Showing posts with label বিলুপ্তপ্রায়. Show all posts
Showing posts with label বিলুপ্তপ্রায়. Show all posts

October 19, 2008

‘মরণ-ফুল’ ফুটলে চিরবিদায় নেবে তালি পাম

তালি পামের শেষ বংশধর
পৃথিবীর একমাত্র গাছটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে?
মঞ্জরি এসেছে, ‘মরণ-ফুল’ ফুটলে চিরবিদায় নেবে তালি পাম

আনু আনোয়ার

দেখলে মনে হবে যেন তালগাছের মাথায় হরিণের শিং গজিয়েছে। আসলে তা নয়, পৃথিবীর একমাত্র বলে দাবি করা পাম জাতের একটি গাছ ‘তালি’র (বৈজ্ঞানিক নাম করিফা তালিয়েরা রক্সবার্গ) মঞ্জরিদন্ড এটি। এই গাছটি আবার রয়েছে বাংলাদেশে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সহ-উপাচার্যের বাসভবনের পেছনে। তার চেয়েও বড় কথা হলো, এই মঞ্জরিদন্ড থেকে ফুটবে গাছটির ‘মরণ-ফুল’। ফুল থেকে হবে ফল। ফল থেকে বীজ। তারপর মারা যাবে গাছটি। অর্থাৎ আর চার-পাঁচ মাসের মধ্যেই চিরবিদায় নেবে তালি পাম নামের এই সর্বশেষ গাছটি।
পামগাছের এই প্রজাতিটি প্রথম আবিষ্ককৃত হয় ১৯১৯ সালে। ব্রিটিশ অরণ্যতরুসন্ধানী ড. উইলিয়াম রক্সবার্গ এই প্রজাতিটির প্রথম খোঁজ পান ভারতের পূর্বাঞ্চলে। তিনি এর নাম দেন করিফা তালিয়েরা (Corypha taliera)। পরে এর বৈজ্ঞানিক নাম হয় ‘করিফা তালিয়েরা রক্সবার্গ’। বাংলায় গাছটিকে ‘তালি’ বা ‘তালি পাম’ নামে ডাকা হয়। গাছটি দেখতে অবিকল আমাদের তালগাছের মতো হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি একটি ভিন্ন প্রজাতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এই গাছটি প্রথম শনাক্ত করেন উদ্ভিদবিজ্ঞানী শ্যামল কুমার বসু (সুত্র: বিপন্ন প্রজাতির খেরোখাতা, লেখক−মোকারম হোসেন)।

গত মাসের প্রথম দিকে এ গাছের মাথা ফুঁড়ে গজিয়ে ওঠা এই মঞ্জরিটি বাংলাদেশের উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মনে দুঃখের ছায়া ফেলে দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, এই মঞ্জরি থেকে আগামী দেড়-দুই মাসের মধ্যে যে ফুল ফুটবে, তা প্রকৃতপক্ষে গাছটির ‘মরণ-ফুল’, যা পরিপক্ব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাছটির মৃত্যু নিশ্চিত করবে। সবচেয়ে বড় কথা, পৃথিবীর বুকে প্রাকৃতিক আবাসে এটিই ছিল প্রজাতিটির একমাত্র জীবন্ত নিদর্শন, যা আগামী পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

পৃথিবীতে এই প্রজাতির সর্বশেষ গাছ এটিই−বাংলাদেশের উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের এই দাবির পাশাপাশি ইন্টারনেটের উন্নুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়াও বলছে, বন্য পরিবেশে বেড়ে ওঠা সর্বশেষ করিফা তালিয়েরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্যের বাসভবনের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে।

পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা−আইইউসিএন বলেছে, একই প্রজাতির আরেকটি গাছ ছিল ভারতের হাওড়ায় জাতীয় বোটানিক্যাল গার্ডেনে। তবে সেটি প্রাকৃতিক পরিবেশের নয়, উদ্যানে জন্নানো গাছ। সেটি ফুল ফোটানোর পর তার বীজ সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে আইইউসিএনের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রাকৃতিক পরিবেশের সর্বশেষ তালি পামটি ছিল পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনের পাশের একটি গ্রামে। গাছের মাথায় শিংয়ের মতো ফুল গজায় বলে এটিকে গ্রামের সবাই ‘ভুতের গাছ’ নাম দেয়। পরে গ্রামবাসী গাছটি কেটে ফেলে। ফলে সে গাছ থেকে কোনো বীজ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

বিশিষ্ট প্রকৃতিবিদ অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশের করিফা তালিয়েরা প্রজাতির এটিই সর্বশেষ গাছ, সম্ভবত বিশ্বের বুকেও। কারণ, এই গাছটি নিয়ে তেমন তথ্য পাওয়া যায় না। তবে উনিশ শতকে কলকাতায় অনেকগুলো তালি পামগাছ ছিল। তিনি বলেন, এই প্রজাতির গাছ বাংলা ভুখন্ডেই একমাত্র দেখা গেছে, এ বিষয়ে বিশ্বের উদ্ভিদবিজ্ঞানীরাও একমত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের আরেকজন অধ্যাপক আবদুল আজিজ বলেন, ‘ক্যাম্পাসের গাছটির কোষ থেকে নতুন গাছ জন্নানো যায় কি না, তা পরীক্ষা করে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। এখন প্রজাতিটিকে একেবারে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য পরিপক্ব ফল সংগ্রহ করে পরবর্তী সময়ে নতুন গাছ গজানোর চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।’

প্রথম আলো, ১৮ অক্টোবর, ২০০৮
Read more »

October 18, 2008

বাংলাদেশে যত ডলফিন

বাংলাদেশ হলো বিভিন্ন প্রজাতির বিপুলসংখ্যক জলজ স্তন্যপায়ীর অবাধ বিচরণক্ষেত্র। এশিয়ার অন্যান্য দেশ, যারা বাংলাদেশের প্রতিবেশী, তাদের তুলনায় বাংলাদেশের নদী ও উপকুলীয় এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির জলজ স্তন্যপায়ী অনেক বেশি দেখা যায়। বাংলাদেশের ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, উপকুলীয় ও গভীর সমুদ্রের জলভাগ অসাধারণ সব প্রজাতির জলজ স্তন্যপায়ীর জন্য খুবই উপযোগী বাসস্থান।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি পরিচিত ডলফিন হলো শুশুক। এরা সত্যিকারের নদীর ডলফিন। বিশেষ আকৃতির লম্বা ঠোঁট, পিঠের ছোট ডানা আর দুই পাশের বড় পাখনার কারণে শুশুক দেখতে একটু অদ্ভুত। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা নদীর সব জায়গাতেই শুশুকের বাস। সত্যিকারের নদীর ডলফিন সাগরের ডলফিনের দুরসম্পর্কের আত্মীয়। এদের ঠোঁট লম্বা এবং চোখ খুব ছোট। শুশুকের দৃষ্টিশক্তি খুবই দুর্বল। নদীর যে ঘোলা পানিতে এদের বসবাস, সেখানে দৃষ্টিশক্তির খুব একটা প্রয়োজন হয় না। এর বদলে এদের ইকোলোকেশনের শক্তি অনেক প্রখর। চলাচলের সময় জলজ স্তন্যপায়ীরা প্রতিধ্বনিত শব্দ দিয়ে মস্তিষ্কেক প্রতিচ্ছবি তৈরি করে।

শুশুকের শরীরের দুই পাশের বড় পাখনা ও নমনীয় ঘাড়ের জন্য এরা সহজে চলাচল করতে পারে। অনেক সময় দেখা যায়, এরা কাত হয়ে সাঁতার কাটে। বড় পাখনার সাহায্যে এরা নদীর তলদেশ ছুঁয়ে পথ নির্ধারণ করে। এরা কিন্তু মোটেই সমাজবদ্ধ নয়। সাধারণত একাই থাকে। তবে অনেক সময় নদীর বাঁকে ও মোহনায় ছোট ছোট দলে দেখা যায়।

কিছু প্রজাতির ডলফিন নদী ও সাগর উভয় স্থানেই দেখা যায়। যেমন ইরাবতী ডলফিন। আমাদের দেশে এরা সুন্দরবনের মিঠা পানির নদী আর বঙ্গোপসাগরের উপকুলীয় অঞ্চলে বাস করে। নদীসহ যেসব উপকুলীয় জলাশয়ে নদী থেকে মিঠা পানি আসে, সেসব স্থানে ইরাবতী ডলফিন দেখা যায়। সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের জলপথে এরা শুশুকের সঙ্গে মিলেমিশেই থাকে।

গোলাপি ডলফিন বা ফিনলেস পরপয়েসকে মাঝেমধ্যে সুন্দরবনের নদীতে দেখা গেলেও এরা আসলে উপকুলীয় জলভাগে বাস করে, যেখানে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা নদী থেকে মিঠা পানি আসে।

প্রথম আলো, ১৭, অক্টোবর, ২০০৮
Read more »

October 17, 2008

ডলফিনের জন্য ভালোবাসা

একসময় বাংলাদেশের খুব কম নদনদীই ছিল যেখানে শুশুক দেখা যেত না। প্রতিকুল পরিবেশ, মানুষের বৈরিতায় আস্তে আস্তে বড় কিছু নদী ছাড়া আর সব জলাশয় থেকেই প্রায় হারিয়ে গেছে ডলফিনের এ প্রজাতি। তার পরও সাম্প্রতিক কিছু জরিপ বলছে, এখনো আশপাশের দেশের তুলনায় আমাদের দেশে ডলফিনের সংখ্যা নেহাত কম নয়। বাংলাদেশে ডলফিনের অবস্থা নিয়ে আমাদের এই প্রতিবেদন।

ফারহানা আলম

ডলফিন নিয়ে আলাদা করে কোনো আগ্রহ রুবাইয়াত মনসুর মুগলির ছিল না। তাঁকে আগ্রহী করে তোলেন ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন সোসাইটির প্রকল্প পরিচালক ব্রায়ান স্মিথ। ২০০০ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন ভদ্রলোক। বেসরকারি পর্যটন সংস্থা দ্য গাইড ট্যুরস লিমিটেডের ভ্রমণতরীতে করে সুন্দরবন গিয়েছিলেন তিনি। সুন্দরবন যাওয়ার পথে নদীতে শুশুকসহ অনেক ডলফিন দেখলেন ব্রায়ান। ওই অঞ্চলের নদীর পানিতে জলজ স্তন্যপায়ী গোত্রের প্রাণী দেখে গাইড ট্যুরসের মুগলিকে গল্প শোনাতে লাগলেন তিনি। সেই প্রথম মুগলি জানলেন, বাংলাদেশের নদনদী ও বঙ্গোপসাগরে নানা জাতের ডলফিন আছে। গভীর সমুদ্রে আরও আছে ডলফিনেরই জাতভাই তিমি। ব্যস, আর যায় কোথায়! এই বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে শুরু করলেন রুবাইয়াত মুগলি। আর তাঁকে বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করার জন্য ব্রায়ান স্মিথ তো ছিলেনই।

২০০২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন সোসাইটির জন্য বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তিমি ও ডলফিন সংরক্ষণ সংস্থা এবং কনভেনশন অন মাইগ্রেটরি স্পিসিজের সমর্থনে মূলত ব্রায়ান স্মিথের আয়োজনে প্রথমবারের মতো শুরু হয় রুবাইয়াতের ডলফিন নিয়ে জরিপের কাজ। জরিপে অংশ নেন ভারত, বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা। জরিপের জন্য তাঁরা ঘুরে বেড়িয়েছেন সুন্দরবনের সব নদী ও খাল। আইইউসিএনের সঙ্গে যৌথভাবে আবার সুন্দরবনের জলপথ ধরে চলে গবেষণা। বাংলাদেশের জলসীমায় থাকা স্তন্যপায়ী প্রাণিবৈচিত্র্যের সন্ধান করা এবং সেগুলো যেন বিলুপ্ত হয়ে না যায় সে লক্ষ্যে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, তার অনুসন্ধানই ছিল রুবাইয়াতের মূল লক্ষ্য।

২০০৪ সালে বাংলাদেশের উপকুল ধরে মিয়ানমারের সীমানা থেকে অর্থাৎ নারিকেল জিঞ্জিরার উপকুল থেকে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের শেষ সীমা পর্যন্ত চালানো হয় আরেকটি জরিপ। এই জরিপেও বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কার ১৫ জন বিজ্ঞানী অংশ নেন। তখনই তাঁরা এই অঞ্চলে সামুদ্রিক ডলফিন ও তিমির দেখা পান। সেই সঙ্গে সুন্দরবনের গভীর সমুদ্রের গিরিখাদ বা অতলস্পর্শে ডলফিনের বৈচিত্র্য ও এদের অবাধ বিচরণ দেখেন।

