Showing posts with label Ecopark. Show all posts
Showing posts with label Ecopark. Show all posts

May 24, 2008

মৌলভীবাজারের অভয়ারণ্যে হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য

সমকাল। ২২ মে ২০০৮
ম হাসানাত কামাল, মৌলভীবাজার

দেশের অন্যতম পাহাড়ি অঞ্চল মৌলভীবাজারের অর্ধেকেরও বেশি এলাকা জুড়ে বন আর ঝোপ-জঙ্গলে আবৃত। রয়েছে হাকালুকি, হাইল, কাউয়াদীঘি হাওরসহ ছোট-বড় নানা হাওর ও বিল, ডোবা, নদীনালা। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন, হাওর ও বিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পশুপাখির জন্য গড়েছে নিরাপদ আশ্রয়। কিন্তু মানবসৃষ্ট নানা সমস্যায় জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। বন উজাড়, পশুপাখির খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত উদ্ভিদ ধ্বংস, বন দিয়ে প্রবাহিত ছড়াগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় বনের পশুপাখিদের চরম খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে খাবারের সন্ধানে বন থেকে মেছোবাঘ, হরিণ, বনমোরগ, বানর, সাপ লোকালয়ে বেরিয়ে আসছে। মানুষের হাতে ধরা পড়ছে অনেক। আর রাস্তা পারাপারের সময় গাড়ির চাপায় পিস্ট হয়ে মারা যাচ্ছে অনেক প্রাণী। এদিকে দেশের অন্যতম রেইন ফরেষ্ট লাউয়াছড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চল এক সময় উদ্ভিদ ও পশুপাখির জন্য অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু মার্কিন তেল-গ্যাস কোম্পানি শেভরনের ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও গাছচোরদের গাছ উজাড়ের কারণে লাউয়াছড়ার বনাঞ্চল বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে। বন থেকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আসা পশুপাখিগুলো বিপন্ন হয়ে পড়ছে। ভূতাত্ত্বিক জরিপের বিস্ফোরণে মাইক্রো-ব্যাকটেরিয়া ও অণুজীব ধ্বংস হয়েছে আর বাকিরা হুমকির মুখে। ফুডচেইন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৯৯৭ সালের জুন মাসে মাগুরছড়া বিস্ফোরণের ঘটনায় লাউয়াছড়া, কালাছড়া ও মাগুরছড়াসহ আশপাশের বনাঞ্চলের প্রাণীকূল মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন বিভাগ, বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ, প্রাণীবিদ ও পরিবেশবিদরা সমকালের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্যগুলো জানান।
এদিকে প্রাণী সংরক্ষণবিদ সীতেশ রঞ্জন দেবনাথ জানান, লাউয়াছড়ার বনজুড়ে শেভরন লাল, নীল তার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখেছে। নানা রঙ-বৈচিত্র্যের পোশাক পরে বনে কর্মীরা কাজ করছে। আশপাশে নিরাপদ আশ্রয় না থাকায় এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে একরাতে বন্যপ্রাণীগুলো লাউয়াছড়া বন ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এদের মধ্যে হয়তো বেশকিছু মারা পড়ছে। আর কিছু আশ্রয় খুঁজে পেয়েছে।
সম্প্রতি লাউয়াছড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চল, জুড়ী, বড়লেখা, কুলাউড়া, কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, রাজনগর ও সদরের বিভিন্ন স্থান থেকে মেছোবাঘ, হরিণ ও বিভিন্ন প্রজাতির সাপ বেরিয়ে এসে ধরা পড়ছে।
জানা গেছে, গত ৭ মে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর শেভরনের বিস্ফোরিত স্থানে আতঙ্কিত হয়ে পালাতে গিয়ে বিদ্যুতের ৩৩ কেভি লাইনে পড়ে একটি বিরল প্রজাতির চশমাপড়া হনুমান মারা যায়। সম্প্রতি মৌলভীবাজার শহরতলির নিদিরমহল গ্রামের মোঃ জিলাদ মিয়ার বাড়ি থেকে প্রায় ৩ ফুট লম্বা একটি মেছোবাঘ আটক করা হয়েছে। পরে বাঘটি অবমুক্ত করা হয়। বড়লেখা উপজেলায় জনতার হাতে ১ টি মেছোবাঘকে আটক করা হলে পরে বন বিভাগ উদ্ধার করে মাধবকুণ্ড পার্কে অবমুক্ত করে দেয়। ১১ মে শ্রীমঙ্গল উপজেলার রুস্তমপুর গ্রামে রোববার কৃষকদের হাতে একটি মেছোবাঘ ধরা পড়ে। এরপর বাঘটিকে নিয়ে আসা হয় শ্রীমঙ্গলের প্রাণী সংরক্ষণবিদ ও পরিবেশবিদ সীতেশ রঞ্জন দেবের মিনি চিড়িয়াখানায়।
জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের পূর্বশিলুয়া গ্রামে গত ১৭ জানুয়ারি লোকজন একটি হরিণ শিকার করে মাংস ভাগ-বাটোয়ারা করার সময় পুলিশ, বিডিআর এবং বন বিভাগের লোকজন তা উদ্ধার করে মাটিতে পুঁতে ফেলে। জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভবানীপুর গ্রামে লোকজনের হাতে একটি হরিণ ধরা পড়ে। বন বিভাগের হস্তক্ষেপে হরিণটিকে মাংসলোভীদের কবল থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এদিকে গত মার্চ মাসে শ্রীমঙ্গলের কালাছড়ায় একটি উল্লুককে পিঠিয়ে মারা হয় বলে জানা গেছে। বন বিভাগ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিদ সীতেশ রঞ্জন দেবনাথ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ বছরে কমপক্ষে ২০০ বন্যপ্রাণী ধরা পড়েছে। এর মধ্যে মেছোবাঘ ১০০টি, লজ্জাবতী বানর ১০টি, বানর ১০টি, অজগর ৭/৮টি, মায়া হরিণ ৭টি, খাটাশ ৭টি, গন্ধগোকুল ৩টি, গুঁইসাপ ৪টি। এগুলোকে উদ্ধর করে পরবর্তীতে সেবা দিয়ে লাউয়াছড়া বনে ছাড়া হয়েছে। এছাড়াও কমপক্ষে ৫০০টি বন মোরগ ধরা পড়েছে। জানা গেছে, মাগুরছড়া গ্যাস বিস্ফোরণের কারণে লাউয়াছড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বিভিন্ন ছড়ার পানি শুকিয়ে যায়। টিলার মাটি ধসে ছড়াগুলো ভরাট হয়ে যায়। ফলে ছড়ায় বসবাসকারী কাঁকড়া, চিংড়ি, গিরগিট, গুঁইসাপ, কেঁচো, শামুক, টাকি মাছ ইত্যাদি মারা যায়। এসব জলজ প্রাণী মেছোবাঘসহ অন্যান্য প্রাণীর খাদ্য। অন্যদিকে বনের ভেতর ডুমুর, বেলম, পিঁপড়, বন তেঁতুল প্রভৃতি উদ্ভিদ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় বনের খাদ্য সংকট প্রবল হয়ে পড়েছে।
বন বিভাগ ও নিসর্গ সূত্রে জানা গেছে, ১ হাজার ২৫০ হেক্টর জায়গার ওপর ১৯৯৬ সালে স্থাপিত হয় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। এর মধ্যে নিসর্গ প্রকল্পের অধীনে লাউয়াছড়ায় ৩ হাজার একর জায়গা রয়েছে। এতে রয়েছে, ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ২৪৬ প্রজাতির পাখি। বন্যপ্রাণীর মধ্যে রয়েছে- শতাধিক প্রজাতির মাকড়সা, বিরল প্রজাতির পাখি, চশমা পরা বানর, নানা প্রজাতির বানর, বন মোরগ, কাঁকড়া, মেছোবাঘসহ বিশ্বের বিলুপ্ত প্রায় প্রাণী উল্লুক, মুখপোড়া হনুমান, মায়া হরিণ, লজ্জাবতী বানর, সাদা বাঘ, খাটোলেজি বানর, হনুমান, কাঠবিড়ালি, সাপ, প্রজাপতি, বিভিন্ন কীটপতঙ্গ ও পোকামাকড়, বন্য শহৃকর, গিরগিটি, মার্টেন, গন্ধগোকুল প্রভৃতি। প্রধান উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে চাপালিশ, সিভিট, ডুমুর, জাম, সেগুন, তেলসুর, বাটনা, আওয়াল, কনক, বনাক, রাতা, লোহাকাঠ, জারুল, আমলকি, উদল, রক্তন, লটকন, গামার, বাঁশ ইত্যাদি। এদিকে পরিবেশবিদ ও গবেষকরা বলেছেন, এখানে ৪০০ প্রজাতির পশুপাখি ছিল। কিন্তু শেভরনের ভূতাত্ত্বিক জরিপের কারণে এগুলো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
সম্প্রতি লাউয়াছড়া বনে আসা মার্কিন বন্যপ্রাণী গবেষক ড. এলিয়ট হাইমফ জানান, পৃথিবীর ৭টি বনে হাতেগোনা কিছু উল্লুক আছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের লাউয়াছড়া বনে ১৪টি পরিবারে বিভক্ত হয়ে ৫৭টি উল্লুক বিচরণ করে। দিনদিন বন উজাড় হয়ে যাওয়ায় এবং মানুষের তাড়া খেয়ে উল্লুকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি।
শ্রীমঙ্গলের প্রাণী সংরক্ষণবিদ ও পরিবেশবিদ সীতেশ রঞ্জন দেব বলেন, ‘মেছোবাঘ প্রাণভয়ে পালাতে কিংবা খাদ্য অন্বেষণে লোকালয়ে আসতে ট্রাকের নিচে পৃষ্ট হয়ে মারা যায়। এর চেয়ে যন্ত্রণা আর কিছু হতে পারে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘গাছ উজাড় ও খাদ্য সংকটের কারণে বন্যপ্রাণীগুলো বিপন্ন হয়ে পড়েছে।’
এদিকে পরিবেশ অধিদফতর সিলেট কার্যালয়ের উপ-বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ শিবলী জানান, হাকালুকি হাওরে রয়েছে পৃথিবীর বিরল প্রজাতির মাখনাসহ নানা প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ ও বন্যপ্রাণী। হাকালুকি ও হাইল হাওরসহ জেলার বিভিন্ন বিল, ডোবা ও পাহাড়ি লেকে প্রতিবছর অসংখ্য পরিযায়ী পাখি আসে। হাকালুকিতে রয়েছে নানা জাতের মাছ। এছাড়া আমাদের অরণ্যে রয়েছে নাম জানা অজানা অসংখ্য প্রাণী ও উদ্ভিদ। সবাই মিলে এগুলোকে এ জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে।
Read more »

