ায় মানুষের পাশাপাশি বন্য প্রাণীরাও খাদ্য-সংকটে পড়ছে। বিলুপ্ত হচ্ছে অনেক প্রজাতি।
পাভেল পার্থ প্রথম আলোকে বলেন, মস, ফার্ন, ছত্রাক, গুল্ম, শৈবাল, পরাশ্রয়ী লতা, ঔষধি গাছসহ শালবনের প্রায় ৩০০ প্রজাতি এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এগুলোর ওপর নির্ভরশীল বন্য প্রাণীও এখন বিলুপ্তির পথে।

সূত্র : প্রথম আলো ৬ জুন ২০০৮
Read more »

May 31, 2008

লোকালয়ে আরেকটি লজ্জাবতী বানর

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজসংলগ্ন আবাসিক এলাকা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আরেকটি লজ্জাবতী বানর উদ্ধার করা হয়েছে। কলেজ সড়কের বাসিন্দা এ এস এম কিবরিয়ার বাড়িতে বানরটি দেখতে পেয়ে ওই বাড়ির গৃহকর্মী ও এলাকাবাসী মিলে বানরটিকে আটক করে। পরে এটিকে পশুপাখিপ্রেমী সিতেশ রঞ্জন দেবের চিড়িয়াখানায় হস্তান্তর করা হয়।
সিতেশ রঞ্জন দেব বলেন, ‘শুধু এই লজ্জাবতী বানরই নয়, গত কয়েক দিনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান থেকে কাক, ধনেশ, গন্ধগোকুল, মেছো বাঘ লোকালয়ে এসে ধরা পড়েছে। উদ্যানে জীবজন্তুর খাবারের অভাব। তাই তারা খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান আগে লাল ডুমুর, পিপিড় ফল, কাউফল, ভুবি, লটকন, লক্ষ্মী আম−এসব ফলগাছে ভরা ছিল। কিন্তু এখন এসব গাছের বড্ড অভাব। বনে খাদ্যের জোগান দিতে না পারলে সেখানে পশুপাখি থাকবে না।’
বন বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, লাউয়াছড়ায় আগে কী পরিমাণ ফলগাছ ছিল, সে তথ্য তাঁর জানা নেই। তবে উদ্যানে বন বিভাগ ফলগাছ রোপণ করেছে এবং এখনো করছে।
লোকালয়ে লজ্জাবতী বানরের চলে যাওয়া প্রসঙ্গে ওই কর্মকর্তা বলেন, লাউয়াছড়া বনাঞ্চলে বাঁশে ফুল গজানোয় বাঁশঝাড়গুলো মরে গেছে। বাঁশঝাড়গুলো ছিল লজ্জাবতী বানরের আশ্রয়স্থল। আশ্রয়স্থল ধ্বংস হওয়ায় বানরগুলো লোকালয়ে চলে যেতে পারে।
এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাড়াউড়া গ্রামের বাসিন্দা অনু মিয়ার বাড়িতে একটি লজ্জাবতী বানর আটক করা হয়। বানরটি উদ্ধার করে সিতেশ রঞ্জন দেব তাঁর চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসেন।
<> প্রথম আলো। ৩০ মে ২০০৮
Read more »