২০০৫ সালে আবার এ জায়গায় জরিপের সময় তাঁরা প্যানট্রপিক্যাল স্পটেড ডলফিন ও স্পিনার ডলফিনের অস্তিত্ব খুঁজে পান।
বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জরিপ চলতে থাকলেও কোনো আনুষ্ঠানিক ভিত্তি না থাকায় রুবাইয়াত ২০০৬ সালের জুলাই মাসে এসে গঠন করেন বাংলাদেশ সেটেশন ডাইভার্সিটি প্রজেক্ট (বিসিডিপি)। রুবাইয়াতও পুরোদমে প্রধান গবেষক হিসেবে কাজ শুরু করেন।
ছয় বছরের জরিপের ফলাফলে মোটামুটি একটা সংখ্যা বের হয়ে এসেছে। গাইড ট্যুরসের ভ্রমণতরী এমভি অবসর, এমভি ছুটি ও এমভি বনবিবির সারেংরাও এই জরিপে অংশ নেন। তাঁরা দল, একক ও বাচ্চা−এই তিনটি ভাগে জরিপটি পরিচালনা করেন। সেই হিসাবমতো শুশুকের এক হাজার পাঁচটি দল, একক এক হাজার ৯৯৩টি এবং বাচ্চা ২৩৫টি গণনা করা হয়। আর ইরাবতী ডলফিনের ২৮১টি দল, একক ৫৬৬টি এবং বাচ্চা ৩২টি দেখা গেছে। এই জরিপ করা হয়েছে সুন্দরবনের সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের ২৬ হাজার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে।

সামগ্রিক জরিপে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রায় ছয় হাজার ইরাবতী ডলফিনের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। কিন্তু শুধু অস্তিত্ব থাকলেই হবে না; তাদের অস্তিত্ব যেন বিলুপ্তির দিকে না যায় সেই লক্ষ্যেই কাজ করতে হবে। তাই বিসিডিপি কিছু লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। জনসচেতনতা তৈরি করতে তারা মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে নানা ধরনের বইপত্র, যেখানে ডলফিন ও তিমিবিষয়ক নানা তথ্য দেওয়া আছে। আবার সামাজিকভাবে সংঘবদ্ধ করে আলোচনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। স্থানীয় নেতা এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষকেরাও এই সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছেন। খেলাধুলা ও ছবির মাধ্যমেও প্রাণিবৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সেই সঙ্গে একটি তথ্যচিত্র জাতীয় গণমাধ্যমে বা স্থানীয়ভাবে দেখানোর ব্যবস্থা করা হবে। জলজ স্তন্যপায়ী আর নিজেদের নিরাপত্তার জন্য জেলেরা যাতে নিরাপদ জলপথ ব্যবহার করতে পারে সেই লক্ষ্যে কম খরচে ও সহজবোধ্য গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও আছে। আছে আশপাশের এলাকার গ্রামবাসী ও জেলেদের জলজ স্তন্যপায়ীর বিচরণক্ষেত্র, জীবনাচরণ পর্যালোচনা, প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং সচেতনতা বাড়ানোর পরিকল্পনা। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলবায়ুর পরিবর্তন, বাঁধের কারণে সুন্দরবন ও মোহনায় নদীর পানির স্বল্পতার মধ্যেও জলজ স্তন্যপায়ীর জীবনধারণ লক্ষ করে এদের বৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা।

জলজ স্তন্যপায়ীদের জন্য একটি সংরক্ষিত এলাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে বিসিডিপি। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর আর উত্তরে মংলা বন্দর, পূর্বে বলেশ্বর আর পশ্চিমে পশুর নদকে সীমা ধরে মাঝখানে পূর্ব সুন্দরবনের নির্ধারিত অংশকে এই সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এখানে সংরক্ষিত এলাকায় চিংড়ি মাছের পোনা ধরায় সুক্ষ্মজালের ব্যবহার বন্ধ ও পানিদুষণ রোধ করা গেলেই জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণীরা অবাধে বিচরণ করতে পারবে।

জলজ স্তন্যপায়ীর অবাধ বিচরণ ও বৈচিত্র্য বৃদ্ধির লক্ষ্যেই বিসিডিপি ৯ থেকে ১২ অক্টোবর শিশু একাডেমীতে আয়োজন করে বাংলাদেশে প্রথম শুশুক মেলা। চার দিনব্যাপী এই মেলায় বিপুলসংখ্যক দর্শক উপস্থিতি প্রমাণ করে জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণিবৈচিত্র্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ আছে। বললেন বিসিডিপির শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারী এলিজাবেথ ফাহরনি মনসুর।

প্রথম আলো, ১৭, অক্টোবর, ২০০৮
Read more »

October 2, 2008

Swatch of no Ground

Swatch of no Ground a trough-shaped marine valley or canyon that cross the continental shelf diagonally and situated on the south of the Ganges-Brahmaputra delta. It is also known as Ganga Trough. Similar delta-front troughs are found off the mouth of the Indus River known as Indus Trough and off the West Side of the Mississipi delta, the Mississipi Trough. Swatch of no Ground has a comparatively flat floor 5 to 7 km wide and walls of about 12° inclination. At the edge of the shelf, depths in the trough are about 1,200m. It has been suggested that the Swatch of no Ground has a seaward continuation for almost 2,000 km down the bay of bengal in the form of fan valleys with levees. The sandbars and ridges near the mouth of the Ganga-Brahmaputra delta pointing toward the Swatch of no Ground indicate that sediments are tunnelled through this trough into the deeper part of the Bay of Bengal. Slumps, growth faults and evidence of mass movement coupled with high sedimentation rates near the Swatch of no Ground provide dramatic evidence that modern sediment is being channelled off-shelf through the submarine canyon to the Bengal Fan. Studies on the bengal deep sea fan suggest that Swatch of no Ground is feeding the Bengal Fan by turbidity currents. Most of the sediment of the Bengal Deep Sea Fan has been derived from the confluent of ganges and brahmaputra rivers, which drain the south and north slopes of the Himalayan, respectively. Under the present condition perhaps low-density turbidity currents and sand cascading are perhaps dominating process of sediment transport from the shelf to the deep sea through the Swatch of no Ground.

There is some controversy regarding the origin of Swatch of no Ground. However, it is generally believed that during the Pleistocene (2-0.1million years ago) lower sea level, Ganga-Brahmaputra River was discharging its sediment load directly on the shelf edge. Combination effect of river flow and turbidity currents generated at the shelf break and upper slope was responsible for the formation of the Swatch of no Ground. Evidence from the Bengal Deep-Sea Fan also tends to support this view. It has been observed that turbidity currents during the Pleistocene lower sea level dominated sedimentation on the Bengal Deep-Sea Fan and the sediments were distributed on the fan by a system submarine channel originating from the Swatch of no Ground. [Mahmood Alam]
Read more »

June 6, 2008

বন নেই তো প্রাণও নেই

মানুষের সর্বনাশা ছোবলে বারবার বিপর্যস্ত হয়েছে প্রকৃতি, ধ্বংস হয়েছে সবুজ বন আর প্রকৃতির সন্তান বন্য প্রাণীর বসতি। এ ধ্বংসলীলায় আমরাও পিছিয়ে নেই। ফলে এ দেশের প্রকৃতি থেকে একে একে হারিয়ে গেছে গন্ডার, ময়ুরসহ অসংখ্য বন্য প্রাণী। কেউ আবার অস্তিত্ব রক্ষার শেষ সংগ্রামে রত।

বিলুপ্ত বন্য প্রাণী
ময়ুর: ভারতীয় ময়ুরই আমাদের কাছে ময়ুর। অদ্ভুত সুন্দর এ পাখিটির একটি নমুনাও আর এ দেশের প্রকৃতিতে বেঁচে নেই। অথচ ৭০-৮০ বছর আগেও ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর এলাকায় মহানন্দে ঘুরে বেড়াত এরা। বাংলাদেশে সব শেষ ভারতীয় ময়ুর দেখা গেছে আশির দশকের গোড়ার দিকে, ঢাকার শ্রীপুরের শালবনে। চট্টগ্রাম আর পার্বত্য চট্টগ্রামের গহিন অরণ্যে ছিল বর্মি ময়ুরের বাস। সম্ভবত এরাও বিলুপ্ত হয়েছে।
বনগরু: পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম আর সিলেটের অরণ্যগুলোতে একসময় ছিল এদের অবাধ বিচরণক্ষেত্র। কিন্তু মানুষের সর্বনাশা লোভ আর শিকারিদের উৎপাতে আরও অনেক বণ্য প্রাণীর সঙ্গে এরা হারিয়ে গেছে। এখনো মাঝেমধ্যে গারো পাহাড়ের ভারতীয় অংশ থেকে দু-চারটি গৌর পথ ভুলে চলে আসে।
গন্ডার: একসময় বাংলাদেশের জঙ্গলগুলোতেও পরম শান্তিতে ঘুরে বেড়াত গন্ডার। পাঁচ প্রজাতির গন্ডারের মধ্যে তিন প্রজাতির বাস এশিয়ায়, আর এ তিন প্রজাতিই ছিল বাংলাদেশে। একশৃঙ্গ গন্ডার পাওয়া যেত সুন্দরবন, গারো পাহাড়ের পাদদেশ, ময়মনসিংহ ও সিলেটের টিলাঘেঁষা জলাভুমিতে। কুমিল্লার পাহাড়ি এলাকা থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত বনভুমিতে বিচরণ করত দুইশৃঙ্গ গন্ডার। আর জাভাদেশীয় গন্ডারের বিচরণ ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের সাগু-মাতামুহুরী রিজার্ভে।
বারশিঙা: বিশালদেহী এ হরিণের শিঙে ১২-১৪, এমনকি কখনো কখনো ২০টি পর্যন্ত শাখা-প্রশাখা থাকে। একসময় রংপুর, দিনাজপুর, সিলেট, সুন্দরবনসহ দেশের অনেক এলাকায় এদের দেখা যেত। বাংলাদেশে বারশিঙাদের শেষ বিচরণভুমি ছিল সুন্দরবন। ’৫৪-র বন্যার সময়ই সম্ভবত এখান থেকে হারিয়ে যায়।
রাজশকুন: অনেক দিন থেকেই আর এদের চোখে পড়ে না। বাংলাদেশ থেকে যে এরা বিলুপ্ত হয়েছে, এটি এখন প্রায় নিশ্চিত। ’৭০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে এদের অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে।

বিপন্ন বন্য প্রাণী
সাম্বার: বাংলাদেশে যে কয় জাতের হরিণ পাওয়া যায় তার মধ্যে আকৃতিতে সবচেয়ে বড় সাম্বার। এক সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম ও সিলেটের জঙ্গল এবং ময়মনসিংহ আর বৃহত্তর সিলেটের হাওড় এদের প্রচুর দেখা গেলেও শিকারিদের নির্বিচারে হত্যার কারণে অনেক জায়গা থেকেই বিলুপ্ত হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের কাপ্তাইসহ আরও কিছু বন এবং চট্টগ্রাম ও সিলেটের দু-একটি বনেও সম্ভবত অল্পসংখ্যায় হলেও টিকে আছে সাম্বার।
রামকুত্তা: রামকুত্তারা দলবদ্ধভাবে শিকার করে। চিত্রাহরিণ, সাম্বারের মতো শিকারের ওপর অতর্কিত ঝাঁপিয়ে পড়ে জীবিত অবস্থায়ই খুবলে মাংস খেতে শুরু করে। কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান, পাবলাখালী অভয়ারণ্যসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের জঙ্গল ও সিলেটের সীমান্তঘেঁষা অরণ্যগুলোতেও এদের দেখা পাওয়া যায়।
চিতাবাঘ: ঢাকার পাশের মধুপুরেই একসময় দুর্দান্ত প্রতাপে রাজত্ব করে বেড়াত চিতাবাঘ। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে বন ধ্বংস আর মানুষের হিংস্রতার ফলে মধুপুরে এখন আর একটি চিতাবাঘও নেই। রেমা, কালেঙ্গা লাঠিটিলা, রাগনাসহ সিলেট বিভাগের ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা বিভিন্ন বনে সাম্প্রতিক সময়েও চিতাবাঘ দেখেছেন কেউ কেউ। পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম বনগুলোতে এখনো সম্ভবত অল্প সংখ্যায় এরা আছে।
মেঘলা চিতা: বিড়াল গোত্রের এ প্রাণীটির লেজসহ গড় দৈর্ঘ্য ১৯৫ সেমি। ওজন ১৫-২৩ কেজি। নিশাচর আর বৃক্ষচর স্বভাবের কারণে মেঘলা চিতাদের দেখা পাওয়া খুব কঠিন। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামের চন্দনাইশসহ কিছু দুর্গম অরণ্যে এখনো এরা আছে।
সোনালি বিড়াল: সোনালি বিড়াল একসময় বাংলাদেশের চিরসবুজ বনগুলোয় অল্পবিস্তর দেখা গেলেও এখন এদের অস্তিত্ব নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের গভীর জঙ্গলে আর সিলেটের ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা বনগুলোতে এখনো এদের থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
Read more »