May 17, 2008

"লাউয়াছড়ায় খনিজ উত্তোলনের উদ্যোগ নিলে আইনি ব্যবস্থা"

ঢাকা, মে ১৪ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)-- এদেশে 'জীববৈচিত্র্যের শেষ আশ্রয়' লাউয়াছড়া সংরক্ষিত বনে খনিজ সম্পদ উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হলে আইনগত পদক্ষেপ নেবে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী অ্যাসোসিয়েশেনসহ (বেলা) কয়েকটি পরিবেশবাদী সংগঠন

বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে পবা ও বেলা আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য লাউয়াছড়ার সংরক্ষিত বন ও এর আশপাশে জরিপ করছে তেল-গ্যাস উত্তোলনকারী কোম্পানি শেভরনজরিপ শেষে ওই বনে খনিজ সম্পদ উত্তোলনের যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথা জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে

পবা চেয়ারম্যান নাসের খান বলেন, "পবা ও বেলাসহ কয়েকটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছেএ ব্যাপারে প্রস্তুতির পাশাপাশি উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।"

বেলার আইনজীবী ইকবাল মাহমুদ বলেন, "বনের ভেতরে খনিজ সম্পদ উত্তোলনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া চলবে নাএটা করা হলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবেতবে বনের বাইরে এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নিলে আমাদের আপত্তি থাকবে না।"

প্রকৃতিবিদ রোনাল্ড হালদার বলেন, "জরিপের জন্য এমন সময় বেছে নেওয়া হয়েছে যখন পশু-পাখির প্রজনন সময়জরিপের কারণে তাদের প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেলাউয়াছড়া সংরক্ষিত বনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে অনেক প্রজাতির পাখি প্রজননের জন্য আসেএখানে দক্ষিণ এশিয়ায় সাড়ে ৬০০ প্রজাতির পাখি রয়েছেএটিই আমাদের জীববৈচিত্র্যের শেষ আশ্রয়।"


মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত ৩৪০০ একর আয়তনের লাউয়াছড়া বনে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, চার প্রজাতির উভচর প্রাণী, ছয় প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৩ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির অর্কিড ও ১৭ প্রজাতির পোকামাকড় রয়েছেদুর্লভ প্রজাতির উল্লুক, লজ্জাবতী বানর, খাটোলেজি বানর, চশমা হনুমান, মুখপোড়া হনুমান, ভালুক, বনমোরগ, বনবিড়াল, সাদা বাঘ, উদবিড়াল ও অজগর দেখা যায় এ বনে

সংবাদ সম্মেলনে লাউয়াছড়া সংরক্ষিত বনের বিভিন্ন চিত্র প্রদর্শন করা হয়শেভরনের জরিপ কাজের একটি ভিডিও চিত্রও দেখানো হয়

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমআরএফ/টিএইচ/এসএনডি/এসকে/২০৩৬ঘ.