May 24, 2008

মৌলভীবাজারের অভয়ারণ্যে হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য

সমকাল। ২২ মে ২০০৮
ম হাসানাত কামাল, মৌলভীবাজার

দেশের অন্যতম পাহাড়ি অঞ্চল মৌলভীবাজারের অর্ধেকেরও বেশি এলাকা জুড়ে বন আর ঝোপ-জঙ্গলে আবৃত। রয়েছে হাকালুকি, হাইল, কাউয়াদীঘি হাওরসহ ছোট-বড় নানা হাওর ও বিল, ডোবা, নদীনালা। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন, হাওর ও বিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পশুপাখির জন্য গড়েছে নিরাপদ আশ্রয়। কিন্তু মানবসৃষ্ট নানা সমস্যায় জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। বন উজাড়, পশুপাখির খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত উদ্ভিদ ধ্বংস, বন দিয়ে প্রবাহিত ছড়াগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় বনের পশুপাখিদের চরম খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে খাবারের সন্ধানে বন থেকে মেছোবাঘ, হরিণ, বনমোরগ, বানর, সাপ লোকালয়ে বেরিয়ে আসছে। মানুষের হাতে ধরা পড়ছে অনেক। আর রাস্তা পারাপারের সময় গাড়ির চাপায় পিস্ট হয়ে মারা যাচ্ছে অনেক প্রাণী। এদিকে দেশের অন্যতম রেইন ফরেষ্ট লাউয়াছড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চল এক সময় উদ্ভিদ ও পশুপাখির জন্য অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু মার্কিন তেল-গ্যাস কোম্পানি শেভরনের ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও গাছচোরদের গাছ উজাড়ের কারণে লাউয়াছড়ার বনাঞ্চল বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে। বন থেকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আসা পশুপাখিগুলো বিপন্ন হয়ে পড়ছে। ভূতাত্ত্বিক জরিপের বিস্ফোরণে মাইক্রো-ব্যাকটেরিয়া ও অণুজীব ধ্বংস হয়েছে আর বাকিরা হুমকির মুখে। ফুডচেইন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৯৯৭ সালের জুন মাসে মাগুরছড়া বিস্ফোরণের ঘটনায় লাউয়াছড়া, কালাছড়া ও মাগুরছড়াসহ আশপাশের বনাঞ্চলের প্রাণীকূল মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন বিভাগ, বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ, প্রাণীবিদ ও পরিবেশবিদরা সমকালের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্যগুলো জানান।
এদিকে প্রাণী সংরক্ষণবিদ সীতেশ রঞ্জন দেবনাথ জানান, লাউয়াছড়ার বনজুড়ে শেভরন লাল, নীল তার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখেছে। নানা রঙ-বৈচিত্র্যের পোশাক পরে বনে কর্মীরা কাজ করছে। আশপাশে নিরাপদ আশ্রয় না থাকায় এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে একরাতে বন্যপ্রাণীগুলো লাউয়াছড়া বন ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এদের মধ্যে হয়তো বেশকিছু মারা পড়ছে। আর কিছু আশ্রয় খুঁজে পেয়েছে।
সম্প্রতি লাউয়াছড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চল, জুড়ী, বড়লেখা, কুলাউড়া, কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, রাজনগর ও সদরের বিভিন্ন স্থান থেকে মেছোবাঘ, হরিণ ও বিভিন্ন প্রজাতির সাপ বেরিয়ে এসে ধরা পড়ছে।
জানা গেছে, গত ৭ মে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর শেভরনের বিস্ফোরিত স্থানে আতঙ্কিত হয়ে পালাতে গিয়ে বিদ্যুতের ৩৩ কেভি লাইনে পড়ে একটি বিরল প্রজাতির চশমাপড়া হনুমান মারা যায়। সম্প্রতি মৌলভীবাজার শহরতলির নিদিরমহল গ্রামের মোঃ জিলাদ মিয়ার বাড়ি থেকে প্রায় ৩ ফুট লম্বা একটি মেছোবাঘ আটক করা হয়েছে। পরে বাঘটি অবমুক্ত করা হয়। বড়লেখা উপজেলায় জনতার হাতে ১ টি মেছোবাঘকে আটক করা হলে পরে বন বিভাগ উদ্ধার করে মাধবকুণ্ড পার্কে অবমুক্ত করে দেয়। ১১ মে শ্রীমঙ্গল উপজেলার রুস্তমপুর গ্রামে রোববার কৃষকদের হাতে একটি মেছোবাঘ ধরা পড়ে। এরপর বাঘটিকে নিয়ে আসা হয় শ্রীমঙ্গলের প্রাণী সংরক্ষণবিদ ও পরিবেশবিদ সীতেশ রঞ্জন দেবের মিনি চিড়িয়াখানায়।
জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের পূর্বশিলুয়া গ্রামে গত ১৭ জানুয়ারি লোকজন একটি হরিণ শিকার করে মাংস ভাগ-বাটোয়ারা করার সময় পুলিশ, বিডিআর এবং বন বিভাগের লোকজন তা উদ্ধার করে মাটিতে পুঁতে ফেলে। জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভবানীপুর গ্রামে লোকজনের হাতে একটি হরিণ ধরা পড়ে। বন বিভাগের হস্তক্ষেপে হরিণটিকে মাংসলোভীদের কবল থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এদিকে গত মার্চ মাসে শ্রীমঙ্গলের কালাছড়ায় একটি উল্লুককে পিঠিয়ে মারা হয় বলে জানা গেছে। বন বিভাগ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিদ সীতেশ রঞ্জন দেবনাথ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ বছরে কমপক্ষে ২০০ বন্যপ্রাণী ধরা পড়েছে। এর মধ্যে মেছোবাঘ ১০০টি, লজ্জাবতী বানর ১০টি, বানর ১০টি, অজগর ৭/৮টি, মায়া হরিণ ৭টি, খাটাশ ৭টি, গন্ধগোকুল ৩টি, গুঁইসাপ ৪টি। এগুলোকে উদ্ধর করে পরবর্তীতে সেবা দিয়ে লাউয়াছড়া বনে ছাড়া হয়েছে। এছাড়াও কমপক্ষে ৫০০টি বন মোরগ ধরা পড়েছে। জানা গেছে, মাগুরছড়া গ্যাস বিস্ফোরণের কারণে লাউয়াছড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বিভিন্ন ছড়ার পানি শুকিয়ে যায়। টিলার মাটি ধসে ছড়াগুলো ভরাট হয়ে যায়। ফলে ছড়ায় বসবাসকারী কাঁকড়া, চিংড়ি, গিরগিট, গুঁইসাপ, কেঁচো, শামুক, টাকি মাছ ইত্যাদি মারা যায়। এসব জলজ প্রাণী মেছোবাঘসহ অন্যান্য প্রাণীর খাদ্য। অন্যদিকে বনের ভেতর ডুমুর, বেলম, পিঁপড়, বন তেঁতুল প্রভৃতি উদ্ভিদ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় বনের খাদ্য সংকট প্রবল হয়ে পড়েছে।
বন বিভাগ ও নিসর্গ সূত্রে জানা গেছে, ১ হাজার ২৫০ হেক্টর জায়গার ওপর ১৯৯৬ সালে স্থাপিত হয় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। এর মধ্যে নিসর্গ প্রকল্পের অধীনে লাউয়াছড়ায় ৩ হাজার একর জায়গা রয়েছে। এতে রয়েছে, ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ২৪৬ প্রজাতির পাখি। বন্যপ্রাণীর মধ্যে রয়েছে- শতাধিক প্রজাতির মাকড়সা, বিরল প্রজাতির পাখি, চশমা পরা বানর, নানা প্রজাতির বানর, বন মোরগ, কাঁকড়া, মেছোবাঘসহ বিশ্বের বিলুপ্ত প্রায় প্রাণী উল্লুক, মুখপোড়া হনুমান, মায়া হরিণ, লজ্জাবতী বানর, সাদা বাঘ, খাটোলেজি বানর, হনুমান, কাঠবিড়ালি, সাপ, প্রজাপতি, বিভিন্ন কীটপতঙ্গ ও পোকামাকড়, বন্য শহৃকর, গিরগিটি, মার্টেন, গন্ধগোকুল প্রভৃতি। প্রধান উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে চাপালিশ, সিভিট, ডুমুর, জাম, সেগুন, তেলসুর, বাটনা, আওয়াল, কনক, বনাক, রাতা, লোহাকাঠ, জারুল, আমলকি, উদল, রক্তন, লটকন, গামার, বাঁশ ইত্যাদি। এদিকে পরিবেশবিদ ও গবেষকরা বলেছেন, এখানে ৪০০ প্রজাতির পশুপাখি ছিল। কিন্তু শেভরনের ভূতাত্ত্বিক জরিপের কারণে এগুলো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
সম্প্রতি লাউয়াছড়া বনে আসা মার্কিন বন্যপ্রাণী গবেষক ড. এলিয়ট হাইমফ জানান, পৃথিবীর ৭টি বনে হাতেগোনা কিছু উল্লুক আছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের লাউয়াছড়া বনে ১৪টি পরিবারে বিভক্ত হয়ে ৫৭টি উল্লুক বিচরণ করে। দিনদিন বন উজাড় হয়ে যাওয়ায় এবং মানুষের তাড়া খেয়ে উল্লুকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি।
শ্রীমঙ্গলের প্রাণী সংরক্ষণবিদ ও পরিবেশবিদ সীতেশ রঞ্জন দেব বলেন, ‘মেছোবাঘ প্রাণভয়ে পালাতে কিংবা খাদ্য অন্বেষণে লোকালয়ে আসতে ট্রাকের নিচে পৃষ্ট হয়ে মারা যায়। এর চেয়ে যন্ত্রণা আর কিছু হতে পারে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘গাছ উজাড় ও খাদ্য সংকটের কারণে বন্যপ্রাণীগুলো বিপন্ন হয়ে পড়েছে।’
এদিকে পরিবেশ অধিদফতর সিলেট কার্যালয়ের উপ-বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ শিবলী জানান, হাকালুকি হাওরে রয়েছে পৃথিবীর বিরল প্রজাতির মাখনাসহ নানা প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ ও বন্যপ্রাণী। হাকালুকি ও হাইল হাওরসহ জেলার বিভিন্ন বিল, ডোবা ও পাহাড়ি লেকে প্রতিবছর অসংখ্য পরিযায়ী পাখি আসে। হাকালুকিতে রয়েছে নানা জাতের মাছ। এছাড়া আমাদের অরণ্যে রয়েছে নাম জানা অজানা অসংখ্য প্রাণী ও উদ্ভিদ। সবাই মিলে এগুলোকে এ জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে।
Read more »