May 31, 2008

লোকালয়ে আরেকটি লজ্জাবতী বানর

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজসংলগ্ন আবাসিক এলাকা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আরেকটি লজ্জাবতী বানর উদ্ধার করা হয়েছে। কলেজ সড়কের বাসিন্দা এ এস এম কিবরিয়ার বাড়িতে বানরটি দেখতে পেয়ে ওই বাড়ির গৃহকর্মী ও এলাকাবাসী মিলে বানরটিকে আটক করে। পরে এটিকে পশুপাখিপ্রেমী সিতেশ রঞ্জন দেবের চিড়িয়াখানায় হস্তান্তর করা হয়।
সিতেশ রঞ্জন দেব বলেন, ‘শুধু এই লজ্জাবতী বানরই নয়, গত কয়েক দিনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান থেকে কাক, ধনেশ, গন্ধগোকুল, মেছো বাঘ লোকালয়ে এসে ধরা পড়েছে। উদ্যানে জীবজন্তুর খাবারের অভাব। তাই তারা খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান আগে লাল ডুমুর, পিপিড় ফল, কাউফল, ভুবি, লটকন, লক্ষ্মী আম−এসব ফলগাছে ভরা ছিল। কিন্তু এখন এসব গাছের বড্ড অভাব। বনে খাদ্যের জোগান দিতে না পারলে সেখানে পশুপাখি থাকবে না।’
বন বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, লাউয়াছড়ায় আগে কী পরিমাণ ফলগাছ ছিল, সে তথ্য তাঁর জানা নেই। তবে উদ্যানে বন বিভাগ ফলগাছ রোপণ করেছে এবং এখনো করছে।
লোকালয়ে লজ্জাবতী বানরের চলে যাওয়া প্রসঙ্গে ওই কর্মকর্তা বলেন, লাউয়াছড়া বনাঞ্চলে বাঁশে ফুল গজানোয় বাঁশঝাড়গুলো মরে গেছে। বাঁশঝাড়গুলো ছিল লজ্জাবতী বানরের আশ্রয়স্থল। আশ্রয়স্থল ধ্বংস হওয়ায় বানরগুলো লোকালয়ে চলে যেতে পারে।
এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাড়াউড়া গ্রামের বাসিন্দা অনু মিয়ার বাড়িতে একটি লজ্জাবতী বানর আটক করা হয়। বানরটি উদ্ধার করে সিতেশ রঞ্জন দেব তাঁর চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসেন।
<> প্রথম আলো। ৩০ মে ২০০৮
Read more »

May 18, 2008

মৃত্যুর পথে শতবর্ষী পামগাছ

রাজধানীর ওয়ারীর নবাব স্ট্রিটের বলধা গার্ডেনের শতবর্ষ পূর্ণ হবে আগামী ডিসেম্বরে প্রকৃতিপ্রেমিক দানবীর নরেন্দ্রনারায়ণ রায় চৌধুরী অতি যত্নে ১৯০৯ সালে সাইকি ও সিবেলি নামে এ বাগানটি তৈরি করেনশুরুতেই ৫০টিরও বেশি দেশ থেকে বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ সংগ্রহ করে আপন মহিমায় বাগানটি সাজিয়েছিলেন তিনিআজ নানা দেশের বিরল প্রজাতির বিভিন্ন উদ্ভিদে পরিপূর্ণ এটিবর্তমানে ৮৭ পরিবারভুক্ত ৩৩৯ বর্গের ৬৭২ প্রজাতির ১৫ হাজার উদ্ভিদ রয়েছে

কিন্তু বলধা পরিবারে আজ আনন্দ নেইকরুণ কান্না পরিবারের বৃক্ষ, তরুলতা-সবার চোখেশোকে বিহ্বল তারাকারণ শতবর্ষে ফোটা দেশের একমাত্র সুগার পামটি কিছুদিনের মধ্যেই মারা যাবে১৯৩৯-'৪০ সালের মধ্যে জমিদার নরেন্দ্রনারায়ণ রায়ের নিজ হাতে বোনা এ গাছটি কিছুদিন হলো ফুল ফুটিয়েছেএখন শুধু ফল হওয়ার অপেক্ষতাও অতি ক্ষণকালের; মাত্র এক মাসবংশধর সৃষ্টির পর এটি পৃথিবীতে আর থাকতে চায় নাতাদের বেড়ে ওঠার পথ মসৃণ করে দিতেই অধরা থেকে বিদায় নেবে গাছটিএটিই প্রকৃতির নিয়ম!

বলধার তত্ত্বাবধায়ক রুহুল আমিন এ প্রসঙ্গে আমার দেশকে বলেন, পামগাছটিতে এখন গাছের ডালের মতো মঞ্জুরিতে ক্রিম-সাদা ফুল ফুটেছেফুল ফোটার পরে গাছটি মাত্র কয়েক মাস বেঁচে থাকবেগাছের কাণ্ডে লম্বালম্বিভাবে পাতাগুলো শুকিয়ে যাচ্ছেকাণ্ডে ফাটল দেখা দিয়েছেএখন ফাটল আরো বাড়ছেফুল থেকে বীজ হয়ে পেকে পরবর্তী বংশধর তৈরি করেই এটি পৃথিবী থেকে বিদায় নেবেতবে বীজগুলো সংরক্ষণ করা হবেএরপর বোটানিক্যাল গার্ডেনে পাঠিয়ে দেয়া হবেইতোমধ্যে নার্সারিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছেতিনি জানান, গাছটি নরেন্দ্রনারায়ণের নিজের লাগানোএর চারা বিদেশ থেকে আনা১৯৩৮-৪০ সালের মধ্যে এটি বোনা হলেও গাছটির বয়স হবে ৭০ বছরএর বৃদ্ধি ও উচ্চতা দেখেও তাই মনে হয়আমাদের দেশের নারিকেল ও সুপারিগাছের উচ্চতা দেখেও এভাবে বয়স অনুমান করা যায়

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পামগাছটি অত্যন্ত দৃঢ়তালগাছের মতো চেরাই করে এর খুঁটি বানালে দীর্ঘস্থায়ী হয়এমনকি মাটিতেও সমান শক্তিমান; ঘরের বরগা ও কড়ি হয়সাগুতাল বা মচ্ছপুচ্ছ পাম (ক্যরিওটা ওরেনস), বোতল পাম বা পর্বত মহিমা (রসস্টোনিয়া রিজিয়া), তাল, নারিকেল প্রভৃতি একই পরিবারের (পামে) গাছের মতো দুর্দান্তবলধার দুটি অংশ সিবেলি ও সাইকি১৯৩৬ সালে ২৭ বছরের যত্নে সাইকির নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়১৯৩৮ সালে সিবেলি নির্মাণ শুরু হয়ওয়ারীর নবাব স্ট্রিটের শেষ প্রান্তে দক্ষিণের অংশের নাম সাইকিসিবিলি তারই মুখোমুখি নবাব স্ট্রিটের উত্তর দিকে অবস্থিতসিবিলির উত্তর দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ প্রাচীন রেললাইন; বর্তমানে সেটি রাস্তা হয়ে গেছেতার উত্তরে ২০০ গজের মধ্যে বঙ্গভবনের দক্ষিণের সীমানা দেয়ালসিবেলির উত্তর সীমানা দেয়ালের পাশে বাগানের আদি গাছ পাম (করিফা এলাটা) গাছে ফুল ফুটেছেপ্রকৃতিপ্রেমিক নরেন্দ্রনারায়ণ সিবেলির জমি ক্রয় করেন শঙ্খনিধি পরিবারের ব্যবসায়ী লালমোহন সাহার কাছ থেকেএটি সাহা পরিবারের বাগানবাড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হতোএ সময়ও শঙ্খনিধি পুকুরটি ছিল বর্তমানের মতো ধাপে ধাপে বাঁধানো পাড়এতে পুকুরের পাড়ের মাটির সঙ্গে পুকুরের জলজ প্রাণীর পরিবেশ ভারসাম্য বজায় থাকেএ বাগানবাড়ির বিখ্যাত সূর্যঘড়িটি (সান ডায়াল) সাহা পরিবারের তৈরিবলধার তত্ত্বাবধায়ক রুহূল আমিন জানান, জমিদার পুকুরের সঙ্গে সূর্যঘড়িটি কিনে নেনএছাড়াও জমিদারের কেনার সময় এখানে দুটি বিখ্যাত গাছ ছিল-একটি দেশি বাদাম (টারমিনালিয়া কাটাপ্পা), অন্যটি দেশি খেজুর (ফিনিক্স সিলভেসট্রিস)বর্তমানে এগুলো নেইতবে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে এটিই একমাত্র সুগার পাম

বলধা ও রমনা পার্কে গভীর নলকূপ বসানো হয়েছেসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাগানের জন্য এটি ক্ষতিকরএখান থেকে পানি তুলে পার্শ্ববর্তী এলাকায়ও পানি সরবরাহ করা হচ্ছেপ্রকৃতিপ্রেমিরা ছোট অগভীর নলকূপ বসিয়ে শুধু বাগানে পানি সরবরাহ করার দাবি করেছেনবলধার দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে উঁচু ইমারতও বাগানের পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেসিবেলিতে দর্শক ঢোকার ব্যাপারে আরো কড়াকড়ি করা দরকার বলেও মত দিয়েছেন তারা

জানা গেছে, বলধার মতো ব্যক্তি উদ্যোগে আরেকটি ঐতিহাসিক বাগান ছিল জামালপুরের ঈশ্বরচন্দ্র গুহের চৈতন্য নার্সারী, যা বলধার আগে ১৮৯৪ সালে শুরু হয়কিন্তু কাজ আরম্ভ হয় তারও ১০ বছর আগেআর এটিও সারা পৃথিবী থেকে চারা সংগ্রহের মাধ্যমে গড়ে ওঠেবলধার নরেন্দ্রনারায়ণ এবং জামালপুরের ঈশ্বরচন্দ্র গুহ শখ করে বাগান করেনএখান থেকে পামগাছ এনে ভিক্টোরিয়া পার্ক বা বাহাদুর শাহ পার্কে ১৯০৫ সালে বোনা হয়

সূত্র: আমার দেশ, ২৪ এপ্রিল, ২০০৮


Read more »

May 10, 2008

হারিয়ে যাচ্ছে উল্লুক: দুই দশকে তিন হাজার থেকে কমে ৩০০

মঈনুল হক চৌধুরী
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

ঢাকা, এপ্রিল ৩০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- দেশের ১০ প্রজাতির বানরের মধ্যে ৮টিই কোনো না কোনোভাবে হুমকির সম্মুখীন। এদের মধ্যে সবচেয়ে বিপন্ন উল্লুক। আকার, আকৃতি ও আচরণের কারণে সহজে দৃষ্টি কাড়ে গোরিলা কিংবা শিম্পাঞ্জির মতো দেখতে লেজহীন এই উল্লুক। তবে আশঙ্কার বিষয়- উপযুক্ত আশ্রয় ও খাদ্যাভাবে বাংলাদেশে মহাবিপন্ন প্রজাতির তালিকায় থাকা উল্লুকের টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। গত দুই দশকে এর সংখ্যা তিন হাজার থেকে কমে নেমে এসেছে ৩০০-এ।