Read more »

March 1, 2008

বাঁশখালী ইকোপার্ক - আবুল কাসেম ভুঁইয়া

২০০৪ সালের পর এর উন্নয়নের ব্যাপারে নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তাছাড়া বাঁশখালী ইকোপার্ক সম্পর্কে জানা যায়, বর্তমানে যেখানে ইকোপার্কটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা এক সময় ছিল জঙ্গলাকীর্ণ ও শ্বাপদ-সংকুল। জানা-অজানা গাছগাছালি, পশু পাখির দেখা মিলত এখানে। ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও আশেপাশের লোকজনের কারণে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে যায়। বাঁশখালী ইকোপার্ক প্রকল্প এলাকাটি চুনতি অভয়ারণ্যের অন্তর্ভূক্ত হলে দীর্ঘ অব্যবস্থাপনার কারণে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়ে।

১৯৯৩ সালের দিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, 'ইফাদ' এর আর্থিক সহায়তায় বামের ছড়ার উপর একটি বাঁধ নির্মাণ করে স্লুইচ গেটের মাধ্যমে জলদি, শীলকূপ ও চাম্বল এলাকায় কৃষিজমিতে পানি সেচ দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ১৯৯৯ সালের দিকে বিশ্বখাদ্য সংস্থার আর্থিক সহায়তায় এলজিইডি বাঁশখালী উপজেলা কর্তৃপক্ষ ডানের ছড়ায় আরেকটি বাঁধ নির্মাণ করে। এখানে বাঁধ দেয়ার কারণে সুন্দর কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি হয়। বামের ছড়ার বাঁধের জলাশয় এলাকার পরিমাণ ২০ হেক্টর এবং ডানের ছড়া বাঁধের জলাশয় এলাকার পরিমাণ ৬০ হেক্টর।

২০০০ সালের দিকে বামের ছড়া এবং ডানের ছড়ার মধ্যবর্তী পাহাড় কেটে হ্রদ দু'টিকে এক করা হয়। এর পর থেকে বাঁশখালী ইকোপার্কের শ্রীবৃদ্ধিসাধন করা হয়। ২০০৬ সালের দিকে ইকোপার্কটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক দিয়ে বাঁশখালী ইকোপার্ক এখন দেশের অন্যতম সেরা পর্যটন স্পট। যাদের এখনো এই পর্যটন স্পট সম্পর্কে ধারণা নেই, তাদের একবারের জন্য হলেও পার্কটি দেখে আসা উচিত।

দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের জন্য রেস্ট হাউজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পিকনিক করার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ এবং সুযোগ সুবিধা রয়েছে। বামের ছড়া এবং ডানের ছড়া লেকে নৌ বিহারের জন্য রয়েছে সুসজ্জিত বোট। এখানে রয়েছে সুউচ্চ পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। যেখান থেকে কুতুবদিয়া চ্যানেলে অবস্থানরত দেশী-বিদেশী জাহাজের বহর এবং বঙ্গোপসাগর দেখা যায়। এখানে লেকের উপর রয়েছে দেশের দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতু। সেতু দিয়ে পাহাড়ের একপাশ থেকে অন্যপাশে যাওয়া যায়। লেকে অতিথি পাখির কলকাকীতে মুখরিত থাকে পরিবেশ। বন্যপশুপাখীর জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। আগত পর্যটক এবং দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে কটেজ, রিফ্রেশমেন্ট কর্ণার, প্যানারোমিক ভিউ টাওয়ার, উন্নতমানের টয়লেট, সাসপেনশন ব্রিজ, ফুল, ফলের বাগানসহ আরো অনেক কিছু। বাঁশখালী ইকোপার্ক সম্পর্কে দেশের মানুষ এখনো পর্যন্ত পুরোপুরিভাবে অবগত হতে পারেননি। তবুও এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এবং দর্শনার্থী ভিড় জমাচ্ছেন পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য।

বাঁশখালী ইকোপার্কটি এখনো পর্যন্ত পূর্ণতা অর্জন করতে পারেনি। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে পর্যটক এবং দর্শনার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এখানে গাড়ি পার্কিংয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। রেস্ট হাউসে রুমের সংখ্যা কম হওয়ায় স্থানাভাবে পর্যটকদের কষ্ট পেতে হয়। উন্নতমানের হোটেল রেস্তোরাঁর ব্যবস্থা নেই। চট্টগ্রাম শহর থেকে যাতায়াতের ব্যবস্থাটাই আরামদায়ক নয়। বাঁশখালী সড়কের প্রশস্থতা কম। এই পর্যটন স্পট থেকে সরকারের প্রচুর রাজস্ব আয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আকর্ষণের লৰ্যে এই ইকো পার্ক নিয়ে প্রচারণা খুব কম।

----------
ইত্তেফাক, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৭
Read more »