May 10, 2008

হারিয়ে যাচ্ছে উল্লুক: দুই দশকে তিন হাজার থেকে কমে ৩০০

মঈনুল হক চৌধুরী
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

ঢাকা, এপ্রিল ৩০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- দেশের ১০ প্রজাতির বানরের মধ্যে ৮টিই কোনো না কোনোভাবে হুমকির সম্মুখীন। এদের মধ্যে সবচেয়ে বিপন্ন উল্লুক। আকার, আকৃতি ও আচরণের কারণে সহজে দৃষ্টি কাড়ে গোরিলা কিংবা শিম্পাঞ্জির মতো দেখতে লেজহীন এই উল্লুক। তবে আশঙ্কার বিষয়- উপযুক্ত আশ্রয় ও খাদ্যাভাবে বাংলাদেশে মহাবিপন্ন প্রজাতির তালিকায় থাকা উল্লুকের টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। গত দুই দশকে এর সংখ্যা তিন হাজার থেকে কমে নেমে এসেছে ৩০০-এ।

বন্যপ্রাণীবিদদের মতে, বিশ্বব্যাপী বিপন্নপ্রায় উল্লুক বাংলাদেশে মহাবিপন্ন প্রজাতি হিসাবে চিহ্নিত। ক্রমশ এদের আবাসস্থল বিলুপ্ত হয়ে পড়ায় বানরপ্রজাতির মধ্যে সবগুলোই কোনো না কোনোভাবে হুমকির সম্মুখীন।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী ট্রাস্ট (ডব্লিউটিবি)- এর নির্বাহী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটককমকে জানান, গত ২০ বছরে বাংলাদেশের উল্লুকের সংখ্যা তিন হাজার থেকে কমে ৩০০-এ নেমে এসেছে।