বন্যপ্রাণীবিদদের মতে, বিশ্বব্যাপী বিপন্নপ্রায় উল্লুক বাংলাদেশে মহাবিপন্ন প্রজাতি হিসাবে চিহ্নিত। ক্রমশ এদের আবাসস্থল বিলুপ্ত হয়ে পড়ায় বানরপ্রজাতির মধ্যে সবগুলোই কোনো না কোনোভাবে হুমকির সম্মুখীন।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী ট্রাস্ট (ডব্লিউটিবি)- এর নির্বাহী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটককমকে জানান, গত ২০ বছরে বাংলাদেশের উল্লুকের সংখ্যা তিন হাজার থেকে কমে ৩০০-এ নেমে এসেছে।

ডব্লিউটিবি এর তথ্যমতে, বাংলাদেশেরর উত্তর-পূর্ব (বৃহত্তর সিলেট) ও দক্ষিণ-পূর্ব (চট্টগ্রাম-পার্বত্য চট্টগ্রাম) এলাকার বন ছাড়াও ভারত (উত্তর-পূর্বাংশ), মিয়ানমার (পশ্চিমাংশ) এবং চীনে উল্লুক দেখা যায়। উল্লুক প্রামেটস্ গ্র"পের একটি হলো লেজার এপ, অন্যটি গ্রেটার এপ। আর এই গ্রেটার এপ-এর আওতায় রয়েছে শিম্পাঞ্জি, গরিলা, ওরাং।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বনাঞ্চল ধ্বংসের সঙ্গে সঙ্গে বন্যপ্রাণীর বড় অংশই বিলুপ্তির পথে। খাদ্য ও আশ্রয়ের জন্য উল্লুক সম্পূর্ণভাবে বৃক্ষের উপর নির্ভরশীল। উল্লুক যে বনভূমিতে বাস করে তার কোনো অংশ বৃক্ষহীন হয়ে পড়লেই এদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়।

অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, বন স�প্রসারণে বৃক্ষচারী উল্লুকের ভূমিকা অপরিসীম।

বাংলাদেশে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান উল্লুকের অন্যতম আবাস। এছাড়া সিলেটের বড়লেখা, লাঠিটিলা, সাগরনাল, গাজীপুর টি স্টেট, চাউতলি, আদমপুর, হরিণছড়া, রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের দিঘিনালা, বাঘাইছড়ি (সাজেক, শিজক), পাবলাখালী অভয়ারণ্য, করেরখাট, হাজারিখিল অভয়ারণ্য, বাইশারি, ব্যাঙডোবা, কর্ণফুলী, রামপাহাড় (কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান), রামু, থানচি, সাতঘর, ফাসিয়াখালী, দোপাছড়ি, সাঙ্গু, আলিকদম, রাজঘাট, ভোমারিয়াঘোনা, হিমছড়ি জাতীয় উদ্যান, ইনানি, উখিয়া (থানখালি), টেকনাফ ও আপার রিজু এলাকায় উল্লুক দেখা যায়।

বাংলাদেশে টিকে থাকা উল্লুকের মধ্যে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রায় অর্ধশত এবং কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে ৮০-৯০টি উল্লুক রয়েছে বলেও জানান আনোয়ারুল ইসলাম। তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী কোম্পানি শেভরন ত্রিমাত্রিক ভূতাত্ত্বিক জরিপ কাজ শুরু করায় সেখানকার জীববৈচিত্রে অচিরেই এর প্রভাব পড়বে বলেও মনে করেন তিনি।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব কনজারভেশন নেচার (আইইউসিএন)-এর আবাসিক প্রতিনিধি ড. আইনুন নিশাত বলেন, "আবাসস্থল ধ্বংস ও খাদ্যাভাবে প্রায় সব রকম বন্যপ্রাণীর জীবন এখন হুমকির মুখে। বেশ কিছু দুর্লভ প্রাণী ও বিপন্ন প্রজাতির আবাসস্থল হিসাবে সংরক্ষিত বনকে বিরক্ত না করলেই ভলো।"
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)-এর চেয়ারম্যান আবু নাসের খান জানান, তিন হাজার চার শ' একর আয়তনের লাউয়াছড়া সংরক্ষিত জাতীয় উদ্যানে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, চার শ' প্রজাতির জীবজন্তু রয়েছে। এরমধ্যে ২৪৩ প্রজাতির পাখি, ১০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী ও উভচর প্রাণী, ১৭ প্রজাতির পোকামাকড়।

পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে �প্রতি প্রকাশিত দেশের 'পরিবেশচিত্রে' বলা হয়, বাংলাদেশে বিদ্যমান ১০ হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ, প্রাণী ও অনুজীবের মধ্যে বেশিরভাগই হুমকির সম্মুখীন।

ডব্লিউটিবি এর তথ্যমতে, দেশের প্রায় সোয়া ৯ শ' প্রজাতির বন্যপ্রাণীর মধ্যে দেড় শ' প্রজাতিই বিলুপ্তির পথে। স্তন্যপায়ী, পাখি, উভচর ও সরীসৃপ প্রজাতির এসব বন্যপ্রাণীর বেশিরভাগ এখন অতিবিপন্ন, বিপন্ন ও ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায়। এছাড়া প্রায় আড়াই শ' প্রজাতির বন্যপ্রাণীর সঠিক অবস্থান সম্পর্কে রয়েছে যথার্থ তথ্যপ্রমাণের অভাব।

গবেষণায় পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, দেশের ১০ প্রজাতির বানরের মধ্যে ৮ প্রজাতি কোনো না কোনোভাবে হুমকির মুখে। অন্য সব বন্যপ্রাণীর মধ্যে উল্লুকের আকার, আকৃতি ও আচরণে বেশ উন্নত হওয়ায় সহজে মানুষের দৃষ্টি কাড়ে গোরিলা, শিম্পাঞ্জির মতো দেখতে লেজহীন এই উল্লুক। খাদ্যের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ফল ও ডুমুর খায় উল্লুক। তবে কচিপাতা, ফুল, পোকামাকড়ও এদের অনেক প্রিয়। সকালের দিকে হা-হু শব্দ করে দলগত অবস্থান জানান দেয় এরা। বাচ্চা দেয় দুই তিন বছর পরপর। শীত ঋতুতে। বাচ্চা উল্লুকের রঙ দুধের মতো সাদা। ছয় মাসের মধ্যেই রঙ বদলে হয়ে যায় কালো। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে (৬/৭ বছর) পুরুষ কালোই থেকে যায়। আর স্ত্রী উল্লুক হলুদাভ বর্ণ ধারণ করে।

অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, "উল্লুকের আবাসভূমি রক্ষায় জাতীয় উল্লুক সংরক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন জরুরি। তাছাড়া সংরক্ষিত এলাকায় বন্যপ্রাণী ধরা, মারা, শিকার করা বা শিকারের চেষ্টা করাও দণ্ডনীয় অপরাধ- এ ব্যাপারে জন সচেতনতা বাড়াতে পদক্ষেপ নিতে হবে।"

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমএইচসি/এএল/এমএ/১৮৫৮ ঘ.
Read more »

March 1, 2008

নারিকেল জিঞ্জিরা - পর্ব ২

মুনতাসির মামুন ইমরান

পরদিন সকালে বেরুলাম জরীপ কাজে৷ মূল উদ্দেশ্য শাহপুরি থেকে শুরু হলে আমাদের সাতার সেন্ট মার্টিনের কোথায় শেষ হবে তা ঠিক করা৷ বেশ কঠিন কাজ৷ স্রোত দেখা, গভীরতা মাপা, এটা সেটা কত কি৷ সারা বেলা গেল এই করতেই৷ বিকালে গ্রিল ফিসের সাথে ক্যাম্প ফায়ার৷ আতিক ভাইয়ের ওসিয়ানিক স্কুবা ডাইভিং স্কুলের উঠান তখন ভরপুর৷ এনজেল ডাস্ট এর সাজ্জাদ ভাই, ইকো টুরস্ এর রাকা ভাই, কাশেম মাষ্টার সাহেব, মেম্বার সাহেবেরা আরও কত জন৷ বিশাল এক আয়োজন৷ রান্নার আয়োজক ফারুখ ভাই৷ দৈনিক জনকন্ঠের মাধ্যমে অনেকেই তার রেসিপি পেয়েছেন হয়তো বা৷ রাত ১০টা পর্যন্ত চলল আনন্দ ঘন্টা৷

পরদিন সকালে আতিক ভাইয়ের সাথে সবাই নামলাম সাগরে৷ বিশাল সাগরের উত্তাল জলরাশি কিছুটা কান্ত এই শীতে তাতে কি বাকিটা যা আছে তাও কম কিসে৷ চলল দাপাদাপি৷ সবাই একসাথে৷ বিশাল আকার ধারন করল যখন ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা যোগ দিল মিছিলে৷ মহাসমুদ্রের পারে জলত্‍সব৷ এর মাঝে যোগ হল হামিদ ভাইয়ের র্যাফ্ট বোটে মেয়েদের আনন্দ ভ্রমন৷ কেউ সাঁতরে কেউ নৌকায় কেউবা লাইফ জ্যকেটের ভরসায়৷ এর মাঝে ফারক ভাই নামলেন গ্যাস ডাইভিং এ৷ যথেষ্ট আনন্দ উপভোগ করে আমরা গেলাম আসল কাজে৷ পার ধরে বোটে নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকলাম ছেড়া দ্বীপের দিকে৷ আমি হামিদ ভাই Sonrkeling করে আর বোটে রিমন, জাহাঙ্গির আর সেলিম ভাই৷ সাগরে সাতার কাটছি৷ একটু অন্যরকম৷ প্রথম দিনে হিসেবে ভাই হলো৷ প্রায় ৪ কিলোমিটার৷ দুপুর হয়ে গেছে৷ ফেরার পালা এবার৷ সমস্যা দেখা দিল তখনই৷ এতোনতো আশা হয়েছে স্রোতের দিকে আর এবার বিপরিতে৷ বোটে তখন ৪ জন৷ একজনকে আগেই নামিয়ে দেয়া হয়েছে৷ তাও কিছুটা যাওয়ার পরই হামিদ ভাই আর সেলিম ভাই নেমে গেলেন৷ প্রায় ১ ঘন্টা অনন্ত চেষ্টা করার পর কিছুটা এগুতে পারলাম৷ এর পর ডাইভ ট্যাঙ্ক কাধে নিয়ে নেমে এলাম৷ মাথার উপর রোদ আর পায়ের নিচে আগুনে গরম বালি৷ অস্থির অবস্থা৷ যখন পৌছলাম আমাদের বেইজ ক্যাম্পে তখন শরীরে শক্তির শেষ রিন্দুটা বাকি বোধ হয়৷ গিয়ার গুলো থেকে লবণ পানি পরিস্কার করে শুকাতে দেয়ার পর নিজের গোসল সেরে খাওয়া দাওয়া৷ তাও ভাল ফারুখ ভাই ছিলেন৷ তাই আলিশান খাওয়া হচ্ছিল বেশ৷ বিকালটা তো কখন গেল বুঝতেই পারলাম না৷ সূর্যাস্থ দেখলাম৷ রাত হলে শুধুই আড্ডা আর আড্ডা৷ পরদিনের পরিকল্পনা করা হলো রাতের খাওয়ার পর৷

সকালের নাস্তা সেরে দল মিলে বেরুলাম৷ আজ সরাসরি চলে গেলাম ছেড়া দ্বীপে, হেটে৷ পথের মাঝেই আমরা না না ধরনের কোরাল দেখতে পেলাম৷ যদিও কোনটাই আর বেচে নেই৷ পানিতে নেমে গেলাম৷ নানা ধরনের নানা বর্ণের কোরাল দেখতে পেলাম, দেখলাম মাছ৷ আমার বাসার একুরিয়ামটা আমার প্রথম দিকে খুব ভাল লাগত৷ কিন্তু এখন আর তেমন না৷ কারন একুরিয়াম খুবই সীমাবন্ধ এক জলাধার৷ কিন্তু এখন আমি যেখানে তা আমার বাসার একুরিয়ামের চেয়ে তো কম নয়ই বরং বিশাল৷ এত মাছ আর কত যে রং৷ অবাক হতে হয় বিশ্ময়কর এই জগত দেখার সৌভাগ্য হয়তো অনেকেরই হয়নি৷ নারিকেল জিনজিরার সৌন্দর্য্য অবাক করা, কোন সন্দেহ নাই৷ কিন্তু এর পানির নিচের অবসথা আরও রোমঞ্চকর৷ আরও সুন্দর৷ সেন্ট মার্টিন কে কেন কোরাল দ্বীপ বলা হয় তা এবার বুঝতে পারলাম৷ হরেক রকমের কোরাল তার প্রকৃষ্ট উদাহরন৷ এখন প্রশ্ন আসতে পারে সেন্ট মার্টিন কে কেন কোরাল আইলেন্ড বলা হয়৷ মুলত এখানে শক্ত এবং কেরালাইন লাইমষ্টোন দেখাতে পাওয়া যায়৷ এগুলোই কোরার কাস্টার হিসেবে পরিবর্তিত হয়ে যায় পরবর্তীকালে। আর সেন্ট মার্টিন এ প্রচুর পরিমানে কোরালের উপস্তিতিই এ দ্বীপকে 'কোরাল দ্বীপ' বলতে বাধ্য করে, যদিও প্রথম দিকে এর কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ছিল না৷ কিন্তু ১৯৮৫ সালে নারিকেল জিনজিরা কে জাতীয় মেরিন পার্ক হিসেবে প্রস্তাব করা হয় কোরাল রিফের উপস্থিতির কারনে৷ (খান, ১৯৮৫; আনোয়ার,১৯৮৮)

কোরাল রীফ বলতে আমরা হামেশাই বুঝে ফেলি রং বেরং এর পাথরের আশে পাশে সুন্দর সুন্দর মাছ আর ক্রিস্টাল কিয়ার পানি৷ উপর থেকে তাকালে যেন তলদেশ দেখা যায় (!)৷ ভ্রান্ত ধারনা ছাড়া এটা কিছুই না৷ আসলে কোরাল রীফে সৃষ্টির মূলে রয়েছে নানাবিধ জটিল প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া৷ Boitic এবং Abiotic এর ক্রিয়ার মাধ্যমে Calcification, Cementation, Consolidation, Wind, Sea level fluctuation, Current ইত্যাদির নানা ধাপ অতিক্রম করে তৈরি হয় বিভিন্ন আকারের রীফ৷ স্যার চালর্স ডারউন কোরাল রীফ কে তিন ভাগে ভাগ করেছেন, fringing reefs, barrier reefs, Atolls ।

ডারউনের ধারনা অনুযায়ী fringing reefs গুলো সবচেয়ে কম সময়ে তৈরী হয় এবং মূল ভূ খন্ড বা উচু জমির সাথে কোন না কোন ভাবে যুক্ত থাকে৷ কিন্তু অন্যদিকে barrier reefs, Atolls গুলো কিছুটা বেশি সময় নিয়ে তৈরি হয়ে থাকে৷ fringing reefs ধরনের রীফ গুলোকেই উষ্ণ মন্ডলীয় সাগর এবং উপসাগরে বেশি দেখতে পাওয়া যায়৷ সাধারন পর্যটকদের আর্কষন হয়ে দাড়ায় এরাই৷ স্কুবা ডাইভারদের আনন্দের মূল উপাদান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে খুব দ্রুত৷ নারিকেল জিনজিরার আশে পাশে অল্প গভীর জলে এধরনের কোরাল দেখা যায় প্রচুর৷ দ্বীপের উত্তর পশ্চিমে এবং দনি পূর্বে বেশ কিছু লেগুন দেখা গেলেও তারা বেরিয়ার রীফের মত মোটেও গভীর নয়৷ এধরনের লেগুন বা খাড়িতে পাওয়া যায় প্রচুর মাছ৷ নদী মাতৃক এদেশে বিদেশী অনেক খেলা প্রচলিত থাকলেও জল কেন্দ্রিক কোন জনপ্রিয় খেলা আছে কিনা আমার জানা নেই৷ থাকলেও ঐ একটাই, নৌকা বাইচ৷ কিন্তু প্রচুর লোকবল দরকার সেখানেও৷ সে হিসেবে water ski, bording, snorkeling, scuba diving ইত্যাদি হতে পারে নারিকেল জিনজিরার অন্যতম আকর্ষনীয় বিনোদন মাধ্যম৷ এধরনের স্পোর্টসের জন্য খুব বেশি পয়সাকড়ি কিংবা লোক বলের প্রয়োজন হয় না৷ তাও ভাল এবারে দেখে এলাম আতিক ভাইয়ের সাহসী উদ্দোগ৷ ব্যবসায়ীক চিন্তা ধারায় তৈরী হলেও প্রসংশার দাবীদার এক বাক্যে৷ পানির নিচের আলাদা জগত্‍টা আমাদের কাছে হয়তো কোন দিনও পরিচিত হত না, ওশিয়ানিক স্কুবা ডাইভিং সার্ভিস এর কল্যানে তাও এখন কিছুটা সম্বব৷

অর্থকরী খরচ করে প্রবাল দ্বীপে যাওয়ার পরে প্রবাল না দেখাটা বোধ করি অন্যায়৷ বিচারে কার সৌন্দর্য বেশি তা আমি বলতে পারব না কিন্তু এটা ঠিক সাগরের নিচটা অসাধারন৷ এর জন্য নিজ থেকে দরকার শারীরীক যোগ্যতা আর সাতার জানা৷ দ্বীপের চারপাশের প্রায় সব জায়গাতেই দেখা যায় হরেক রকমের মাছ৷ আছে জলজ উদ্বিদ আর প্রবাল৷ আর এসব দেখার জন্য মাঝ দরিয়ায় ঝাপ দেয়ার কোন দরকার নাই৷ তীরবর্তী ১০ থেকে ১৫ ফুট গভীরতার মধ্যেই দেখা যাবে এত কিছু৷ এধরনের অল্প গভীর পানিতে থাকে ভাল সূর্যে আলো আর তাই পরিবেশ হয়ে ওঠে আরও দর্শনীয়৷ ভাগ্য ভাল থাকলে দেখা যাবে হাজার হাজার মাছের ঝাক৷ বিলাশ লম্বা মাছের ঝাকের মধ্যে কখন যে ঢুকে পরবেন তা বোঝাও যাবে না৷ আরও কিছুন ধর্য্য ধরলে পাওয়া যাবে বড় মাছের দেখা৷ কারন ছোট মাছ গুলোকে তারা করে নিয়ে চলে বড় মাছ৷ তাই হঠাত্‍ই হতো সামনে চলে আসবে বড় কিছু৷ ভয় পাওয়ার দরকার নাই৷ খুবই নিরিহ এরা৷

প্রবাল গুলোকে কাছ থেকে দেখতে প্রথমে অবশ্যই ভয়ঙ্কর মনে হতে পারে৷ কেমন যেন একটা পরিবেশ৷ একে তো একেবারে অপরিচিত তার উপর বিদঘুটে অবয়ব কোন কোনটার৷ কোটার রং উজ্বল সবুজ আবার কোনটা লালচে ধরনের৷ মৌমাছির চাকের মত দেখতে এক ধরনের প্রবাল৷ তাদের নামও হানিকম্ব৷ এটার নাম ব্রেন কেরাল, উপর থেকে দেখতে অবশ্যই মগজের মতই মনে হয়৷ হালকা বাদামীর মাঝে কিছুটা সবুজে অংশ এটাকে আরও খানিকটা ভয়ংকর করে তোলে৷ কিন্তু কিছুটা সময় এদের মাঝে সাতার কাটলেই বোঝা যাবে এরা কতটা নিরীহ৷ মূলত মাছের খাদ্য হিসেবে এরা ব্যবহৃত হয়৷ সমস্য হলো অন্যখানে, প্রবাল গুলোতে থাকে মারাত্নক ধার৷ একটু অসতর্ক হলেই আর রা নেই৷ দূঘর্টনা হতে বাধ্য৷ সেলিম ভাইয়ের পায়ে যে পরিমান কেটে গিয়েছিল তাদেখে আমরা বেশ ভয়ই পেয়ে গিয়েছিলাম৷ অন্য অবস্থায় হলে আমরা অবশ্যই হাসপাতালে যেতাম৷ কিন্তু এই উন্মুক্ত প্রান্তরে কেন জানি কেউই তারাহুরো দেখালাম না৷ মনে হয় সবাই জানতাম, এখানে এটা এমনি ঠিক হয়ে যাবে৷ ডাইভ বোট থেকে নামার সময় খেয়াল না করায় তার এই অবস্থা৷ ফার্ষ্ট এইড দেয়া হলো৷ কিছুটা রা৷ আমাদের নিজেদের অভিজ্ঞতা মতে দ্বীপের প্রায় সব জায়গায় স্কুবা বা স্নর্কলিং করা গেলেও ছেড়া দ্বীপ এবং এর আশ পাশের জায়গা গুলো প্রায় স্বর্গ ৷ উচু নিচু কেরাল আর পাথরের জন্য মাছ ধরাটা এখানে কিছুটা কম৷ উত্তর পূর্বে সবচেয়ে বেশি সুন্দর৷ এখানে স্কুবা করা যাবে প্রায় অনেক খানি জায়গায়৷ আর যদি আরও খানিকটা বহি সমুদ্রে যাওয়া যায় তবে দেখা যাবে সার্কদের৷ এটা অবশ্য আমার কথা না, বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর কয়েকজন ডাইভারের সঙ্গে দেখা হয়ে যাওয়াতে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম৷ হামিদ ভাইও তাই বলেন৷ হয়তোবা কোন একদিন জাতীয় কোন জনপ্রিয় দৈনিকে দেখা যাবে "Guaranteed dive with hammer head Shark" নামের বিজ্ঞাপণ৷ এটা অসম্ভব নয়, শুধু দরকার উদ্যোগ৷ আমরা সবাই যাব ঢাকা থেকে, সারা দেশ থেকে৷ অবাক করা সৌন্দর্য শহর নারিকেল জিনজিরায় আর সাগর তলের দেখা আলোর না দেখা রুপ দেখতে৷ উত্তর পাড়ার বাম পাশটায় দেখা যাবে বেশ কয়েকটা লেগুন৷ ভাটার সময় হাটু পানি৷ আর জোয়ারে বুক৷ বিদেশি বইতে পাওয়া লেগুনের শোভা দেখতে পাওয়া যাবে চোখের সামনে৷ কিছুন ধৈর্য্য আর একটু খেয়াল করলে এমনিতেই দেখা যাবে ঝাক ঝাক মাছ ৷ আর যদি কিছু বিস্কিটের গুড়ো নিয়ে যাওয়া যায় তবে তো আর কথাই নাই৷ সময় হারিয়ে যাবে সমুদ্রের কাছে৷ এখানে একটা কথা বলে রাখা উচিত, খালি পায়ে কোন অবস্থাতেই কোরাল কিংবা তীরে হাটা উচিত না৷ এতে করে পাদুকা জোড়া ভিজে নষ্ট হওয়ার ভয় থাকলেও পায়ের যত্ন আগে নেয়া উচিত, নয়তো সারা ট্রিপই ভন্ডুল৷ চলতে থাকল আমাদের অভিযান, সারা দিন, সারা বেলা, সেই সকাল থেকে বিকাল অবদি কান্তি এলেও হামিদ ভাইয়ের কাছ থেকে ছাড় পাওয়া যেত না৷ আনডার ওয়াটার ফটোগ্রাফি করার সময় তো জান যায় যায়৷ আমার ৩ মি মি পুরু ডাইভ স্যুটটায় ঠান্ডা মানত না ঘন্টা খানেক পর৷ একটার পর একটা ডুবদিয়ে ছবি তোলা৷ তাও মুভমেন্টে ভুল হলে আবার করতে হতো৷ কিছুই করার নাই, শুধু এটাই ভাবি আমি যার সাথে কাজ করছি তার অভিজ্ঞতায় National Geography এর সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা৷ এটা শুধু পাওয়া না যে কারও জন্য ভাগ্য বলা যায়, অন্তত আমার মত কারউ জন্য৷ সমস্যা হলো একদিনে এক রোল ছবির বেশি তোলা যেত না৷ ক্যামেরাটা শুকাতে হত তারপর আবার অন্য আরেকটা রোল৷ পানি থেকে ওঠার পর জেকে বসত ঠান্ডা৷ তাই নিয়েই ছেড়া দ্বীপের মৌসুমি আর সাদ্দামের দোকানে পালা করে চা আর গরম মাছ ভাজা খেতাম৷ দাম একটুও বেশি না৷ বরং মূল বাজারের যে কোন দোকানের চেয়ে বেশ খানিকটা তো কমই৷ তার উপর বাসি খাবার পাওয়ার কোন ভয় নেই৷ বাজারের হোটেল গুলো সাতদিন আগের মাছ আজকের বলে দেধারে চালিয়েদেয়৷ তবে কিছু দোকানের খাবারের কথা না বললেই নয়,উন্মুক্ত সাগরের পারে বসে Angel Dust এর খাবার কারও খারাপ লাগবে বলে মনে হয় না৷ ডেকরেশান এবং অন্যান্য সব কিছুই বেশ আলাদা৷ প্রায়ই আমরা দলবেধে কফি খেতে যেতাম৷ পরন্ত বেলা সূর্যাস্থ দেখা না গেলেও আকাশটা কে ভারি অদ্ভুত লাগত৷ এটাই বা কম কি, এত কম টাকায় এত সুন্দর আকাশ আর কোথায় কেনা যায় ?