ডব্লিউটিবি এর তথ্যমতে, বাংলাদেশেরর উত্তর-পূর্ব (বৃহত্তর সিলেট) ও দক্ষিণ-পূর্ব (চট্টগ্রাম-পার্বত্য চট্টগ্রাম) এলাকার বন ছাড়াও ভারত (উত্তর-পূর্বাংশ), মিয়ানমার (পশ্চিমাংশ) এবং চীনে উল্লুক দেখা যায়। উল্লুক প্রামেটস্ গ্র"পের একটি হলো লেজার এপ, অন্যটি গ্রেটার এপ। আর এই গ্রেটার এপ-এর আওতায় রয়েছে শিম্পাঞ্জি, গরিলা, ওরাং।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বনাঞ্চল ধ্বংসের সঙ্গে সঙ্গে বন্যপ্রাণীর বড় অংশই বিলুপ্তির পথে। খাদ্য ও আশ্রয়ের জন্য উল্লুক সম্পূর্ণভাবে বৃক্ষের উপর নির্ভরশীল। উল্লুক যে বনভূমিতে বাস করে তার কোনো অংশ বৃক্ষহীন হয়ে পড়লেই এদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়।

অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, বন স�প্রসারণে বৃক্ষচারী উল্লুকের ভূমিকা অপরিসীম।

বাংলাদেশে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান উল্লুকের অন্যতম আবাস। এছাড়া সিলেটের বড়লেখা, লাঠিটিলা, সাগরনাল, গাজীপুর টি স্টেট, চাউতলি, আদমপুর, হরিণছড়া, রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের দিঘিনালা, বাঘাইছড়ি (সাজেক, শিজক), পাবলাখালী অভয়ারণ্য, করেরখাট, হাজারিখিল অভয়ারণ্য, বাইশারি, ব্যাঙডোবা, কর্ণফুলী, রামপাহাড় (কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান), রামু, থানচি, সাতঘর, ফাসিয়াখালী, দোপাছড়ি, সাঙ্গু, আলিকদম, রাজঘাট, ভোমারিয়াঘোনা, হিমছড়ি জাতীয় উদ্যান, ইনানি, উখিয়া (থানখালি), টেকনাফ ও আপার রিজু এলাকায় উল্লুক দেখা যায়।

বাংলাদেশে টিকে থাকা উল্লুকের মধ্যে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রায় অর্ধশত এবং কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে ৮০-৯০টি উল্লুক রয়েছে বলেও জানান আনোয়ারুল ইসলাম। তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী কোম্পানি শেভরন ত্রিমাত্রিক ভূতাত্ত্বিক জরিপ কাজ শুরু করায় সেখানকার জীববৈচিত্রে অচিরেই এর প্রভাব পড়বে বলেও মনে করেন তিনি।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব কনজারভেশন নেচার (আইইউসিএন)-এর আবাসিক প্রতিনিধি ড. আইনুন নিশাত বলেন, "আবাসস্থল ধ্বংস ও খাদ্যাভাবে প্রায় সব রকম বন্যপ্রাণীর জীবন এখন হুমকির মুখে। বেশ কিছু দুর্লভ প্রাণী ও বিপন্ন প্রজাতির আবাসস্থল হিসাবে সংরক্ষিত বনকে বিরক্ত না করলেই ভলো।"
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)-এর চেয়ারম্যান আবু নাসের খান জানান, তিন হাজার চার শ' একর আয়তনের লাউয়াছড়া সংরক্ষিত জাতীয় উদ্যানে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, চার শ' প্রজাতির জীবজন্তু রয়েছে। এরমধ্যে ২৪৩ প্রজাতির পাখি, ১০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী ও উভচর প্রাণী, ১৭ প্রজাতির পোকামাকড়।

পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে �প্রতি প্রকাশিত দেশের 'পরিবেশচিত্রে' বলা হয়, বাংলাদেশে বিদ্যমান ১০ হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ, প্রাণী ও অনুজীবের মধ্যে বেশিরভাগই হুমকির সম্মুখীন।

ডব্লিউটিবি এর তথ্যমতে, দেশের প্রায় সোয়া ৯ শ' প্রজাতির বন্যপ্রাণীর মধ্যে দেড় শ' প্রজাতিই বিলুপ্তির পথে। স্তন্যপায়ী, পাখি, উভচর ও সরীসৃপ প্রজাতির এসব বন্যপ্রাণীর বেশিরভাগ এখন অতিবিপন্ন, বিপন্ন ও ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায়। এছাড়া প্রায় আড়াই শ' প্রজাতির বন্যপ্রাণীর সঠিক অবস্থান সম্পর্কে রয়েছে যথার্থ তথ্যপ্রমাণের অভাব।