রাতের বেলা সেলিম ভাই হঠাত্‍ করেই তাবু থেকে বের হয়ে সবাইকে ডাকাডাকি শুরু করে দিলেন৷ অনেক রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পর আবার ডাকাডাকি কেন, যা হোক শোনা গেল, কিছুন আগে ভূমিকম্প হয়ে গেছে৷ আমি অবশ্য কিছুই বুঝিনি৷ প্রথমটা তো আমরা বিশ্বাসই করিনি৷ কিন্তু সকালে ওস্তাদ( নেভির অবসর প্রাপ্ত কমান্ড ডাইভার শাহনেয়াজ ভাই ) এর কাছেও তাই জানা গেল৷ আর এখানে ভুমিকম্প মোটেও নতুন কোন ঘটনা না৷ আসলে আমরা সবাই ভূমিকম্পের ধ্বংসের ঘটনা কমবেশি জানি৷ কিন্তু এটাবোধ হয় জানি না যে পৃথিবীর আকর্ষনীয় কোরাল রীফ গুলো গড়ে ওঠে ভূমিকম্পন প্রবণ এলাকা গুলো থেকে৷ বাংলাদেশের জন্য এটাই সত্য যে ভূমিকম্প এখানে কোরাল রীফ গড়ে তুলতে কার্যকরী ভাবে সাহায্য করেছে৷ যেমনটা দেখা যায় ইন্দোনেশিয়ায়৷ সেখানে ভূকম্পনের ফলে কোরাল রীফের কলোনি তৈরি হয়েছে অনেক৷,সেদেশের আরকিপেলাগো (Archipelago) পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভূকম্পন প্রবন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত৷ আর এখানেই গড়ে উঠেছে অতুলনীয় সব কোরাল সিসটেম৷ নারিকেল জিনজিরার ক্ষেত্রে ধরা হয় বহু বছর আগে বড় বড় পাথরের বোল্ডার গুলো একসাথে জোড়া লেগেছিল এই কোরাল দিয়ে যা দিয়ে রীফ তৈরি হয়৷ আর হয়তোবা বড় ধরনের কোন ভূকম্পের ফলে বোল্ডার গুলো সরে গেছে মূল ভূমি থেকে৷ যদিও তেমন কোন বড় ধরনের ভূমিকম্পের কথা জানা যায় না৷ তবুও বৈজ্ঞানিক ভাবে এটাই ধারনা করা হয়৷ তবে এতটুকু জানা যায় দ্বীপটির উপরিভাগের খানিকটা নিচেই আছে বড় বড় বোল্ডার, যারা নিজেরা সমান্তরাল ভাবে অবস্তিত৷ অনেকের মতে এই পাথরের গঠনই দ্বীপ তৈরির মূল উপাদান এবং এরা ভূমিকম্পনে না হলেও বড় ধরনের সাইকোনিক ঝড়ের কারনেও এরা মূলভূমি কিংবা সমুদ্রতল থেকে চাপের কারনে জেগে উঠেছে৷ তাই এর উত্‍পত্তি নিয়ে আছে মতভেদ৷ বৃদ্ধ ব্যক্তিদের কাছ থেকে জানা যায় আগে নাকি বার্মা আর এই দ্বীপ ছিল পাশাপাশি৷ নাফ নদীটাই ছিল শুধু এদের মাঝে৷ ধীরে ধীরে দ্বীপ সরে আসে, নাফ নদী চওড়া হতে থাকে৷ তার কারন তারা জানেনা৷ তবে এরসবই পৌরাণিক কাহিনীর মত৷

অনিনন্দ্য সুন্দর এই দ্বীপ আমাদের দেশের গর্ব৷ একটু পরিকল্পনা আর দায়িত্বশীল হস্তপেই বদলে দিতে পারে এর পুরো রুপ৷ বর্তমানে দ্বীপটি বেশ কিছু দিক থেকে হুমকির সামনে৷ টুরিজমের নামে ইটের বদলে প্রবালের ব্যবহার, গ্যাস, তেল, নৌকার বর্জ্য ইত্যাদি যত্রতত্র নিক্ষেপ ৷ নোঙ্গর ফেলার ফলে ভেঙ্গে যাচ্ছে তলদেশের প্রবাল গুলো৷ এত সুন্দর এই দ্বীপে কোন স্থায়ী জেটি নেই, নেই কোন ভাসমান Anchorage System, ভাবতে অবাক লাগে ! ছোট ছোট নৌকা গুলোকে তীরে তোলার সময় হয়ে যাচ্ছে অপুরনীয় ক্ষতি, প্রবাল গুলো যাচেছ ভেঙ্গে৷ তার উপরেও তো আছে প্রবাল সংগ্রহকারীদের দৌরাত্ব৷ আমরা যদি এভাবে হিসেব করি, প্রতি বছর সারা দেশ থেকে ৩০,০০০ পর্যটক যদি এ দ্বীপ থেকে মাত্র একটা করে ছোট প্রবালও নিয়ে যায় তবে অবস্থাটা কি হবে? ভাবা উচিত্‍ সবার৷ সরকারী অফিস কিংবা অন্যন্য স্থানে বাগানের আশেপাশে লেখা থাকে ' ফুল ছিড়বেন না ' ইত্যাদি ইত্যাদি, কিন্তু হায় ! এমন একটা লেখাও চোখে এলনা যে প্রবাল ধ্বংস বা সংগ্রহ থেকে দূরে থাকুন৷ অবস্থার পরিবর্তন না হলে হয়তো নিকট ভবিষতে প্রবাল দ্বীপে পা ভেজানর পানি আর ঢাকা থেকে আমদানি করা সামুদ্রিক মাছ পাওয়া গেলেও প্রবাল আর পাওয়া যাবে না৷ তখন বোধ হয় 'গুলিস্তান' সিনেমা হল বিহীন গুলিস্তানের মতোই প্রবালহীন প্রবাল দ্বীপ হবে আমাদের সেইন্ট মার্টিন্স আইলেন্ড৷।
সূত্র: http://www.nature.com.bd
Read more »

নারিকেল জিঞ্জিরা - পর্ব ১

"টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া" লাইনটি আমাদের সামাজিক, রাজনৈতিক এবং প্রসংগত প্রায় সকল কাজের সাথেই কোন না কোন ভাবে জরিত৷ মূল কারন হিসেবে আমরা বিনা বাধায় বলে ফেলি দেশের সর্ব দনি এবং সর্ব উত্তর প্রান্তের নাম, নানা উপমায়, কথার কথায়৷ কিন্তু টেকনাফ মোটেও আমাদের দেশের শেষ প্রান্ত নয়৷ পৃথিবীর সর্ব বৃহত্‍ ব-দ্বীপের শেষ প্রান্তের নাম 'নারিকেল জিনজিরা' ৷ আজ থেকে প্রায় দেড় শ বছর আগে শুরু হয় বসতি বঙ্গোপসাগরের বুকে ফুলে থাকা ছোট্ট প্রবাল দ্বীপে৷ দ্বীপে শুধু নারিকেল বাগান আর নারিকেল বাগান৷ সে হিসেবেই বোধ হয় নারিকেল জিনজিরা নাম৷ মোটেও অমুলক নয়৷ বরং নাম হিসেবে এটাই বেশি স্বার্থক৷ বাংলা নামটা সবার জানা না থাকলেও সেন্ট মার্টিন নামটা আমরা প্রায় সবাই জানি৷ মুলত ব্রিট্রিশ প্রোভিনশিয়াল সার্ভেয়ারের দেয়া নামানুসারে এর নাম হয় 'সেইন্ট মার্টিন'স আইলেন্ড "৷ দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ৷ একমাত্র প্রাকৃতিক শহর৷

প্রাকৃতিক ভাবে ২০ডিগ্রি ৩৪মিনিট থেকে ২০ ডিগ্রি ৩৯মিনিট উত্তর এবং ৯২ ডিগ্রি ১৮মিনিট থেকে ৯২ ডিগ্রি ২১মিনিট পূর্বে অবস্থিত৷ দ্বীপটি মূলভূমি থেকে ৯ কিমি চওড়া চেনেল দ্বারা আলাদা হয়ে বঙ্গোপসাগরের উত্তর পূর্বে অবস্থিত৷ সাগর বক্ষে থাকলেও এর জলবায়ু নিয়ন্তিত হয় উষ্ণমন্ডলীয় মৌসুমি বায়ু দ্বারা৷ সারা বছরের গড় তাপমাত্রা প্রায় একই রকম থাকে৷ কিন্তু বর্ষা এবং এর সমসাময়িক সময়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত জনিত কারনে দনি পূর্বাঞ্চল তলিয়ে যায়৷ মূলত দনি-পশ্চিমা মৌসুমি বৃষ্টিপাত জুন থেকে জুলাই পর্যন্ত চলে ৷ এ সময় তাপমাত্রা থাকে সবচেয়ে বেশি ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ এছাড়া মোটামুটি বছরের অন্যান্য সময় স্বাভাবিকই বলা যায়৷

এতো গেলো নারিকেল জিনজিরার কিছুটা খতিয়ান৷ কিন্তু সর্ব দক্ষিনের এই প্রবাল গ্রহটি আমাদের যে কোন বয়সী প্রকৃতি প্রেমির ভাল লাগার স্থান৷ বৃহত্তর চট্টগ্রামের কঙ্বাজার জেলার শেষ অংশ এই নারিকেল জিনজিরা ৷ একপেশে নগর কেন্দ্রিক জীবনে অতিষ্ট হয়ে পালাবার উত্‍কৃষ্ট স্থান এই দ্বীপ ৷ ঢাকা থেকে সরাসরি কঙ্বাজার কিংবা চট্টগ্রাম থেকেও যাওয়া যায় টেকনাফে৷ নাফ নদীর কোলে ছোট্ট এক শহরের নাম টেকনাফ ৷ বানিজ্যিক ভাবে এই স্থান আন্তর্জাতিক বন্দর হতে পারে পাশ্ববতীদেশ মায়ানমারের নিকটবর্তী বলে। লম্বা যাত্রায় কান্ত হয়ে নাফ নদীর সৌন্দর্য প্রথমটা কিছুটা হোচট খাওয়ার মত৷ ইদানিং কালে সী ট্র্যাক নামক যন্ত্র দানবের নোঙ্গর ফেলার স্থান মূল শহরের কিছুটা বাইরের হওয়াতে অনেকই টেকনাফ শহরেই আর প্রবেশ করে না৷ দেশি নৌকায় যাত্রা তাত্তিক ভাবে নিরাপদ বলে মনে করেন না অনেকেই৷ কিন্তু শত বছরের ব্যবহৃত জেলে নৌকা আজও নিরাপদ বিনা কথায়, শুধু এতটুকু খেয়াল রাখতে হবে তা যেন এমভি সালাউদ্দিনের মত গুদাম না বানান হয়! নৌকায় নাফ নদীর সবুজে পানি যে কারও ভাললাগতে বাধ্য৷ এখানে বলে রাখা ভাল টেকনাফ থেকে নারিকেল জিনজিরার পথটার অনেকটাই কাটে এই নাফ নদীতে৷ একটু ল করলেই দেখা যাবে বাম পাশেই রয়েছে মগের মুল্লুক৷ রূপকথার কামরূপ কামাক্ষা, সর্পবিদ্যা আর জাদুটোনার দেশ বার্মা৷ যদিও এর বর্তমান নাম মায়ানমার৷ একই ধরনের নৌকা আর পোশাক আশাক বুঝতেই দিবে না ওরা এদেশিয় নয়৷ নৌকার মৃদু দুলনিকে আরও খানিকটা আনন্দময় করতে হলে চুপকরে শুয়ে যেতে হবে পাটাতনে ৷ চোখ মেললেই শুধু আকাশ, তখন ভয়ও হারিয়ে যাবে বিশাল আকাশের কাছে৷ এত বড় আকাশ একসাথে দেখার আর কোন উপায় আছে বলে আমার জানা নেই৷ মাঝে মাঝে দেখা যাবে এলবাট্্রস৷ সারেং এর ঠিক মাথার উপর নির্ভয়ে উড়ে চলছে৷ কখনও বা একা আবার কখনওবা এক ঝাক৷ আকাশ রেখে পাখির দিকে মন দিলে হামেশাই সময়টা চলে যাবে বুঝে ওঠার আগেই৷ পাখিগুলো উপরে উঠে কিছুন উড়ার পর ঝপ করে পানিতে দিবে লাফ৷ আবার ভুস করে ভেসে দেবে উড়াল৷ আজব খেলা৷ শিকার আর শিকারীর অংশ গ্রহন৷ এরই মাঝে মনে হবে দুলনি বোধ হয় বাড়িয়ে দিয়েছে কেউ খানিকটা৷ আসলে তখন সারেং তার তরী নিয়ে দরিয়ায়৷ ঢেউ একটু বেশি হলেই কেউ কেউ বলে উঠবে " দইজ্যা গরম, দইজ্যা গরম "৷ যদিও এ অঞ্চলের আধুনিক Oceanographic অবস্থা জানা যায় খুব কম তবুও দেখা যায় সমুদ্রপৃষ্ঠে স্রোতের মূল কারন হলো বাতাস৷ বছরের নভেম্বর-মার্চ অবধি উত্তর-পূর্ব হতে জোড়াল বায়ু প্রবাহিত হয় যা মূলত সাইকোন প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে৷ নারিকেল জিনজিরায় প্রতি দিনে দুবার জোয়ার, দুবার ভাটা আসে৷ শাহপুরি দ্বীপে সমুদ্র স্রোতের গড় উচ্চতা (mean tidal level, ML) ১.৮৭৪ মিটার প্রায়৷ আর সর্বচ্চো Astronomical tide (HAT) রেকর্ড করা হয় ৪.১ মিটার (BIWTA,1996) ৷ যা ভীতিকর কিছুই না৷ তাই " নাই মরতেই ভুত" হওয়ার মানসিকতা ত্যাগ করলে দেশী নৌকার যাত্রা হবে অনেক বেশী রোমাঞ্চকর আর আলাদ স্বাধের৷ দেখতে দেখতে সময় যাবে শেষ হয়ে৷ এক সময় খেয়াল করলেই দেখা যাবে তলদেশ৷ একটু সামনেই স্বপ্নিল " নারিকেল জিনজিরা"৷ আমরা অনেকেই বোধ হয় হলিউডের টাইটানিক খ্যাত অভিনেতা লিওনার্ড ডিকাপ্রিয় অভিনিত “the beach” মুভিটা দেখেছি৷ সামাজিক যাতনা এড়ানর জন্য দূরে কোন একদ্বীপে আশ্রয় খোজে সভ্যরা৷ দূর থেকে আমার কাছে মনে হল এটাই সে স্থান যা দিবে কান্তিহীন আনন্দ আর নির্ভেজাল বায়ু৷ যান্ত্রিকতা এড়ানর জন্য এর চেয়ে আদর্শ আর কিই বা আছে৷ এবার নামর পালা৷ ভাঙ্গা এক জেটিতে ভিড়ল আমাদের নৌকা, এম ভি ফারুক৷ শুরু হলো দ্বীপবাস যাপন৷

দল হিসেবে আমরা বেশ ভারি৷ পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা ৩ টি দলে ভাগ হয়ে গেলাম৷ নিছক ভ্রমন ছিলনা আমাদের উদ্দেশ্য৷ আগামী বছর মূলভু খন্ড টেকনাফের শাহপুরি থেকে সাতার করবে আমাদেরই অনেকে৷ মূলত এটা হবে একটা লম্বা স্নর্কলিং, প্রায় ১১ কিমি৷ তাই আমাদের এই বিশাল দল৷ মূল পরিকল্পনাকারী দলে প্রখ্যাত স্কুবা ডাইভার হামিদ ভাইয়ের সাথে ছিলেন পাখি বিশ্লেষক ইনাম ভাই এবং ফারুখ ভাই৷ তাদের বিশাল পরিকল্পনার মালামাল সামলানর দ্বায়িত্বে ছিলেন মনা৷ দলে ছিলাম আমরা সবচেয়ে বড়৷ ১২ জন৷ নানা বয়সি৷ এ দলের পরিকল্পনা করেন আজিমপুরস্থ "আমাদের পাঠ চক্র" এর দিপু ভাই৷ এর আগে ঢাকা ছেড়ে যাওয়া দলে ছিলেন সেলিম, জাহাঙ্গির আর রবিন ভাই৷ তারা মূলত টেকনাফ এবং শাহপুরি দ্বীপের জরিপ কাজ সম্পন্ন করেন৷ ছেলে বুড়ো সবাই মিলে জমা হলাম আতিক ভাইয়ের Oceanic Scuba Diving Service এ৷ তাবু ফেলা হল৷ প্রথম দিন সবাই একটু কান্তু৷ তাবু খাটার পর শুরু হল রান্নার প্রস্তুতি৷ বাজার সদাই আর কি শুধু মাছ, তাও সামুদ্রীক৷ আমাদের অনেকেরই খাওয়ার অভ্যেস নেই৷ মাছ ধরাই দ্বীপবাসিদের প্রধান জীবিকা৷ মূলত মোট জনগোষ্ঠির ৮০ ভাগ মাছ ধরা এবং এর সাথে কোন না কোন ভাবে জরিত৷ ১৯৯৬ এর এক জরিপে দেখা যায় মোট ১৫৯টি নৌকার মধ্যে জেলে নৌকাই ছিল প্রায় ১৫৩টি৷ বর্তমান পরিস্তিতি কিছুটা অন্যরকম৷ পর্যটন এর জন্য দায়ী৷ আনুপাতিক ভাবে জেলে নৌকা বাড়লেও টুরিষ্ট নৌকা বেড়েছে আরও বেশি৷ এধরনের নৌকার ব্যবহার বছরের অক্টোবরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারীর শেষ পর্যন্ত প্রায়৷ ছেড়া দ্বীপ এবং আশপাশের এলাকায় ভ্রমনই হলো এদের আয়ের প্রধান উত্‍স৷ জেলে দিনের দুই সময়ে মাছ ধরতে যায়৷ এক দল বেশ ভোরে আর আরেক দল বেলা তিনটার দিকে৷ ৬-৭ ঘন্টা চলে মাছ শিকার৷ কিন্তু মাছের পরিমান যাচ্ছে কমে৷ মাছ ব্যবসায়ি জব্বার সাহেবের সাথে কথা বলায় জানা গেল আগে যেখানে মাত্র এক দেড় ঘন্টা নৌকা চালিয়ে যে মাছ পাওয়া যেত এখন তা আর পাওয়া যায় না৷ শুধু যেতেই এখন সময় নেয় ৩-৪ ঘন্টা৷ তারপরও মাছের পরিমান কম৷ এতে করে বাজার দর যাচেছ বেড়ে৷ এই বারেই দেখা গেল মাছ আসছে কঙ্বাজার থেকে৷ হোটেল ব্যবসায়ীরা মাছের চাহিদা মেটানর জন্য বাধ্য হয়ে কিনে আনছেন মাছ৷ নারিকেল জিনজিরা এবং এর আশপাশে আগে প্রচুর লব স্টার এবং চিংড়ি পাওয়া যেত৷ কিন্তু এদের দেখা পাওয়া এখন ভার৷ কারন এরা বাস করে পাথুরে এলাকায়৷ কিন্তু দ্বীপের আশেপাশে বেশখানিকটা এলাকায় এখন প্রবাল পাওয়া ভারি কঠিন৷ সব বিক্রি হয়ে গেছে৷ হাজার বছর ধরে ধীরে ধীরে যে প্রবাল তৈরী করে ছিল সাগর তা দিয়ে তৈরী হল দালান৷ বরই নির্মম৷ মাছ না পাওয়ার অন্যতম প্রধান কারন তাদের বাসস্থানের অভাব৷ তবুও ভাল সচেতনেতা এসেছে এখন৷ তাও বেশ দেরিতে৷ এখন আর দেখা যায়না কোন জেলে ছেনি বাটাল নিয়ে নামছে পানিতে৷ কিছুটা এখনও আছে৷ তাও আশা করি শেষ হয়ে যাবে৷ কাশেম মাষ্টার সাহেবের সাথে কথা বলার সময় তার আপে শোনা গেল৷ আমি বেশ ক দিন তাকে মাঝ বেলায় জেটির কাছে দাড়িয়ে থাকতে দেখেছি৷ এত মানুষ যে এ দ্বীপে আসবে তা তিনি ঠিক বুঝে উঠতে পারেননা৷ প্রথম বাঙ্গালীর মুখে শোনা যায় অনেক কথা৷ মাত্র ক টা ছাপড়া ছিল, ক একটা মানুষ৷ " সেই সেন মার্টিনে আজ এত মানুষ " আমি বুজিনা তারা কি দেখে, সব তো প্রায় শেষ৷
Read more »

February 6, 2008

টালি পাম প্রজাতির শেষ গাছটি ফুল দেয়ার অপেক্ষায়


ঢাকা ইউনিভার্সিটির ফুলার রোডে বৃটিশ কাউন্সিল ভবনের উল্টো দিকে ইউনিভার্সিটির প্রোভিসির বাসভবন। সেখানে রয়েছে নিঃসঙ্গ একটি বৃক্ষ, এ পৃথিবীতে যার কোনো সঙ্গী নেই। মধ্যবয়সী তাল গাছের মতো দেখতে গাছটি। নাম টালি পাম। বৈজ্ঞানিক নাম কোরিফা টালিরিয়া রক্সব।

এ গাছের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি জীবনে একবারই ফুল-ফল দেয়। এ জন্য ৫০ বছরের কাছাকাছি সময় নেয়। ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমানে টালি গাছটির বয়স ৫০ বছরের কাছাকাছি। সে হিসেবে কিছুদিনের মধ্যে গাছটি ফুলে ভরে উঠবে। আর তখনই বীজ সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা যাবে হারিয়ে যেতে বসা এ প্রজাতিটি। গাছটি জীবনে একবারই ফুল দেয় এবং এরপরই মারা যায়।

টিসু কালচারের মাধ্যমেও গাছটি বিলুপ্তির দুয়ার থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে ধারণা করা হতো। বাংলাদেশের উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা করে এমন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, এ প্রজাতিটির টিসু কালচার হয় না।

কোরিফা টালিরিয়া ভারত উপমহাদেশের স্থানীয় প্রজাতি। আগে শ্রী লংকা, সাউথ ইনডিয়াতে এ গাছটি দেখা যেতো। ১৯১৯ সালে বিখ্যাত বৃটিশ উদ্ভিদবিজ্ঞানী ডাবলিউ রক্সবার্গ এ প্রজাতিটি প্রথমবারের মতো বৈজ্ঞানিক উপায়ে তালিকাভুক্ত করেন।

এর আগ পর্যন্ত প্রজাতিটি উদ্ভিদবিজ্ঞানের জগতে অনাবিষ্কৃত ছিল। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এই টালি পাম বৃক্ষটিকে শনাক্ত করেন বিশ্বখ্যাত প্রয়াত উদ্ভিদবিদ, ঢাকা ইউনিভার্সিটির উদ্ভিদবিজ্ঞানের শিক্ষক প্রফেসর ড. আবদুস সালাম। গত শতাব্দীর ৫০ দশকে তিনি এ গাছটি প্রথম দেখতে পান।

কিন্তু গাছটি কোন প্রজাতির তা তিনি শনাক্ত করতে পারেননি। তবে এটি যে বিরল ও দুর্লভ প্রজাতির গাছ, তা তিনি বুঝতে পারেন এবং কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন গাছটি যেন না কেটে ফেলা হয়। মূলত তার একক প্রচেষ্টার ফলেই গাছটিকে প্রোভিসির বাসভবনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

কিছুদিন আগ পর্যন্ত এ প্রজাতিটির আরেকটি গাছ ছিল পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে। এ গাছের ফুল দেখতে খেজুরের ছড়ার মতো। সেখানে যখন ফুল ফোটে তখন গ্রামের মানুষ ধারণা করলো এটি ভূতপ্রেতের কাজ।

ড. শ্যামল কুমার বসু নামে বিখ্যাত এক পাম বিশেষজ্ঞ এ খবর শুনে প্রচ- কৌতূহল বোধ করেন এবং গাছটি দেখতে সেই গ্রামে যান।