গবেষণায় পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, দেশের ১০ প্রজাতির বানরের মধ্যে ৮ প্রজাতি কোনো না কোনোভাবে হুমকির মুখে। অন্য সব বন্যপ্রাণীর মধ্যে উল্লুকের আকার, আকৃতি ও আচরণে বেশ উন্নত হওয়ায় সহজে মানুষের দৃষ্টি কাড়ে গোরিলা, শিম্পাঞ্জির মতো দেখতে লেজহীন এই উল্লুক। খাদ্যের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ফল ও ডুমুর খায় উল্লুক। তবে কচিপাতা, ফুল, পোকামাকড়ও এদের অনেক প্রিয়। সকালের দিকে হা-হু শব্দ করে দলগত অবস্থান জানান দেয় এরা। বাচ্চা দেয় দুই তিন বছর পরপর। শীত ঋতুতে। বাচ্চা উল্লুকের রঙ দুধের মতো সাদা। ছয় মাসের মধ্যেই রঙ বদলে হয়ে যায় কালো। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে (৬/৭ বছর) পুরুষ কালোই থেকে যায়। আর স্ত্রী উল্লুক হলুদাভ বর্ণ ধারণ করে।

অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, "উল্লুকের আবাসভূমি রক্ষায় জাতীয় উল্লুক সংরক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন জরুরি। তাছাড়া সংরক্ষিত এলাকায় বন্যপ্রাণী ধরা, মারা, শিকার করা বা শিকারের চেষ্টা করাও দণ্ডনীয় অপরাধ- এ ব্যাপারে জন সচেতনতা বাড়াতে পদক্ষেপ নিতে হবে।"

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমএইচসি/এএল/এমএ/১৮৫৮ ঘ.
Read more »

February 6, 2008

শ্রীমঙ্গলে বিস্ময়কর সাদা বাঘ


সাদা বাঘ। বিরল প্রজাতির বাঘ। দেশের অন্য কোনও স্থানে বা চিড়িয়াখানায় এ প্রজাতির সাদা বাঘ আছে কি না জানা নেই। তবে শ্রীমঙ্গল শহরের রামকৃষ্ণ মিশন রোডস্থ প্রাণী ও পরিবেশবিদ সিতেশ দেব’র মিনি চিড়িয়াখানায় বিরল এ সাদা বাঘটি আপনি দেখতে পাবেন। আজ থেকে প্রায় ২ বছর আগে ৬ মাস বয়সী এ সাদা বাঘটি শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরে জেলেদের জালে ধরা পড়ে। সিতেশ দেব খবর পেয়ে সাদা বাঘটি সংগ্রহ করে তার মিনি চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসেন।

বর্তমানে সাদা বাঘটি লম্বায় ৪ ফুট, উচ্চতা আড়াই ফুট এবং ওজন ৩৫ কেজি। অত্যন্ত হিংস্র এ সাদা বাঘটি মাংস ছাড়া অন্য কোনও খাবার গ্রহণ করে না। প্রতিদিন বাঘটি দেড় কেজি মুরগির মাংস খেয়ে থাকে। এ বাঘের সবচে’ আশ্চর্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে· প্রতি মুহূর্তে এর চোখের রঙ বদলায়। কিছুক্ষণ পর পর এর চোখ লাল, হলুদ, সাদা ও কমলা রঙ ধারণ করে।

সাদা বাঘটি দেখতে এখানে প্রতিদিন প্রচুর দর্শনার্থীর ভিড় জমে। ড. মো. আলী রেজা খানের ‘বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী’ ও ‘দ্য বুক অব ইন্ডিয়ান এনিমেল’সহ বেশ কিছু প্রাণীবিষয়ক বই খোঁজাখুঁজি করেও সাদা বাঘ সম্পর্কে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।

লেখা ও ছবির সূত্র: দৈনিক আজকের কাগজ, জুলাই ৫, ২০০৭
Read more »