তিনি অপার বিস্ময়ে লক্ষ করেন, গ্রামবাসী যাকে তাল গাছ বা খেজুর গাছ বলে ধারণা করছে সেটি আসলে একটি টালি পাম গাছ। ড. বসু এ গাছটি শনাক্ত করার আগ পর্যন্ত ধারণা করা হতো, প্রজাতিটি পৃথিবী থেকে চিরবিলীন হয়ে গেছে।

তিনি গ্রামবাসীকে প্রকৃত বিষয় খুলে বলে অনুরোধ জানান, যাতে গাছটিকে রৰা করা হয়। কিন্তু কিছুদিন পরেই গ্রামবাসী গ্রাম থেকে ‘ভূত তাড়ানোর উদ্দেশ্যে’ গাছটি কেটে ফেলে।

এ ঘটনা ১৯৭৯ সালের। এরপরই বিজ্ঞানীদের বদ্ধমূল ধারণা জন্মে, এ প্রজাতিটি হারিয়ে গেছে বিশ্ব থেকে। ২০০১ সালে সেই শ্যামল বসু বেড়াতে আসেন বাংলাদেশে এবং সৌভাগ্যক্রমে টালি পাম গাছটির সংস্পর্শে আসেন। তিনি জানালেন, এটিই এ প্রজাতিটির পৃথিবীর একমাত্র গাছ। এরপর এ দেশের উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করে জানতে পারেন তার কথা সর্বাংশে সঠিক। বর্তমানে গাছটিকে একটি কংকৃটের দেয়ালের মাধ্যমে ঘিরে রাখা হয়েছে। এটিকে রক্ষা করার জন্য চলছে ব্যাপক প্রচেষ্টা। রাখা হয়েছে একজন মালি, যিনি গাছটি দেখাশোনা করেন।

ইউনিভার্সিটির প্রোভিসি প্রফেসর আ ফ ম ইউসুফ হায়দার বলেন, তিনিও উন্মুখ হয়ে আছেন কখন গাছটি ফুল দেয়।

সূত্র: দৈনিক যায়যায়দিন, ১৮ এপ্রিল ২০০৭
Read more »

বিলুপ্তির মুখে ২০১ প্রজাতি

বন বিভাগের দেয়া পজেশন সার্টিফিকেট ছাড়া বন্যপ্রাণী পালন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অথচ গত ৩৬ বছরে দেশে একবারও অবৈধ মালিকদের কাছ থেকে বন্যপ্রাণী উদ্ধার অভিযান হয়নি। বন বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্র মতে, দেশের বিভিন্ন স্থানে রেসকিউ সেন্টার না থাকায় এতোদিন অভিযান পরিচালনা করা যায়নি।

গত ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারির পর বন বিভাগ ও যৌথ বাহিনীর অভিযানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এ পর্যন্ত ১৯৪টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা প্রাণীগুলোর মধ্যে ১৮৬টিকে ছাড়া হয়েছে কক্সবাজারের দুলাহাজরা সাফারি পার্কে। বাকি আটটিকে ছাড়া হয় সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্র ও শেরপুরের মধুটিলা ইকোপার্কে। এসব প্রাণীর মধ্যে চিত্রা হরিণের সংখ্যা সর্বাধিক ৭৮টি। এছাড়া রয়েছে মায়া হরিণ, সাম্বার হরিণ, হাতি, ভালুক, অজগর সাপ ও কুমিরসহ প্রায় ২২ প্রজাতির প্রাণী। মূলত সৌখিন পলিটিশিয়ান ও ধনী ব্যবসায়ীদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এসব প্রাণী আটক করা হয়। চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন কর্মকর্তার অফিস সূত্রে গতকাল সোমবার এ তথ্য জানা গেছে।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা বন্যপ্রাণী ছেড়ে দেয়া হয়েছে কক্সবাজারের ডুলাহাজরা সাফারি পার্কে -যাযাদি
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী আইন (সংরক্ষণ) (সংশোধন)-১৯৭৪ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বন্যপ্রাণী পালন করতে ইচ্ছুক হলে তাকে বা তাদের বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে নির্ধারিত ফির বিনিময়ে পজেশন সার্টিফিকেট নিতে হয়। চিড়িয়াখানা থেকে প্রাণী কিনতে হলে অথবা কারো কাছ থেকে উপহার পাওয়া প্রাণী লালন-পালন করতেও এ সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়। দেশে বন্যপ্রাণী পালনের জন্য এ পর্যনৱ কয়টি পজেশন সার্টিফিকেট দেয়া হয়েছে তা জানতে ডেপুটি কনজারভেটর অফ ফরেস্ট মিজ শিরিনা বেগমের কাছে ফোন করা হলে তিনি তার কাছে সঠিক পরিসংখ্যান নেই বলে জানান। বন্যপ্রাণী শিকার বা হত্যা করা এবং পজেশন সার্টিফিকেট ছাড়া বন্যপ্রাণী পালন করার অপরাধে ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা জরিমানা অথবা ছয় মাস থেকে এক বছর জেল হতে পারে। পজেশন সার্টিফিকেট ছাড়া বন্যপ্রাণীর চামড়া, শিং ও দাত বাড়িতে রাখা বা মাংস খাওয়াও সমান দন্ডনীয় অপরাধ। তবে গরু, মহিষসহ বিভিন্ন গৃহপালিত প্রাণী এবং কুকুর, বেড়ালের মতো পোষা প্রাণী পালনের ক্ষেত্রে এ আইন প্রযোজ্য নয়।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. তপন কুমার দে গত ৩৬ বছরে কেন বন্যপ্রাণী উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি- তার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, বেশির ভাগ মানুষ জানে না অনুমতি ছাড়া বন্যপ্রাণী পালন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাদের সচেতন করার কার্যকর উদ্যোগও এ পর্যন্ত খুব একটা নেয়া হয়নি। অসচেতন মানুষকে শাস্তি দেয়ার বিষয়টিকে অমানবিক বিবেচনা করেই সম্ভবত বিগত সরকারগুলো উদ্ধার অভিযানের ব্যাপারে আগ্রহী হয়নি। দ্বিতীয়ত মানুষের অবৈধ মালিকানা থেকে উদ্ধার করার পর মামলার আলামত হিসেবে বন্যপ্রাণীকে নিকটবর্তী কোনো রেসকিউ সেন্টারে রাখতে হয়। কিন্তু দেশে কোনো রেসকিউ সেন্টার না থাকায় বন বিভাগের কর্মকর্তারা এতোদিন মানুষের বাসাবাড়িতে বন্যপ্রাণী দেখেও না দেখার ভান করেছেন, উদ্ধার অভিযানে যাননি।

নিজের একটি গবেষণা কর্মের উদ্ধৃতি দিয়ে ড. তপন জানান, দেশে বন্যপ্রাণীর মোট প্রজাতি সংখ্যা ৮৯৫টি। নির্বিচারে হত্যা, শিকার ও বনজঙ্গল উজাড়ের ফলে ইতিমধ্যেই ১৩ প্রজাতির প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এছাড়া মহাবিপন্ন, বিপন্ন ও সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় আছে আরো ২০১ প্রজাতির প্রাণী। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য দেশে ১৮টি অভয়ারণ্য রয়েছে বলে তিনি জানান। ড. তপন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য প্রচলিত আইন আরো কঠোর করা, পর্যাপ্ত সংখ্যক রেসকিউ সেন্টার তৈরি করা এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার জন্য সরকারকে পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী বৃহত্তর ইকলজি ও খাদ্যচক্রের অংশ। একে ধ্বংস করার অর্থ মানব সভ্যতাকে ধ্বংস করা।

সুত্র: দৈনিক যায়যায়দিন, ১৭ এপ্রিল ২০০৭
Read more »

সেন্ট মার্টিনে বিরল সানফিশ


গত ২ এপ্রিল সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে ৫০-৭০ কিমি দূরে জেলেদের জালে বিরল সামুদ্রিক মাছ “সামুদ্রিক সানফিশ” ধরা পড়েছে। এটি “স্লেন্ডার সানফিশ” নামেও পরিচিত। মাছটি অত্যন্ত বিরল এবং বাংলাদেশের জলসীমায় এটি আগে কখোনো দেখা যায়নি। ৬০-৮০ ফুট অগভীর সমুদ্রে ধরা পড়ার পর বয়স্ক জেলেরাও অবাক হয়ে যায়। এটি বর্তমানে কক্সবাজারে নির্মানাধীন পানওয়া বে পার্ক (Panowa Bay Park) যাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে। পার্কের জীববিজ্ঞানী রাগিব উদ্দিন আহমেদ এটি স্লেন্ডার সানফিশ হিসেবে সনাক্ত করেন। পরে তিনি এটি সংরক্ষণের উদ্দ্যোগ নেন।
মলিয়েডি পরিবাবারভূ্ক্ত স্লেন্ডার সানফিশের বিজ্ঞানসম্মত নাম Ranzania laevis. স্লেন্ডার সানফিশ বেশী পাওয়া যায় কোরাল দ্বীপের আশেপাশে। মাছটি কোরাল খেয়েই বেঁচে থাকে। দৈর্ঘে আড়াই ফুট এবং ওজনে প্রায় ৬ কেজি। এদের আছে টিউবের মত মুখ যা কোরাল ও শৈবাল চুষে খেতে সহায়ক। এদের লেজ দেখতে অদ্ভুত যা দেখে মনে হয় কেউ যেন মাঝখান দিয়ে কেটে অর্ধেক করে দিয়েছে।
জনাব রাগিব গত ২০০২ এর অক্টোবরে ইন্দোনেশিয়ার তুলামবেন বালি তে (Tulamben Bali, Indonesia) এই প্রজাতির মাছ দেখেছেন বলে দাবি করেন। তিনি ন্যাশনাল এ্যসোসিয়েশন অফ আন্ডারওয়াটার ইন্সট্রাক্টরস, ইউএসএ লাইসেন্সপ্রাপ্ত একজন স্কুবা ডাইভার। তাঁর মতে অতিমাত্রায় মৎস্য আহরন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কোরাল বিনষ্ট হওয়া, মাছ ধরায় পরিবেশ অবান্ধব পদ্ধতির ব্যবহার ইত্যাদি সমুদ্রের মৎস্য সম্পদ বিশেষত: বিরল প্রজাতির মাছের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: নিসর্গ
Read more »

চট্টগ্রামে বিলুপ্তপ্রায় মদনটাক


চট্টগ্রামের রাউজান থানার ইয়াসিন নগরে গতকাল রবিবার ধরা পড়েছে প্রায় বিলুপ্ত প্রজাতির একটি মদনটাক পাখি। প্রায় ১২ কেজি ওজনের এ পাখিটি এলাকাবাসীর সহায়তায় গতকালই চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় দিয়ে দেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এহসানুল হায়দার চৌধুরী।

চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটির প্রাণীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ড. গাজী আসমত যায়যায়দিনকে জানান, বছরে একবার বর্ষাকালে মদনটাক পাখি ডিম পাড়ে। সম্ভবত এ কারণে পাখিটি লোকালয়ে চলে এসেছিল। মদনটাককে প্রায় বিলুপ্ত প্রজাতির পাখি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, সারা বিশ্বে বর্তমানে এ পাখির সংখ্যা মাত্র পাচ হাজার। তাদের মধ্যে ইনডিয়ার আসামে দুই হাজার, ইন্দোনেশিয়ায় দুই হাজার এবং কম্বোডিয়ায় আছে ৪০০। বাকি ৬০০ মদনটাক ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বাংলাদেশসহ সাউথ ও সাউথ ইস্ট এশিয়ার ১২টি দেশে। এ পাখির বৈজ্ঞানিক নাম লেপটোটিলোস জাভানিকাস (Leptoptilos javanicus)। একটি পরিণত সাইজের মদনটাকের দৈর্ঘ্য ১১০ থেকে ১২০ সেন্টিমিটার। লেপটোটিলোস প্রজাতির আরেকটি পাখি হাড়গিলা (Leptoptilos dubius) ইতিমধ্যেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলে তিনি জানান।

মদনটাকের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ড. গাজী আসমত জানান, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও বিভিন্ন কারণে জলাশয় ও জলাভূমির পরিমাণ দিনের পর দিন কমে যাওয়া, চিংড়ি ঘেরের বিস্তার ইত্যাদি কারণে খাদ্যসংস্থানের ক্ষেত্র কমে যাওয়ায় মদনটাক পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।
Read more »